somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিএনপিকে ক্ষমতায় আনবে বিজেপি?

২০ শে মে, ২০১৪ সকাল ৮:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভারতের নির্বাচনে বিজেপি জিতেছে নাকি বিএনপি- বাংলাদেশে বিএনপি নেতাদের উচ্ছ্বাস দেখে তা বোঝা ভার। বাংলাদেশের সবক’টি পত্রিকায় বিএনপির উল্লাস নিয়ে প্রতিবেদন হয়েছে। সবার আগে অভিনন্দন জানানোর একধরনের শিশুসুলভ তাড়াহুড়োও এড়ায় নি কারো চোখ। শুক্রবার সকাল ১০টায় ভারতীয় হাইকমিশন অফিসের তালা খোলার আগেই বিএনপি দূত খালেদার অভিনন্দন বার্তা নিয়ে সেখানে হাজির!!! এত ক্ষীপ্র অভিনন্দনে তারাও নিশ্চয় অবাক হয়েছেন। ভারত তথা হিন্দুবিরোধী বলে পরিচিত বিএনপি। সেই দলটির ভারতের জাতীয় নির্বাচনে সদ্য বিজয়ী নেতাকে বরণের এতো ত্বড়িৎকর্মের ইতিহাসও এই প্রথম।

মোদীর বিজয়ের পর বিএনপির বগল বাজানোর মতো কী এমন ঘটনা ঘটল সেটা বোঝা উঠতে পারছেন না অনেকেই। বিএনপি কি ভাবছে, মোদী এসে তাদের ক্ষমতার চেয়ারে বসিয়ে দেবে? এমন না ভাবলেও তার কাছাকাছি কিছু একটা ভাবছে এটা যে কেউ বোঝেন। বিএনপির এতো খুশি হওয়ার পেছনে বিজেপির সঙ্গে বিএনপির কোনোকালে বা কস্মিনকালেও কোনো মধুর বা আনন্দিত হওয়ার মতো ঐতিহাসিক কোনো সম্পর্ক ছিল কি-না তা খুঁজতে গিয়ে পাওয়া যাচ্ছে না। ‘অদ্ভুত সব মিল’ টাইপের চটি বইয়ে কেনেডি ও লিঙ্কনের জীবনের মতো সঙ্গে বিজেপির কিছু বিষয়ে মিল খুঁজে বের করা যায়।

ইতিহাসে ঘেঁটে দেখা যায়, মুসলিমলীগকে প্রতিরোধের লক্ষ্যে হিন্দুবাদী কিছু নেতা ১৯১৫ সালে 'হিন্দু মহাসভা' নামে একটি দল সৃষ্টি করেন। হিন্দু মহাসভাই পরে ১৯৮০ সালে হয় বিজেপি।

মহাসভার স্বনামে পরিচিত এক কর্মী নাথুরাম গডসের হাতে ১৯৪৮ সালে মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যুর পর এই হিন্দু মহাসভার বিনাশ ঘটে। এরপরই মহাসভার নেতারা নাম পাল্টে ১৯৫১ সালে 'ভারতীয় জনসঙ্ঘ' নামে নতুন দল তৈরি করেন । ভারতীয় জনসঙ্ঘ ১৯৮০ সালে হয় ভারতীয় জনতা পার্টি। বিএনপির সঙ্গে এখানেই মিল বিজেপির। বিএনপিও একাত্তরের পর বাংলাদেশে অবাঞ্ছিত দল মুসলিম লীগের কর্মীদের দ্বারা সংগঠিত এবং মুসলিম লীগের উত্তরসূরি। দু’টি দলই এন্টি-সেকুলার, ধর্মনিরপেক্ষবিরোধী। দু’দলেরই সৃষ্টি সমসাময়িক সময়ে। দু’দলই জাতির জনক হত্যার উসকানিতে অভিযুক্ত। এছাড়া দু’দলের ঐতিহাসিক কোনো সম্পর্ক টানা অসম্ভব।

তবু মোদীর জয়ে বিএনপি একটি অসম্ভব সুখস্বপ্নে বিভোর। হাসিনা সরকারকে উৎখাত করা সময়ের ব্যাপার। এবার বিএনপিও ক্ষমতায় আসবে। বিএনপির আনন্দ চোখে মুখে উপচে পড়ছে। আনন্দ দেখে কেউ মন্তব্য করতে পারেন, বিশ্বের সর্ববৃহৎ গনতান্ত্রিক এ দেশের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে বিএনপির কোনো ধারণা নেই বোধহয়। কেননা ভারতে সরকার পাল্টালেও তাদের বিদেশনীতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয় বলে দেখা যায় না। এছাড়া কাঠামোগতভাবে শৃঙ্খলে প্রধানমন্ত্রী যা ইচ্ছে তা-ই করতে পারেন না। সেটা যদি হয়ও, তবে আওয়ামী লীগের বাংলাদেশের জন্য একটু বেশি দুশ্চিন্তার। অবৈধ বাংলাদেশি ইস্যু, ছিটমহল ইস্যু, তিস্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ বেকায়দায় পড়তে পারে।।

বিএনপির অস্থির মতিত্বের কারণে এর বিদেশ বিষয়ক রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো ইতোপূর্বে সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিদেশি শক্তির উপর অতি নির্ভরতা তাদের জাতীয়তাবোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ওয়াশিংটন পোস্টে চিঠি লেখা অতঃপর অস্বীকার, প্রণবের ঢাকা সফরে খালেদা জিয়ার দেখা না করার অসৌজন্যতা, মার্কিন দূতের বাসায় গোপন যাতায়াত, তার উপর ঈশ্বরসম নির্ভরতা- এগুলোই বিএনপিকে ডোবাতে কাজ করেছে।

এখন প্রশ্ন হলো- কেন হঠাৎ বিএনপির মনে হলো ভারত তাদের পাশে থাকবে। সারাজীবন ভারত বিরোধিতা করে এখন কেন তারা পাকিস্তানমুখী কেবলা পরিবর্তন করে ভারতমুখী হচ্ছেন? তাও আবার গুজরাটে মুসলমানদের রক্তে হাত রাঙানো মোদীর মতো দাঙ্গাবাজ হিন্দু নেতার আনুকূল্য পেতে মরিয়া হয়েছেন। ধর্মকর্ম কোথায় গেল? অতীতের মতো তারা কী এখনো জনগণের পরিবর্তে বিদেশি রাষ্ট্রকে ক্ষমতার উৎস মনে করেন? এসব প্রশ্নের উত্তর তাদের কাছে মানুষ জানতে চাইবেই। এর চেয়েও বড় প্রশ্ন, বিজেপিই বা কেন বিএনপিকে সমর্থন দেবে?

এর একটি তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা আছে। বিজেপি ও বিএনপি দুটোই মৌলবাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়। এছাড়া বিএনপির সঙ্গে জামায়াত রয়েছেই। বিশ্বব্যাপী মৌলবাদী দলগুলোর মধ্যে এক ধরনের গোপন সম্প্রীতি ও আত্মিক টান লক্ষ্য করা যায়। এক নেশাসক্ত ব্যক্তি যেমন আরেক নেশাসক্ত ব্যক্তির প্রতি আত্মিক টান দেখায় ঠিক তেমন টান। এরা স্বগোত্রীয় না হলেও চারিত্রিক বিচারে স্বজাতীয়। তাই পৃথিবীর এক প্রান্তের মৌলবাদীরা অন্য প্রান্তের মৌলবাদীদের আনুকূল্য পাবে এমন তাত্ত্বিক আশা করাই যেতে পারে। সেই হিসেবে আশার আলো আছে। এছাড়া আর কোনো আলো সুড়ঙ্গে নেই।

কিন্তু এটা শুধুই একটি কথিত তত্ত্ব। বিএনপির ক্ষেত্রে এর সম্ভাবনা জিরো। এই তত্ত্ব কিতাবে আছে, কিন্তু গোয়ালে যদি কাজ না করে তখন বিএনপির ভবিষ্যৎ কী? আশার গুড়ে যদি পুরোটাই বালি মাখা হয়, তখন? তখনতো কর্মীদের কাছে ভারতবিরোধী ইমেজও থাকবে না। তখন বিএনপির করণীয় কী। এখনই তার ছক করে ফেলা দরকার। বাংলানিউজ২৪.কম
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×