somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আওয়ামী লীগের জনবান্ধব বাজেট

২২ শে জুন, ২০১৪ সকাল ৮:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রতিবছর জুন মাসে বাজেট উপস্থাপনের পর সেই বাজেটকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করা হয় কিংবা বিরোধী দলের পক্ষ থেকে তা প্রত্যাখ্যাত হয়। সরকারি দলের নেতাকর্মীরা বাজেটকে অভিনন্দন জানিয়ে রাস্তা মাথায় করে নাচে; আর সেখান থেকে বলা হয় দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যেই এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে, এ বাজেট গণমুখী। অন্যদিকে বিরোধী দল বাজেটের বিরোধিতা করে হরতাল-সেমিনার-সিম্পোজিয়াম করে; আর উপস্থাপিত বাজেট নিয়ে গণমাধ্যমে চলে চুলচেরা বিচার-বিশ্লেষণ। বাজেটের পর কিছু জিনিসের মূল্য বৃদ্ধি পায় আর কিছু জিনিসের দাম কমবে বলা হলেও আদৌ কমে কি না সন্দেহ থেকে যায়। বাজেটকেন্দ্রিক এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে গ্রামের গৃহস্থ ও শ্রমজীবী আর শহরের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবর্গের জীবন বয়ে চলে।
সাধারণ মানুষের কাছে দেশের উৎপাদন, ঘাটতি, আয়-ব্যয় প্রভৃতি ব্যাপার খুব একটা স্পষ্ট নয়। উপরন্তু তাদের কাছে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে বাজেট প্রণয়ন করা হয় কি না তাও পরিষ্কার নয়। সরকারের ঘোষিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নে শতভাগ সফলতা অর্জিত হওয়ার ক্ষেত্রে বাজেটের গুরুত্ব কী সে বিষয়েও তারা ততটা সচেতন নন। সব মিলিয়ে বলা চলে- একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও কল্যাণকামী দেশ গড়ার পথে বাজেট নিয়ে সরকারের ভাবনা-চিন্তার অংশীদারি তারা নন। মানুষের সার্বিক কল্যাণকে মাথায় রেখে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে কি না সে ভাবনা না থাকলেও সাধারণ মানুষের গার্হস্থ্য জীবনে বাজেটের অনিবার্য প্রভাব রয়েছে। অনেক সময় বাজেট ধনীকে আরও ধনী এবং গরিবকে আরও গরিব করে তুলতে পারে, দারিদ্র্য পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে কিংবা ধনবৈষম্য ও শ্রেণিবৈষম্য অথবা সামাজিক অস্থিরতা ও নৈরাজ্য বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। আবার বাজেট দেশের অর্থনীতিতে বিদেশের ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি করে জাতির অর্থনৈতিক-সামাজিক-রাজনৈতিক পরিম-লে নৈরাজ্য, অস্থিতিশীলতা ও নাজুকতা বাড়িয়ে তুলতে পারে। তবে দেশের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। আর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যদি দুর্নীতিমুক্ত জনপ্রশাসন থাকে তাহলেই সরকার বাজেট বাস্তবায়নে সফল হবে বলে আমাদের অভিমত।
আগেই বলা হয়েছে, গার্হস্থ্য জীবনে বাজেটের গুরুত্ব অপরিসীম। গ্রাম কিংবা শহরবাসী মধ্যবিত্ত চিন্তা করে- এবারের বাজেটে আয়করে ছাড় বাড়বে কি না? রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য বাড়ছে কি না? পরিসেবা করের আওতায় যেন নতুন করে আর কোনও পরিসেবা অন্তর্ভুক্ত না করা হয়; মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে এখনই ব্যবস্থা নিক সরকার; বাজেট উপস্থাপনের আগে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা থাকে কোনও বাড়তি বোঝা না চাপিয়ে বাজেট হবে গণমুখী ইত্যাদি। স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষকের মনে আয়কর ছাড়-সংক্রান্ত ঘোষণা নিয়ে আগ্রহ থাকে। কেউ-কেউ মনে করেন বর্তমানে যেখানে বার্ষিক ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করলে কর দিতে হয় না, সেখানে আগামী বাজেটে আয়ের সীমা বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করা উচিত। তাহলে এই মূল্যবৃদ্ধির বাজারে সাধারণ চাকরিজীবীদের একটু স্বস্তি আসে। কিন্তু শুধু আয়করে ছাড় নয়, যে মধ্যবিত্ত নিজের জমানো টাকা দিয়ে কষ্ট করে একটি গাড়ি কিনেছেন তিনি চাইবেন সিএনজি, অকটেন, পেট্রল, ডিজেলের দাম যেন কম থাকে। আর বছরে ভর্তুকি এমন পরিমাণ থাকা দরকার তা যেন বিদ্যুতের মূল্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সব মানুষের তো ইনডাকশন কুকার বা মাইক্রোওভেন কেনার ক্ষমতা নেই। তবু বিদ্যুতের বিল বেশি এলে চাপটা মাসের কাঁচাবাজারের ওপর পড়ে। বাজেটে এসব সমস্যার সমাধান থাকা একান্ত প্রয়োজন। আসলে গার্হস্থ্য বাজেট ভাবনায় পরিসেবার জন্য কর বা ভ্যাটের জন্য ততটা নয় কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরব থাকেন সবাই। গত ৫ বছরে মহাজোট সরকারের আমলে বাজার মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও বিদ্যুতের দাম একাধিকবার বৃদ্ধি করায় তার প্রভাবে ভোগ্যপণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এ জন্য বাজার নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সরকারের হাতে থাকাটা জরুরি। তাছাড়া শিক্ষিত-অশিক্ষিত বেকার যুবসমাজের চাকরি হওয়ার ব্যাপারে বাজেটে নির্দিষ্ট কোনও নীতির ঘোষণা থাকলে স্বপ্নময় হয়ে উঠবে আজকের প্রজন্ম। বাজেট মানেই কিছু পণ্যের ওপর বাড়তি কর বৃদ্ধি। আর কিছু পণ্যে কর ছাড়। গার্হস্থ্য জীবনে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক জিনিসের কদর বেড়েছে। এ জন্য অনেকেই প্রত্যাশা করেন দাম কমুক ল্যাপটপ, স্মার্টফোনের।
এ কথা ঠিক, সাধারণ মানুষ জিডিপির পরিমাণই জানেন না- তার শতকরা তো দূরের কথা। প্রতিবছর বাজেটের ঘাটতি পূরণের নানা পরিকল্পনা ঘোষিত হয়। আর শেষ পর্যন্ত দেখা যায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের বর্ধিত বোঝার ভার জনগণকেই বইতে হচ্ছে। পূর্ববর্তী বছরের বাজেটে করারোপের সীমারেখা বাড়ানো হয়েছিল। ফলে দু-চারটা জিনিস ছাড়া আজকাল প্রায় সবকিছুতেই ভ্যাট দিতে হয়, আর তা গরিব-ধনী সবার ব্যাপারেই সমানভাবে প্রযোজ্য। সাধারণ মানুষ হয়তো মনে করে, জিনিসের দাম এমনিতেই বেড়েছে কিন্তু তা যে প্রতিটি ক্ষেত্রে ভ্যাট যোগ করার জন্য তাও সবাই জানেন না। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, অতি দরিদ্র মানুষও করের আওতামুক্ত নয়। মানুষকে আয়ে যেমন কর দিতে হয়, প্রায় প্রতিটি ব্যয়েও ভ্যাট দিতে হয়। অন্যদিকে বাজেট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে লম্বা লিস্ট প্রকাশ করা হয় কী-কী জিনিসের দাম কমবে ও বাড়বে। কিন্তু মূল্য কমলে সেই পণ্যের দাম ভোক্তার ক্ষেত্রে খুব একটা প্রযোজ্য হতে দেখা যায় না। আবার সরকারের কোনও সংস্থা এসব কখনও নিশ্চিত করে জনগণকে ফায়দা পাইয়ে দিয়েছে- এমন কথা কেউ কখনও শুনেছেন বলেও মনে হয় না। এসবই সাধারণ ভোক্তার অভিজ্ঞতা এবং সব সরকারের আমলেই এই একই অভিজ্ঞতা পরিলক্ষিত হয় কিন্তু কেউ কখনও এর প্রতিকার করেন না।
গার্হস্থ্য বাজেটের এ বাস্তবতায় জীবন-জীবিকা নিয়ে এভাবে মানুষকে সংগ্রাম করতে হয় নিরন্তর। সন্তানদের স্কুলে আনা-নেওয়ার পরিবহন ব্যয় দেশের সব বড় শহরের ক্ষেত্রেই মধ্যবিত্ত ও নিম্নবর্গের জন্য একটি দুঃসহ অভিজ্ঞতা। এ বৃত্তের মানুষ যখন দেখে তার আয় দিয়ে আগের চেয়ে কম দ্রব্য পাওয়া যায় তখন জীবনমান হ্রাস করে। সেই পরিস্থিতিতে সন্তানদের নিয়ে ভয়ঙ্কর ভিড় ঢেলে বাসে চড়তে হয়। স্কুলে আনা-নেওয়ায় যে শ্রমঘণ্টা ব্যয় হয় তা দিয়ে সংসারের উন্নয়নে একটি কাজ করার সুযোগ হারান অনেক নারী। নতুন বাজেট এলেও সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের আয় আর প্রয়োজনমতো বাড়ে না। তাই টানাটানি আর কষ্ট ছাড়া উপায় থাকে না। উচ্চ আয়ের মানুষের আয় অনেক বাড়লে গড় আয় বাড়ে তবে সাধারণ মানুষের তাতে কিছু পরিবর্তন হয় না। আমাদের জাতীয় আয়ের সুষম বণ্টন হলেই কেবল সেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। এ জন্য আগামী ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেটে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা নিত্যপণ্যের দাম যেন বৃদ্ধি না পায়। এছাড়া কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, পয়ঃনিষ্কাশনসহ জনদুর্ভোগ থেকে মুক্তি চায় দেশের সাধারণ মানুষ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×