somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাজুক পরিস্থিতিতে বিএনপি

০৯ ই জুলাই, ২০১৪ সকাল ৯:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঈদের পরে সরকারবিরোধী কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিলেও দলের নাজুক পরিস্থিতি কাটছে না বিএনপির। দলের হাইকমান্ড নানাভাবে চেষ্টা করেও পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে পারছেন না।
ইফতার মাহফিলের নামে দল গোছানোর একটা পূর্ব পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং ফিকে হয়ে যাচ্ছে সে পরিকল্পনা। চিকিৎসা কিংবা ওমরাহ পালনের নামে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা। যারা দেশে রয়েছেন তাদের মধ্যেও রয়েছে চরম অনৈক্য। চলমান এ পরিস্থিতিতে ঈদের পরে সরকারবিরোধী আন্দোলন নিয়ে ইতোমধ্যেই হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে তৃণমূলে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ইফতার পার্টিকে ঘিরে ঢাকা মহানগর কমিটিসহ সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকে চাঙ্গা করার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরই ধারাবাহিকতায় ঈদের পরে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ডাকও দিয়েছেন তিনি।
পরিকল্পনায় ছিল, ইফতার পার্টির নামে সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে সংগঠিত করে উজ্জীবিত করা। ঝিমিয়ে পড়া কমিটি পরিবর্তন করে নতুন কমিটি গঠন করা। সে তালিকায় ঢাকা মহানগরের নতুন কমিটি গঠন, যুবদল ও ছাত্রদলের কমিটিতে পরিবর্তন আনা, জেলা কমিটিতে সংস্কার করা। এর মাধ্যমে দলের ভেঙে পড়া সাংগঠনিক কাঠামো পুনরুদ্ধার করে দলকে শক্তিশালী করা, নেতাকর্মীদের নতুন করে আন্দোলনমুখী করার পাশাপাশি সরকারবিরোধী আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোরও উদ্যোগ নেয়া হয় এই রমজানে। ঈদের পরে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়া। সরকারকে নতুন নির্বাচনে বাধ্য করা।
ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা চিকিৎসার নামে দেশের বাইরে রয়েছেন। ফলে এ কমিটি পরিবর্তন করার উদ্যোগ আপাতত আবারো পিছিয়ে পড়েছে। মহানগরে ইফতার পার্টির নামে মহল্লায় মহল্লায় নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করা, জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর কৌশলও ভেস্তে গেছে। ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান গেছেন ওমরাহ পালনে। ফলে দল গোছানোর ডাকে তেমন সারা মিলছে না।
একই অবস্থা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে। ঈদের পর আন্দোলন। অথচ সংগঠনটিতে বর্তমান কমিটি বহাল থাকবে,

না নতুন কমিটি ঘোষণা হবে। এ নিয়ে মাঠ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে চলছে নানা গুঞ্জন। কাকে কোন পদে বসালে সাংগঠনিক কার্যক্রম চাঙ্গা হবে তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
কমিটি পুনর্গঠন না হওয়ায় বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রদলের তেমন কোনো কার্যকর ভূমিকাও ছিল না। এমনকি বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়াও তখন ছাত্রদলের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলে কোনো ধরনের কার্যক্রম নেই বললেই চলে। মামলা ও সরকারের রোষানল থেকে বাঁচতে সংগঠনের সিনিয়র নেতারা দীর্ঘদিন থেকেই ছিলেন আত্মগোপনে। সাধারণ কর্মীদের সঙ্গেও তাদের ছিল না কোনো ধরনের ন্যূনতম যোগাযোগ।
বিএনপির জেলা কমিটি গঠনের কাজে হাত দেয়া হয়। কয়েকটি কমিটির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করার পরে তা থমকে গেছে। বাকি কমিটিগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম অনৈক্য। একে অন্যকে সাইজ করার কাজে সর্বদা ব্যস্ত থাকে। দলের কোনো কর্মসূচি তাদের কাছে মুখ্য বিষয় নয়।
ঈদের পরের আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে জেলা নেতাকর্মীদের মধ্যেও হতাশা বিরাজ করছে। বিগত সরকারবিরোধী আন্দোলনে শীর্ষ নেতাদের কোনো ভূমিকা না থাকায় এবারো তাদের আস্থায় নিতে পারছেন না জেলা নেতারা।
তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান দলের নাজুক পরিস্থিতি মানতে নারাজ। তিনি বলেন, দলে বিভিন্ন শ্রেণীর নেতাকর্মী থাকেন। কেউ আন্দোলনে রাজপথ কাঁপান, কেউ টিভি টকশোতে দলের পক্ষে কথা বলেন, কেউবা দলের বিভিন্ন কর্মসূচি পালনে ভূমিকা রাখেন। সবাই রাজপথে নামেন না।
তিনি বলেন, আন্দোলন হবে। আন্দোলনের মুখেই সরকার দাবি মানতে বাধ্য হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে নামিয়ে বেশিদিন বিএনপির নেতাকর্মীদের দমিয়ে রাখতে পারবে না সরকার।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ বলেন, খালেদা জিয়ার কথামতো রমজানের ঈদের পর আন্দোলন হবে। এবার অস্ত্র, গুলি দিয়ে কেউ আন্দোলন দমাতে পারবে না।
তিনি বলেন, গান্ধীর স্টাইলে আন্দোলন করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরানোর দলে যারা, আমি তাদের দলে নেই। কারণ সৈয়দ আশরাফ বলেছেন বৈধভাবে আওয়ামী লীগকে সরানো যাবে না। গণতান্ত্রিক পন্থায় এ সরকারকে উৎখাত করতে চাই। যদি গণতান্ত্রিক পথে বাধার সৃষ্টি করা হয়, জনগণকে বাধা দেয়া হয়, তাহলে অবৈধ পন্থায় সরকারকে উৎখাত করা হবে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×