somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অস্বস্তি জামাতকে নিয়ে

২২ শে মার্চ, ২০১৫ সকাল ৮:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের ডাকা টানা অবরোধ ও হরতালে কোনো প্রভাব পড়েনি সাতক্ষীরা জেলায়। জীবনযাত্রা ছিল স্বাভাবিক। গতকাল শুক্রবার ছিল অবরোধের ৭৪তম দিন। এই ৭৪ দিনে জেলায় কোনো পেট্রলবোমা বা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি। হরতাল-অবরোধের সমর্থনে বিএনপি-জামায়াতের কোনো তৎপরতাও নেই। তার পরও জামায়াতে ইসলামী ও এর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিয়ে একধরনের অস্বস্তি রয়েছে সাধারণ মানুষ ও রাজনীতিবিদদের।
পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, সাতক্ষীরায় অবস্থান করে জামায়াত-শিবিরের নেতারা কোনো পরিকল্পনা করছেন না। জেলায় তাঁদের পক্ষে সংঘবদ্ধ হয়ে কোনো নাশকতা বা সহিংসতা করা সম্ভব হবে না। পুলিশ ও প্রশাসন বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের দিকে কড়া নজর রাখছে।
২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর প্রায় ১১ মাস সাতক্ষীরায় তাণ্ডব চালায় জামায়াত-শিবির। এ সময় আওয়ামী লীগের ১৬ জন নেতা-কর্মী নিহত হন। অনেক ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন পর্যন্ত জামায়াত-শিবির কার্যত সাতক্ষীরাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। কিন্তু এবার জোটের অবরোধ-হরতালে তারা একেবারে নিশ্চুপ। বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা এমনিতেই খারাপ। এলাকায় পুলিশি টহলের কারণে জামায়াত নেতাদের মতো বিএনপির নেতারাও আত্মগোপনে আছেন।
জেলার কলারোয়া উপজেলা সদরে কথা হয় সেখানকার ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদিন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোসলেমউদ্দিনের সঙ্গে। তাঁরা বললেন, ২০১৩ সালে এ উপজেলার বেশির ভাগ এলাকায় জামায়াত-শিবির ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে। কিন্তু এবার ওরা ঘাপটি মেরে আছে। অবশ্য পুলিশ এবার খুবই তৎপর। তার পরও ভয়-অস্বস্তি কাটছে না।
জেলা সদরের নিউমার্কেটের সামনে কথা হয় স্থানীয় এনজিওর কর্মী শারমিন আক্তারের সঙ্গে। তিনি বলেন, হরতাল-অবরোধে সাতক্ষীরায় কিছু হচ্ছে না। বিএনপি-জামায়াতের তৎপরতা নেই। তবে মানুষের ধারণা, জামায়াত সুযোগ পেলে আবারও তাণ্ডব চালাবে। শহর বাসস্ট্যান্ডের কাছে চায়ের দোকানি অশোক কুমার বলেন, ‘কখন কী হয়, বোঝা যায় না। মানুষের মনে যে ভয় ডুকে গেছে, তা বের হওয়া কঠিন।’
জোটের চলমান কর্মসূচিতে জামায়াতের নিষ্ক্রিয়তা সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, এটা তাঁদের কৌশল। কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তাঁরা এখন নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন। জেলার নেতা-কর্মীরা পালিয়ে বা আত্মগোপনে আছেন। ওই অবস্থায় রাজনীতিতে যুক্ত থাকছেন।
জামায়াত-শিবির নিয়ে অস্বস্তি-ভয় থাকলেও বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে তা নেই সাধারণ মানুষের। কারণ, জেলায় বিএনপির তেমন তৎপরতা নেই। জেলা বিএনপির কমিটিতে আছেন কেবল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। সভাপতি রহমতউল্লাহ পলাশ ঢাকায় থাকেন। সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলীমের তেমন কার্যক্রম চোখে পড়ে না। দলের বাজে অবস্থার কথা স্বীকার করে সাধারণ সম্পাদক প্রথম আলোকে বলেন, এখানে বিএনপির কার্যক্রম সেভাবে নেই। দলের মূল ভরসা ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল নিষ্ক্রিয়। তিনি বলেন, এই সময়ের মধ্যে সাতক্ষীরায় তাঁরা আরাফাত রহমান কোকোর গায়েবানা জানাজা কর্মসূচি বড় আকারে পালন করেছেন। নিজেদের মধ্যে বৈঠক বন্ধ আছে।
সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের নেতা-কর্মীদের মধ্যেও জামায়াত-শিবিরের এই ‘নীরবতা’ অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনসুর আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, জামায়াত-শিবির হয়তো আরও বড় পরিসরে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাই আওয়ামী লীগও সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর কাজ করছে। প্রতিটি ইউনিয়ন-ওয়ার্ডে জামায়াতের কর্মকাণ্ডের দিকে নজর রাখা হচ্ছে। এ আশঙ্কার কথা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।
পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড়, যৌথ বাহিনীর অভিযানে নেতা-কর্মীদের মৃত্যু, আহত হওয়াকে বিরোধী দলের তৎপরতা না থাকার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্থানীয় রাজনীতিবিদেরা। তাঁরা জানান, জেলায় নতুন করে বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মাত্র ১৫-২০টি মামলা হয়েছে। তবে পুরোনো মামলা আছে ৩০০ শতাধিক। মামলার ভয়ে কেউ ঝুঁকি নিয়ে মাঠে নামছেন না।
পরিস্থিতি সম্পর্কে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির বলেন, প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন গ্রেপ্তার হচ্ছে। রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক সব সন্ত্রাসীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সন্ত্রাসীরা কেউ বাড়িতে থাকতে পারছে না বা বৈঠক করতে পারছে না। সাতক্ষীরায় বিএনপি-জামায়াত আর সংঘবদ্ধ নাশকতা চালাতে পারবে না।
অবরোধ-হরতালেও জেলার শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে। কয়েকটি বিদ্যালয় ও কলেজে গিয়ে স্বাভাবিক অবস্থা দেখা গেছে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, জেলার সব স্কুল-কলেজ খোলা। নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য শিক্ষা কার্যক্রম চলছে।
জেলার অভ্যন্তরীণ ও আন্তজেলা বাস চলাচলও স্বাভাবিক আছে। রাতেও বাস চলছে। ব্যবসা-বাণিজ্য চলছে। দোকানপাটও খোলা থাকছে। লিঙ্ক: দৈনিক প্রথম আলো
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দিল্লির রাজপথে তরুণদের ‘জেনজি ২.০’ অভ্যুত্থান এবং বাংলাদেশের জুলাই-পরবর্তী রূপান্তরের নির্মম বাস্তবতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৮

ভারতের রাজধানী দিল্লির বুকে যা ঘটে গেল, তা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সত্যিই অভূতপূর্ব। ভারতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে ‘তেলাপোকা’ বা ককরোচ জনতা পার্টির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিমানবন্দরে নির্ঘুম রাত (সাময়িক পোষ্ট)

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৭

আমার এখানে বাজছে রাত প্রায় দুটা! এখনো জেগে আছি। জেগে থাকার শানে নুযুল হলো, আমি অনেকটা ফাইসা গেছি! হায়দার সাহেবের গানের মতো, "আমি ফাইসা গেছি, আমি ফাইসা গেছি মাইনকা চিপায়!"... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতামত পোস্ট: ১ আগস্ট ২৪ এ লেখা: আমার কথা ৯৫ ভাগ মিলে গেছে

লিখেছেন অর্ক, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭



এবারের ছাত্র আন্দোলনের মূল যে দাবি বা উদ্দেশ্য, তা আসলে অত্যন্ত সাধারণ। সে সব সকল মাধ্যমে বহু চর্চিত, প্রচারিত ও আলোচিত। তাই পুনরাবৃত্তি থেকে বিরত থাকছি। আন্দোলনের নেতৃত্ব যারা দিচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৯



ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......

বির উনি একজন গোয়ালা (গোয়ালিনী)। তাহার নিজের কোনো গরু(গাভী) নাই। তারপরও তিনি দৈনিক প্রায় একশত লিটার দুধ বিক্রি করেন। নিজের 'কয়েকজন বান্দা কাস্টমার আছে'।... ...বাকিটুকু পড়ুন

এলপিজি কার্ডে সংকট কমবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:১৬


অনেক হতাশার মধ্যেও মাঝেমধ্যে সরকারের কোনো ভালো উদ্যোগের খবর দেখলে ভালো লাগে। অন্তত মনে হয়, সাধারণ মানুষের কষ্টের জায়গাগুলো নিয়ে সরকার কিছুটা হলেও ভাবতে শুরু করেছে। তেমনই একটি খবর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×