![]()
প্রথম কারণ হলো, তারা দু'জনই দুর্নীতিবাজ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সরাসরি সুবিধাভোগী। এদের একজনের বিরুদ্ধে রয়েছে ১২৮ কোটি টাকার দুর্নীতি মামলা। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী থাকা অবস্থায় মির্জা আব্বাস তেজগাঁও শিল্প এলাকার প্লট বরাদ্দে গুরুতর অনিয়ম ও রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় সরকারের অধিনে থাকা ১৮টি বাড়ি পাতানো দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করে দেয়। বর্তমান বাজার দরে যাতে রাষ্ট্রে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ হাজার কোটি টাকা। অন্যজন কিছুদিন আগে পর্যন্ত ছিলেন ঋণ খেলাপি। এছাড়া তাবিথ কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নয়, সে মূলত তার বাবা আব্দুল আউয়াল মিন্টুরই ডামি ক্যান্ডিডেট। শুধু তাই নয় তার সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মূল মালিক তার বাবা। ১৭ টি কোম্পানির মাঝে ১৪ টির মালিক তার বাবা, বাকি তিনটি বাবার মালিকানাধীন অফিস বিল্ডিংয়েই অবস্থিত এবং কাগুজে কোম্পানী। এদের প্রদর্শিত সম্পদের চেয়ে ব্যাংক ঋণ কয়েকগুণ বেশি, এছাড়া ঋণ খেলাপী হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তাই, যেকোন সময় এরা দেউলিয়াও হয়ে যেতে পারে। মূলত, একজন সরকারের সম্পত্তি অবৈধপন্থায় আত্মসাৎ করতে সহায়তা করে দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা হাতিয়েছেন অন্যজন ঋণ খেলাপীর মাধ্যমে জনগণের টাকা যেকোন সময়ে মেরে দেয়ার ধান্দায় আছেন। এমন ধরণের দুর্নীতিবাজ প্রার্থীদের বিএনপি নেত্রী স্বৈরতান্ত্রিকভাবে মনোনয়ন দিয়েছেন ঢাকাকে লুট করার জন্য। তাই জনগণ এদের ভোট দিতে পারে না।
দ্বিতীয়ত কারণ হলো, দুইজন এবং তাদের পরিবার নিকট অতীত সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জরিত ছিলো। তাবিথ আউয়ালের পিতার নামে রয়েছে হাফ ডজনেরও বেশি বিস্ফোরক আইনে মামলা। তিন মাসের উপর দেশব্যাপি যে ব্যাপক নাশকতা, সহিংসতা ও অগ্নীসংযোগের ঘটনাগুলো তার পিছনে রয়েছে তাবিথের পিতার অপরাজনীতি। একই ঘটনা আরেক মেয়র প্রার্থী মির্জা আব্বাসের ক্ষেত্রে। তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের দায়ে মামলা আছে ৩৭টি। যারা কিছুদিন আগেও পেট্রোল বোমা মেরে জীবন্ত মানুষ জ্বালিয়েছে তারা কী করে ঢাকাকে মানুষের বসবাস উপযোগী নগর করতে পারে? কোন মানুষ তাদের ভোট দিয়ে জ্বালাও পোড়াও ফিরিয়ে আনতে চাইবে?
তৃতীয় কারণটি হলো, তাবিথের শ্বশুর বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতপন্থী ব্যবসায়ী নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইস্কান্দার আলী। তিনি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ডের অডিট কমিটির চেয়ারম্যান এবং যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসীর দন্ডপ্রাপ্ত আসামী মীর কাশেম আলীর পত্রিকা দৈনিক নয়া দিগন্ত ও দিগন্ত টেলিভিশনের পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান। এছাড়া মীর্জা আব্বাসের ঢাকা টেলিকম অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসায় জরিত ছিলো। ২৪ ডিসেম্বর, ২০০৯ অবৈধভাবে বৈদেশিক কল আদানপ্রদানের অভিযোগে বাড্ডা থানায় ঢাকা ফোনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ঢাকা ফোনের লাইন ব্যবহার করে জমির টেলিকম বাংলাদেশে কল টার্মিনেট করতো। যাতে সরকার রাজস্ব হারিয়েছে কয়েকশত কোটি টাকা। বলা বাহুল্য, জনগণের ট্যাক্সে টাকাতেই দেশে উন্নয়ন হয়। সাধারণ জনগণ ট্যাক্স দেয় আর মির্জা আব্বাস মার্কা নেতারা শত কোটি টাকার ট্যাক্স ফাঁকি দেয়। এর ব্যতিক্রম নয় খোদ বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়াও। যিনি নিজেই কর ফাঁকি দিতে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নিয়েছেন।
এই তিনটি কারণ গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে আপনি কি আপনার মূল্যবান ভোটটি দিয়ে লুটেরা, দু্র্নীতিবাজ, স্বাধীনতাবিরোধীদের হাত শক্তিশালী করতে সরাসরি অবদান রাখবেন?
মনে আছে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে ভোট দিতে যাওয়া ভোটারদের খালেদা জিয়া কী বলেছিলেন? হ্যাঁ কুকুর বলেছিলেন। শুধু তাই নয় এখন যেই সেনাবাহিনীকে তারা নির্বাচনে চাইছেন সেই সেনাবাহিনী যখন খালেদা জিয়ার ক্যান্টনমেন্টে রাজনীতি করা বন্ধ করলেন তখন তাদের বলেছিলেন অকৃতজ্ঞ কুকুর। আন্দোলনের নামে করে শত শত মানুষ পুড়িয়ে জামিন নিয়ে বাড়ি চলে গেলে খালেদা জিয়া। তাইলে এই রাজনীতি তো দেখা যায় সব তাদের ব্যক্তিস্বার্থ। তারা ভোটারদের কুকুর আর সেনাবাহিনীকে বলে অকৃতজ্ঞ কুকুর। এরপরও জনগণ তাদের ভোট দিবে?
জনগণ সিদ্ধান্ত নিক তারা জয়ী হবে না পরাজিত হবে। জনগণকে জয়ী হতে হলে অবশ্যই খালেদা জিয়া মনোনিত প্রার্থীদের বর্জন করতেই হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


