somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বোমাবাজদের বর্জন করুন

২৭ শে এপ্রিল, ২০১৫ সকাল ৮:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

খালেদা জিয়া বেরিয়ে এলে নাটক হবে বা নাটকীয় কিছু ঘটনা ঘটতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর অনেক সাবধানবাণী বা দূরদর্শী কথা সময়ে ফলে যায়। এটা তাঁর অভিজ্ঞতার ফসল। বাংলাদেশের রাজনীতি বিগত কয়েক মাসে যে ধরনের সমস্যা পাড়ি দিয়েছে, তাতে বিচক্ষণ না হয়ে ওঠার আদৌ কোন কারণ দেখি না। একইভাবে অন্য প্রান্তের নেত্রীও সময়ের সঙ্গে হুঁশিয়ার ও সেয়ানা হয়ে উঠেছেন। খালেদা জিয়া গুলশান থেকে ফিরোজায় যাবার পর তাঁর ভয়ভীতি, অবরোধ বা দুঃশাসন প্রতিরোধ স্পৃহা যেন হঠাৎ করেই উধাও হয়ে গেছে। এদ্দিন ধরে গণতন্ত্র আর ভোটাধিকার রক্ষার নামে পেট্রোলবোমা, আগুন জ্বালিয়ে মানুষ মারার পর মেয়র নির্বাচনের ভোটের প্রচারে মাঠে নেমেছেন তিনি। একই সরকার, এক প্রশাসন ও পূর্ববৎ অবস্থা, তবু তিনি মাঠে।
যেভাবেই হোক ম্যানেজ গেম বা চাপের মুখে আপাত মুক্ত খালেদা জিয়া মাঠে নামার পর দৃশ্যপটে ঘটেছে পরিবর্তন। এই পরিবর্তন শুভ কি অশুভ জানি না, তবে চাকা তিনি ঘুরিয়ে দিচ্ছেন।
ছাত্রলীগের সোনার ছেলেরা হঠাৎ এত বেপরোয়া হয়ে উঠল কি কারণে? পথেঘাটে খালেদা জিয়া ও তাঁর গাড়ির বহরকে হামলা করলেই কি আনিসুল হক ও সাঈদ খোকন জিতে যাবেন? যে বা যারাই এই হামলা করুক না কেন, মানুষ ধরে নিচ্ছে এর পেছনে আছে ছাত্রলীগ ও সরকারী দল। এই অনুমান ভুল হলেও অযৌক্তিক কিছু না। আমাদের দেশে সরকারী দলের ছায়া ও মদদ ছাড়া রাজপথে এমন হামলা অসম্ভব। হামলাকারীদের প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নরম মনোভাবও মানুষকে তেমনি ভাবতে বাধ্য করছে। ইতোমধ্যে তেমন কোন হামলার খবর জানেন না বলে ঘটনার ঘনঘটা আরও ধুমায়িত করা হয়েছে। অন্যদিকে যদি বিএনপি বা জামায়াত জোট এটা পরিকল্পিতভাবে করেও থাকে, তাদের অপকৌশল সার্থক। অতি আবেগ আর পীড়িতজনের জন্য বাঙালীর মায়া চিরকাল। প্রয়াত ওয়াহিদুল হক বলেছিলেন, দশাসই সাত ফুট উচ্চতার পাঞ্জাবী সৈন্যকে গুলি করে মেরে ফেলার পর মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা তার লাশ দেখে আহা উহু না করলেও অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকত। কেউ কেউ এমন স্বগতোক্তিও করতÑ বাব্বা কত বড় এক মানুষ মারলাম!
আগুন, পেট্রোলবোমা বা নাশকতায় মারা যাওয়া মানুষগুলো বড়সড় কেউ ছিলেন না। তারা আকার-আয়তনে যেমন ছোট, পরিচয় বা ইমেজেও ছিলেন অতি সাধারণ। গরিব দুঃখী মজুর বা ছাত্র জনতার মৃত্যু এদেশে স্বাভাবিক। তাদের অনেকেই যেন জন্মেছেন এভাবে মারা যাবার জন্য। কিন্তু বেগম জিয়া তো সেলিব্রেটি। তাঁর গাড়ির কাঁচে ঢিল পড়লেও খবর আছে। আমাদের জীবনের কোন ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের লেশ না থাকলেও মিডিয়ায় তা আছে। সে প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার কাছাকাছি একটি মাছি মরলেও তা ছাপান্ন হাজার বর্গমাইলে খবর হয়ে ছড়িয়ে পড়বে। পেট্রোলবোমা আর আগুন দেয়ার দায়ে দোষী নেতাকে স্পর্শকাতরতার সুযোগ দেয়া কি যৌক্তিক না উচিত? অথচ তাই দেখছি আমরা। ধীরে ধীরে রক্ত, আগুন, পেট্রোলের দাগ পেরিয়ে আবার নির্দোষ হয়ে উঠছেন খালেদা জিয়া। তিনি প্রচার চালাতেই পারেন। বরং এ জাতীয় কর্মকা-ে তাঁকে বাধা না দিলে বা এগিয়ে যেতে দিলে মানুষই জবাব দিত। কোন না কোন জায়গায় সাধারণ মানুষের বিবেকের কাছে পরাজিত হতেন খালেদা জিয়া। হয়ত প্রতিরোধের সম্মুখীনও হতে হতো তাঁকে। অতি উৎসাহী ছাত্রলীগ বা অপকৌশলীরা তা হতে দিচ্ছে না। অধিকন্তু তাঁকে নেগেটিভ পপুলারিটির বরমাল্য পরিয়ে দিচ্ছে তারা। গোয়েন্দা রিপোর্টে মেয়র পদে বিএনপি প্রার্থীরাই নাকি এগিয়ে আছেন। কোন হতাশা ও ক্ষোভে মানুষ লাশ ডিঙ্গিয়ে তাঁদের ভোট দিতে চায়? ছাত্রলীগ নামধারীরা খালেদা জিয়া ও জামায়াতকে পপুলার করার দায়িত্ব নিয়ে থাকলে বলার কিছু নেই। মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্য, আদর্শ ব্যর্থ করে দেয়ার মানুষজনকে এরাই জনপ্রিয় করে। মুখে তুলে দেয় বিরোধিতার ভাষা, হাতে কলম, ক্যামেরায় ছবি। সে নাটকের মঞ্চায়নে প্রধানমন্ত্রী কী নীরব থাকবেন? আগাম সতর্ক করে থাকার দূরদর্শিতায় কী এ প্রক্রিয়া রোধের ব্যবস্থা নেয়া ছিল না?
যেভাবেই হোক নাটকের শেষ দৃশ্যে খালেদা জিয়া ও জামায়াতের জন্য মধুরেণ সমাপয়েত মানে নিহত, আহত আর ধুঁকতে থাকা মানুষের প্রতি অপমান ও অবহেলা। ভোটযুদ্ধে এক্সট্রা পয়েন্ট দেয়ার এই আত্মবিধ্বংসী খেলার শেষ কোথায়, কেউ কী জানেন? কবে ধবল ধোলাই হবে অপরাজনীতি? বিএনপি-জামায়াতের অপকৌশলের বাংলাওয়াশ কি আদৌ হবে কোনদিন? যা এদেশের ঐক্য আর সম্ভাবনার জন্যই জরুরী।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×