somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফলের ফলন বৃদ্ধিতে শীর্ষে বাংলাদেশ

০৮ ই নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশ্বে ফল উৎপাদন বৃদ্ধির হার এখন বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশ আম উৎপাদনে বিশ্বে সপ্তম এবং পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বৈশ্বিক কৃষি উৎপাদন-বিষয়ক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
এফএওর ২০১৩ সালের সর্বশেষ বৈশ্বিক পরিসংখ্যান প্রতিবেদন বলছে, ফল উৎপাদনের দিক থেকে চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল বিশ্বের পর্যায়ক্রমে শীর্ষস্থানে রয়েছে। আর মোট ফল উৎপাদনের দিক থেকে বিশ্বে ২৮তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।
তবে দুই বছর ধরে বাংলাদেশের ফলের উৎপাদন বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ থেকে দ্রুত গতিতে বাড়ছে—এই তথ্য উল্লেখ করে কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, ২০১৫-এর পরিসংখ্যান দিয়ে হিসাব করলে বাংলাদেশের অবস্থান আরও এগোবে। এখনো এই হিসাব এফএও প্রকাশ করেনি।
.এফএওর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশে ফলের উৎপাদন ১১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। আর হেক্টরপ্রতি ফলের উৎপাদন ১০ শতাংশ বেড়েছে। উৎপাদনের এই দুই দিকেই বাংলাদেশের ফল উৎপাদন বৃদ্ধির হার বিশ্বে সর্বোচ্চ। অথচ ১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দেশে ফল উৎপাদন বেড়েছিল মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ।
চলতি বছর বাংলাদেশ আম রপ্তানি শুরু করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় খুচরা পণ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালমার্টের যুক্তরাজ্য শাখা বাংলাদেশ থেকে আম আমদানি শুরু করেছে। গত মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ে এফএওর উদ্যোগে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে ওয়ালমার্ট ৩৫ টন আম কিনেছে।
এফএও সূত্রে জানা গেছে, ওয়ালমার্টের দেখাদেখি যুক্তরাজ্যের আরও কয়েকটি খুচরা পণ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান গত আমের মৌসুমে বাংলাদেশ থেকে ৬৫ টন আম আমদানি করেছে। ইউরোপের ফ্রান্স, বেলজিয়াম, স্পেন ও নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন খুচরা পণ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে আম আমদানির জন্য যোগাযোগ শুরু করেছে।
এফএও বাংলাদেশের প্রতিনিধি মাইক রবিনসন এ ব্যাপারে প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববাজারে আম রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। যেমন, বাংলাদেশের আম যখন পাকে তখন বিশ্ববাজারে অন্য কোনো দেশের আম আসে না। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যে ক্রেতারা ইতিমধ্যে বাংলাদেশের আম গ্রহণ করেছে। তারা বলছে, বাংলাদেশের আম বিশ্বের অন্যতম সুস্বাদু ফল। বাংলাদেশ যদি আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে উৎপাদন করতে পারে, তাহলে বছরে ১ হাজার টন আম রপ্তানি করাও সম্ভব।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, গত চার বছরে আম, কাঁঠাল, কলা, লিচু, পেয়ারা ও আনারসের মতো দেশি ফল উৎপাদন দ্রুত হারে বাড়ছে। সংস্থাটির ২০১৫ সালের প্রধান ফসলের পরিসংখ্যান-বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে ১৮ প্রজাতির ফল বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে এবং উৎপাদন নিয়মিতভাবে বাড়ছে।
বিবিএসের হিসাবে গত চার বছরে দেশে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন বেড়েছে পেয়ারার। এই সময়ে দেশে পেয়ারার ফলন দ্বিগুণ হয়েছে। নব্বইয়ের দশকে কাজী পেয়ারা চাষের মধ্য দিয়ে উন্নত জাতের পেয়ারা চাষ দেশে শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত ছয়টি উন্নত জাতের পেয়ারা এবং বেসরকারিভাবে আমদানি হওয়া থাই পেয়ারার চাষে দেশে রীতিমতো বিপ্লব ঘটে গেছে।
বিবিএসের হিসাবে ২০১১-১২ অর্থবছরে দেশে প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার টন পেয়ারা উৎপাদিত হয়েছে। ২০১৪-১৫ সালে পেয়ারার ফলন প্রায় আড়াই লাখ টন হবে বলে সংস্থাটির প্রাথমিক হিসাবে দেখা গেছে। তবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, এ বছর পেয়ারার উৎপাদন ৩ লাখ টন ছাড়াবে।
বিবিএসের হিসাবে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে প্রায় ২ লাখ টন লিচু, ৪ লাখ ৭০ হাজার টন পেঁপে, ৪০ হাজার টন কমলা, ৩ লাখ ৭০ হাজার টন আনারস ও ১ লাখ ৫৫ হাজার টন কুল উৎপাদিত হয়েছে। আর মোট ফল উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ১ কোটি টন।
বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, দেশে বর্তমানে ৪৫ প্রজাতির ফল বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে দেশে মোট ১ কোটি টন ফল উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেড়েছে আমের উৎপাদন। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে দেশে আম উৎপাদিত হয়েছিল ১২ লাখ ৫০ হাজার টন। আর এ বছর তা বেড়ে ১৫ লাখ টন ছাড়িয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশ থেকে লেবু, পেয়ারা ও আম মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের শুধু প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে বিক্রি হতো। গত মে থেকে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য আম রপ্তানি শুরু করেছে।
বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাবে, গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে ফল রপ্তানি থেকে আয় আড়াই গুণেরও বেশি বেড়েছে। ২০০৯-১০ ও ২০১০-১১ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৩৮৮ কোটি টাকার ফল রপ্তানি করে। ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ এই দুই অর্থবছরে তা বেড়ে ৭৮০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
চার বছর ধরে ফলের রস বা জুসের বাজারেও বাংলাদেশ প্রবেশ করছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ২১১ কোটি ৩০ লাখ টাকার ফলের জুস রপ্তানি হয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ফলের রস রপ্তানি করে ৬৫০ কোটি টাকা আয় করেছে বাংলাদেশ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সময়ে প্রতিবছর ফল উৎপাদন ৩ থেকে ৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। আম, পেয়ারা ও কুল বা বরইয়ের বেশ কয়েকটি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা গত পাঁচ বছরে ৮৪টি ফলের নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন। এর ফলে হেক্টরপ্রতি ফলন আগের তুলনায় বেড়েছে।
বারি-৬ আম, আম্রপালির মতো আমের নতুন জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। বারি-৬ আম পাহাড়ি এলাকার জন্য। এ বছর দেশের তিন পার্বত্য জেলায় ব্যাপকভাবে আম চাষ হয়েছে। পেয়ারার ক্ষেত্রে থাই পেয়ারা ও বারি-৮ পেয়ারার চাষ নিয়মিতভাবেই বাড়ছে। নতুন এই জাতগুলোর কারণে দেশে ফলের উৎপাদন প্রতিবছর ৩ থেকে ৫ শতাংশ হারে বাড়ছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে। Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:৪০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×