somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দ্রুত প্রবৃদ্ধির দেশ

২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অর্থনীতির মানদণ্ডে আগামীতে যে কয়টি দেশকে দ্রুত প্রবৃদ্ধির দেশ হিসেবে দেখা যাবে, বাংলাদেশ এর অন্যতম। এ জন্য বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কও নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। আগামী দিনগুলো বাংলাদেশের জন্য এক অপার সম্ভাবনা অপেক্ষা করছে। দেশের অর্থনীতিও ইতোমধ্যে সেই ভিত তৈরি করেছে। বলা যায় অর্থনীতি সুন্দর ও গতিশীল পথে এগোচ্ছে। বাংলাদেশের অগ্রগতি বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়ে খুবই আশাবাদী বিশ্বব্যাংকও। সম্প্রতি বাংলাদেশকে ‘এশিয়ান টাইগার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক কৌশিক বসু। তার আশাবাদ বাংলাদেশের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ২০২০ সালের মধ্যেই প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে পৌঁছুবে। তার বক্তব্য, উন্নয়নের সামগ্রিক দায়িত্ব সরকার নিতে পারে না। তার জন্য এমন একটা পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে সরকার যে কাজটি করতে চায় সেটি বেসরকারী খাতও করতে পারে। এর জন্য নীতি প্রণয়নও করতে হবে। সেই নীতি হতে হবে দেশের প্রতি দরদ ও পেশাদারিত্বের সংমিশ্রণে, যাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা থাকে।
স্বাধীনতার চার বছর পর ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। চল্লিশ বছর পর স্বীকৃতি পায় নিম্নমধ্য আয়ের দেশ হিসেবে এবং সেটা বঙ্গবন্ধুর কন্যার আমলে। এক সময় যারা বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়িতে রাখার ষড়যন্ত্র করে আসছিল, তাদের জন্য এটা দুঃসংবাদ। তাদের বাংলাদেশকে আর হতদরিদ্র দেশ বলে বিদ্রƒপ করার দিন শেষ।
আশার কথা, বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে বিশ্বসভায় স্থান পেয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে দেশটি আরও এক ধাপ উন্নীত হওয়ার সকল সম্ভাবনা ও প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পথে। এখন গৃহীত পরিকল্পনা ও সূচিত কর্মসূচীর ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং তা বেগবান করে দেশকে আরও এগিয়ে নেয়ার কাজটি করাই হবে মূল লক্ষ্য। মধ্য আয়ের দেশের তকমা পাওয়ার পর বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হয়েছে। অর্থনৈতিক সূচকগুলো আরও উন্নত করতে এই ভাবমূর্তিকে কাজে লাগানো জরুরী। এখন প্রশ্ন, কতদূর এগোলো বাংলাদেশ? গৌরব আর অহঙ্কার নিয়ে সামনের সব প্রতিবন্ধকতা দূর করে অগ্রসরমান এখন দেশটি। যে সাফল্য এবং সম্ভাবনার কথা বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি উল্লেখ করেছেন তাতে স্পষ্ট যে, শ্রম, মেধা ও অধ্যবসায়ের ফসল এই অর্থনৈতিক উত্তরণ। দেশের উৎপাদনশীল জনগোষ্ঠী এ ক্ষেত্রে অবদান রেখেছে। রয়েছে শেখ হাসিনা সরকারের অদম্য প্রচেষ্টা।
একথা সত্য যে, বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি, অন্যায়, স্বজনপ্রীতি, দুঃশাসন সবই কাঁধে চড়েছিল জাতির। দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হলেও সুশাসন এখনও শতভাগ নিশ্চিত করা যায়নি। এক সময় দুর্নীতিতে আমরা চ্যাম্পিয়নও ছিলাম। তবে হতাশার আড়ালেই লুকিয়ে থাকে আশা। গণতান্ত্রিক এই অগ্রযাত্রায় আমরা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হয়েছি। নারী অগ্রযাত্রায় অন্যান্য দেশের জন্য রোল মডেলে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নয়ন ঘটেছে। নিজস্ব অর্থায়নে বহু প্রত্যাশিত পদ্মা সেতুও নির্মাণ করছি আমরা। সবচেয়ে বড় কথা, সকল প্রতিবন্ধকতা এড়িয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে।
আসলে কোন দেশের উন্নয়নে ঐক্যই হলো বড় একটি বিষয়। রাজনৈতিক অনৈক্যের কারণে এখনও বাংলাদেশে উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। আমরা মনে করি, অঙ্গীকার হওয়া উচিত মতপার্থক্য ভুলে সবাই দেশের উন্নয়নে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করব। তাহলে বিশ্বব্যাংকের আশাবাদ বাস্তবে পরিণত হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:২১
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×