somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেট্রোরেল আর স্বপ্ন নয়

২৯ শে জুন, ২০১৬ সকাল ১০:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সঠিক সময়েই বাস্তবায়ন হোক রাজধানীতে মেট্রোরেল স্থাপনের বিষয়টি বহুল আলোচিত। রাজধানীতে ক্রমেই জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ সড়কের ওপর চাপ পড়ে অসহনীয় যানজটে নাকাল নগরবাসীর পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই মেট্রোরেল স্থাপনের দাবি তোলা হচ্ছিল। সরকারও দেশের সার্বিক অবকাঠামো পুনর্বিন্যাস করে রাজধানীকে বসবাসের উপযোগী করতে একটি আধুনিক পরিবেশ সৃষ্টির পদক্ষেপ নেয়। যানজট নিরসনের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও গূরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে মেট্রোরেল_ এ বিবেচনায় ২০১৪ সালে রাজধানীতে মেট্রোরেল স্থাপনের প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। যা রাজধানীবাসীর মনে ব্যাপক আশার সঞ্চার করে। সম্প্রতি স্বপ্নের মেট্রোরেল প্রকল্পের নির্মাণকাজেরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সব ঠিক থাকলে ২০১৯ সালের গোড়াতেই রাজধানীবাসী এই প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করতে পারবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। সঠিক সময়ে এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এক ভিন্ন আঙ্গিক যুক্ত করবে নিঃসন্দেহে। সংশয় নেই, এর ফলে নাগরিক জীবনেও গুণগত পরিবর্তন আসবে।
গতকালের যায়যায়দিনের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার দূরত্ব মাত্র ৩৮ মিনিটে পেরিয়ে যাবেন যাত্রীরা। প্রকল্পের আওতায় উত্তরা তৃতীয়পর্যায় থেকে শাপলা চত্বর পর্যন্ত ৬ নাম্বার রুটের এই নির্মাণকাজে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা দিচ্ছে ১৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। ২০ কিলোমিটার এই পথে থাকবে ১৬টি স্টেশন। উত্তরা থেকে পল্লবী, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, শাহবাগ, টিএসসি, দোয়েল চত্বর, প্রেসক্লাব হয়ে মতিঝিল শাপলা চত্বর পর্যন্ত এই রুট। যার পুরোটাই হবে উড়ালপথে। আর প্রতিঘণ্টায় উভয়দিক থেকে ৬০ হাজার যাত্রী চলাচল করতে পারবে। ঘণ্টায় মেট্রোরেলের গতি হবে গড়ে ৩২ কিলোমিটার।
বলার অপেক্ষা রাখে না, স্বাধীনতার পর দেশে অনেক সরকার দায়িত্বে এসেছে। রাজধানীর যানজট নিরসনে এসব সরকার নতুন নতুন অনেক পরিকল্পনাও হাতে নেয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো রাজধানীর যানজট সমস্যা নিরসনে কোনো পরিকল্পনা সহায়ক হয়নি, বরং বেড়েছে কয়েকগুণ। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে মেট্রোরেলকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই সময়ে সরকার নানা জটিলতায় কাজটি শুরু করতে পারেনি। এবার সরকার বিশ্বের সর্বাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন দ্রুতগতির যোগাযোগ ব্যবস্থা এই মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেয়। এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণেরও একটি দৃষ্টান্ত। জানা যায়, দুই দফা রুট পরিবর্তনের কারণে প্রকল্প শুরু করতে দেরি হয়েছে। প্রথমবার গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ী উড়াল সড়কের কারণে এবং দ্বিতীয়বার বিমানবাহিনীর আপত্তির মুখে রুট পরিবর্তন করা হয়। আমরা বলতে চাই, শেষ পর্যন্ত যেহেতু সব ধরনের জটিলতা কাটিয়ে দেশের এই সর্ব বৃহৎ প্রকল্পটির কাজ শুরু করা গেছে, সেহেতু আমাদের প্রত্যাশা থাকবে নির্দিষ্ট সময়েই তা বাস্তবায়িত হোক। মেয়াদকালীন সময়ে বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে সাম্প্রতিক অতীতে আমাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে, ফলে এর পুনরাবৃত্তি না ঘটুক সেদিকে সরকারকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। কেননা, গুরুত্বের দিক থেকে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন একটি বিরাট চ্যালেঞ্জও।
এ কথা জোর দিয়েই বলা যেতে পারে, মেট্রোরেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা দেশের অর্থনীতিতেও একটা বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি পরিবর্তন আসবে দেশের নাগরিক ও আর্থ-সামাজিক চরিত্রেও। সরকারকে মনে রাখতে হবে যে, এ প্রকল্পে আরো পাঁচটি রুট রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে বিআরটি প্রকল্প। এতে ১০০টি আর্টিকুলেটেড বাস সংযোজন করা হবে বলেও জানা যায়। বিআরটির এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৪০ কোটি টাকা। সরকারের পাশাপাশি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, ফরাসি উন্নয়ন সংস্থা ও গ্লোবাল অ্যানভায়রনমেন্টাল ফ্যাসিলিটি ফান্ড এতে অর্থায়ন করছে। সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, রাজধানীর যানজট নিরসন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকার গৃহীত এ পদক্ষেপের সাফল্য নির্ভর করছে সঠিক সময়ে এর বাস্তবায়নের ওপর। এ প্রকল্পের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন সরকারের প্রতি জনআস্থা বহুলাংশে বাড়িয়ে দেবে বলেও আশা করা যায়। বর্তমানের কর্মমুখর সময় ও ব্যস্ত নাগরিক জীবনে মেট্রোরেল হোক সবার জন্যই কার্যকর এক বাহন_ এ প্রত্যাশা আমাদের।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুন, ২০১৬ সকাল ১০:৫২
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ একটি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার

লিখেছেন রাজসোহান, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮



বাড়িটা দেখতে বাড়ির মতো না, যেনো একটা ঘোষণা। দ্যাখো, আমি কে।

গেটে দুইটা সিংহ, পাথরের, মুখ হাঁ করা; সিংহ দুইটা কী পাহারা দিচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না। ভিতরে উঠান... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?
====================
একটি ১১ বছরের শিশু যার বয়স খেলাধুলা, পড়াশোনা আর স্বপ্ন দেখার। সেই শিশুকে যদি যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং তার গর্ভে একটি সন্তান জন্ম নেয়, তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×