somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জঙ্গিবাদের শুরু কোথায়?

১৯ শে জুলাই, ২০১৬ সকাল ১০:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চলতি মাসের প্রথম দিন রাজধানীর গুলশানের একটি স্প্যানিশ রেস্তরাঁয় ভয়াবহ এক সন্ত্রাসী হামলার দু’দিন পর গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করেন জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। ওই হামলায় সাত জাপানী নাগরিক নিহত হন। সাক্ষাতকালে প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছিলেন সন্ত্রাসীদের শেকড় অবশ্যই খুঁজে বের করব। এবার তার সরকারের এই দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করলেন এক আন্তর্জাতিক সম্মেলেনে। গত শুক্রবার মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটোরে আসেম সম্মেলনের সাইডলাইনে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন গুলশান হামলার শেকড় খুঁজে বের করব। জাপানের প্রধানমন্ত্রীও বৈঠকে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অবস্থান তার একাত্মতার দৃঢ় সঙ্কল্প ব্যক্ত করেন।
জাপান বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু এবং উন্নয়ন সহযোগী। জাপানের নাগরিকবৃন্দ যারা বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করছেন তাদেরসহ জনগণকে নিরাপদে রাখা ও তাদের সার্বিক নিরাপত্তা বিধানে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদানের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে নিশ্চিত করেন। গুলশানের জঙ্গী হামলায় ইতালির ক’জন নাগরিকও নিহত হন। ওই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ এবং তার জনগণের সংঘবদ্ধ প্রতিরোধের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
পর পর দুটি জঙ্গী হামলার ঘটনায় অনেক প্রশ্নই সামনে চলে এসেছে। জঙ্গী মোকাবেলায় করণীয় এবং সক্ষমতা সম্পর্কেও পর্যালোচনার তাগিদ তৈরি হয়েছে। সরকার জঙ্গী দমনে বরাবরই সোচ্চার। সরকারপ্রধান জঙ্গী দমনে বার বার তার প্রত্যয়ের কথা ব্যক্ত করেছেন। নিজ কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালেও প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে দৃঢ় বক্তব্য প্রদান করেন। দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি বলেছেন, জঙ্গীবাদ নির্মূলে সরকারকে যত কঠোর হতে হয় ততটাই হবে। এ বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে সরকার জঙ্গী প্রতিরোধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। তারই প্রক্রিয়া হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আরও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র দেয়া হচ্ছে তাদের। জঙ্গী হামলা মোকাবেলায় এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে কার্যকর হবে।
এশিয়া-ইউরোপ শীর্ষ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেও বাংলাদেশ সরকারের মনোভাবের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মস্কো থেকে প্রয়োজনীয় যে কোন প্রকার সহযোগিতা গ্রহণে কখনও বাংলাদেশ পিছপা হবে না বলে অভিমত প্রকাশ করা হয়।
দেশে এ পর্যন্ত সংঘটিত জঙ্গী হামলার পেছনে জেএমবি, হরকত-উল-জিহাদ, হিযবুত তাহ্রীরসহ দেশীয় জঙ্গী সংগঠনগুলোই প্রধানত দায়ী। তাদের পেছনে জামায়াত-বিএনপি-শিবিরসহ ধর্মীয় দলগুলোর সমর্থন ও ইন্ধন থাকাও বিচিত্র নয়। এটা তো দিবালোকের মতো সত্য যে, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী মানবতাবিরোধীদের বিচার ও মৃত্যুদ- কার্যকরকে উপলক্ষ করে দেশে জঙ্গী হামলা ও হত্যাকা- বেড়েছে।
জঙ্গীবাদ এখন বৈশ্বিক সমস্যা। আমেরিকা, ফ্রান্স, তুরস্ক, ইরাক, সিরিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তানসহ বহু দেশেই জঙ্গী হামলা হয়েছে। বাংলাদেশের ওপর মৌলবাদ-জঙ্গীবাদ ছায়া বিস্তার করে চলেছে। শেকড়সুদ্ধ তাদের উপড়ে ফেলা চাই দেশের স্বার্থে। তা না হলে এরা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে রক্তাক্ত প্রান্তরে পরিণত করে ছাড়বে। সময় এসেছে জঙ্গীবাদ-মৌলবাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়ানোর। সরকার সন্ত্রাসী হামলাকারীদের শেকড় খুঁজে বের করার ব্যাপারে যে দৃঢ়তা প্রদর্শন করে চলেছে তাতে দেশের মানুষ যেমন আশ্বস্ত বোধ করবে, তেমনি বহির্বিশ্বেও সরকারের ভাবমূর্তি বাড়বে এটা নির্দ্বিধায় বলা চলে।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুলাই, ২০১৬ সকাল ১০:৫০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আন্দোলনের সময় বেকারদের দরকার ছিল, এখন কি আর নেই?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:২০


সারজিস আলমকে দেখে একসময় মনে হয়েছিল, বাংলাদেশের রাজনীতিতে হয়তো সত্যিই নতুন কিছু আসতে যাচ্ছে। কোটা আন্দোলনের আইকনিক মুখ, গর্বিত ঢাবিয়ান, এনসিপির বড় নেতা। শেখ হাসিনার আমলে সকাল বিকাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

প্রশ্নটি এখন আর নিছক কল্পনা নয়।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান Makkah Joint Defence Agreement-এ স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?
====================
একটি ১১ বছরের শিশু যার বয়স খেলাধুলা, পড়াশোনা আর স্বপ্ন দেখার। সেই শিশুকে যদি যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং তার গর্ভে একটি সন্তান জন্ম নেয়, তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×