somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিছু প্রশ্ন ও আমার উত্তর

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ রাত ১২:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(প্রথমেই বলে নিই, এইটা একটা চরম ডাক্তারবাদী পোস্ট এবং শুধুমাত্র ইউথাইরয়েড দের জন্য। নন-ডাক্তার এবং হাইপো/হাইপারথাইরয়েডগণ নিজ দায়িত্বে পড়বেন।)

একটি এন,জি,ও প্রতিষ্ঠানে আমি চাকরী করি প্রায় একমাস হতে চলল। সকালে বৃষ্টিতে কাকভেজা হয়ে এবং রাস্তায় জমে থাকা পানিতে বাইক-সাতার দিয়া অফিসে পৌছুলাম। অফিসে ঢুকে মাত্র রেইনকোট খুলে ভেজা কাপড়ে ফ্যানের নিচে দাড়ালাম, আর শুনতে পেলাম দুইজনের উত্তপ্ত উষ্মা। আমাদের সাথের এক কলিগ আপু (যিনি জাপান থেকে পি,এইচ,ডি করা) এবং একাউন্টসের একজন ভাই। ভাইজান আমাকে এসে জিজ্ঞেস করলেন, কোন ডাক্তারের ভিজিট কি ১২০০ টাকা হওয়া উচিত? আমি হাসতে হাসতে বললাম, হু, অনেক কষ্ট কইরা যে ৪-৫ টা ডিগ্রী নিতে পারে তার হইতেই পারে। ভাইজান জবাব দিলেন, বাকিরা তো আর কষ্ট কইরা টাকা কামায় না, আঙুল চুইষা টাকা আসে। জবাবে আমি একটু হাসলাম। কাহিনী এইখানেই শেষ হইতে পারত। কিন্তু হইল না। পি,এইচ,ডি আপু আমার উপ্রে চড়াও হইলেন, কেন হবে? যাই হোক, তার আরো হাজারটা অসন্তোষ। আমার সাথে যুক্তিতে না পাইরা কিছুক্ষন চিল্লাফাল্লা কইরা থামলেন এবং দিনের বাকি সময় আমার সাথে আর কোন কথাই বললেন না। (ভবিষ্যতে আর বলবেন বইলা মনেও হয় নয়া।)
প্রঃ কেন হবে ১২০০টাকা?
ঊঃ এইটার উত্তর আমাদের অর্থমন্ত্রীর মত দেওয়া যায়। (দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়া বলছিলেন- বাজারে যাওয়া বন্ধ করেন, জিনিসপত্রের দাম এমনেই কমবে)। যাইয়েন না তার কাছে, ১০০ টাকা ভিজিটের অনেক ডাক্তার আছে, তাদের কাছে যান। ১০ লাখ টাকার টয়োটা গাড়িও পাওয়া যায়, আবার কোটি টাকা দামের ফেরারীও পাওয়া যায়। আপনে কি ফেরারী গাড়ির শোরুমে যাইয়া কইতে পারবেন, এইটার দাম এত কেন?
প্রত‘ত্তরঃ কবি নীরব।
প্রঃ নিচ্ছে নিক, সময় দিবে না কেন?
ঊঃ যেই লোক ৪-৫টা ডিগ্রী নিয়া বসছে সেও তো আঙুল চুষে না। আপনার মত হাজার রোগী সে দেইখা আসছে। তার যতটুকু সময় লাগবে ডায়াগনোসিস করতে সেই ভাল জানে। আপনার দরকার ভাল হওয়া নাকি ডাক্তারের সাথে ঘন্টা হিসাবে গল্প করা? দ্বিতীয়টা হইলে বেস্ট অপশন কোন সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে যাওয়া, তারা ঘন্টা হিসাবে গল্প করার ডাক্তার।
প্রতিঊত্তরঃ নাই। কবির কাব্যখাতা শুন্য।
প্রঃ ক্যান্সারের রোগী কেমো নিয়া ভাল হইসে। কিছুদিন পর তার আবার ক্যান্সার হইছে, রেডিওথেরাপী নাকি ভুল যায়গায় দিছে। পরে সে ইন্ডিয়া যাইয়া কোন মতে জীবন বাচাইছে।
ঊঃ আমি যতটুকু জানি রেডিওথেরাপী দেয় টেকনোলজিস্ট। ডাক্তারের ভুল হইল কোন যায়গায়? আর এতই যদি ইন্ডিয়া প্রীতি তাইলে আগেই যাইতেন।
পঃ ডাক্তাররা ভুল করবে কেন? তারা কি ভাত খাইয়া ডাক্তার হয় নাই?
উত্তরঃ উত্তর দেওয়া হইছে। আর ডাক্তাররা তো ঈশ্বর না। মানুষের ভুল হইতেই পারে। আর কি খাইয়া ডাক্তার হইছে সেইটা অবশ্য চিন্তার বিষয়। ইন্টার্ন করার সময় দুপুরের খাওয়া একদিনও সময়মত খাইতে পারি নাই। আর গাইনী এডমিশনে টানা ডিউটি কইরা প্রায় দেড় দিন ভাত না খাইয়া ছিলাম।
প্রতিউত্তরঃ নাই।
প্রঃ ডাক্তাররা সব কমার্সিয়াল।
উঃ কিছু হইতে পারে। যারা কমার্সিয়াল তাদের কাছে যান কেন? আমি ৬৩৮০৪ নং ডাক্তার। এদের মধ্যে কতজন কমার্সিয়াল? সংখ্যাটা গুনে বের করেন। আপনার সিপ্লল পাতলা হাগুর জন্য যদি ঢাকা মেডিকেলের মেডিসিনের ডিপার্টমেন্টাল হেড কে লাগে তাইলে সবচে বড় কমার্সিয়াল তো আপ্নে। আপ্নেরই তো চকমকা, ফকফকা চেম্বার ছাড়া, ৮-১০টা ডিগ্রী ছাড়া ডাক্তার মনে ধরে না।
প্রতিঊত্তরঃ (যেই চাহনীটা দিলেন, চোখে চশমা না থাকলে মনে হয় রেডিয়েশন হ্যাজার্ডে অন্ধ হইয়া যাইতাম)
এরপর অভিযোগঃ ডাক্তার হয় মানুষের সেবার জন্য। তারা কেন এত টাকা নিবে?
উত্তরঃ শিক্ষকরাও তো মানুষ গড়ার কারিগর। দেশের ভবিষ্যত বানায়। তাদের কাছে পোলাপাইনরে যখন হাজার হাজার টাকা দিয়া প্রাইভেট পরান আর মডেল টেস্ট দেওয়ান তখন মনে হয় না এই কথা?
প্রতিউত্তরঃ (মনে হইতেছিল কিছুক্ষনের মধ্যেই হিরোশিমা-নাগাসাকি র মত কোন ঘটনা ঘটতে পারে। রুম থিকা বাইর হইয়া গেলাম)
শেষ করি একটা কৌতুক দিয়া। তিন ব্যাচেলর বন্ধু ঢাকায় আসছে পড়ালেখার জন্য। কিন্তু সমস্যা হইল কোথাও বাসা ভাড়া পাইতেছে না। ব্যাচেলর ভাড়া দিবে না। ব্যাচেলররা খারাপ ইত্যাদি। শেষ বাসাটায়ও একি কথা শুইনা হতাশ হয়া এক বন্ধু বাড়িওয়ালারে কইলঃ আঙ্কেল, ব্যাচেলররা তো অনেক খারাপ। আপনার মেয়েরে কোন ব্যাচেলরের সাথে বিয়া দিয়েন না।
ডাক্তার রা অনেক খারাপ। আসেন সকাল বিকাল এদের জুতা মারি। আর নিজের পোলা/মাইয়া এইবার এইচ,এস,সি পাশ করছে। তারে উপদেশ দেই, ভাল মত পড় বাবা, তোরে সরকারী মেডিকেলে চান্স পাইতেই হইব। মাইয়ার/পোলার বিয়া দিমু, দেইখেন তো খলিল সাহেব, আপ্নের ভাইস্তার/ভাস্তিও জন্য একটা ডাক্তার পোলা/মাইয়া পান কিনা, তয় সি¤পল এম,বি,বি,এস না কিন্তু। এফ,সি,পি,এস থাকন লাগব। নাইলে বিয়া কইরা খাওয়াইব কি?

সবশেষ, ঈশপের একটা গল্প ছিল, আঙুর ফল খাইতে না পারলে টক। রাইত অনেক হইছে, ঘুমাই। কাল সকালে আবার অফিস আছে।
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষঃ সামু শব্দের সেতু প্রজন্মের বন্ধন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৪


একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।

অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তার যতসব অপরাধ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



আজ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বলতে গেলে সব মিডিয়াতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ উঠেছে। উহা দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন দেশে বাস করি?
যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত, যে বাংলাদেশ রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হয়েছে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×