কোন দাবি আদায় ছাড়াই রণেভঙ্গ দিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ঘরে ফিরলেও রেখে গেছেন বেশ কিছু প্রশ্ন। মাঠে-ঘাটে, শহরে-বন্দরে, চায়ের দোকানে সব শ্রেণী পেশার মানুষের এখন একই প্রশ্ন- এতো মানুষের জীবনহানি ঘটিয়ে কী অর্জন হলো বিএনপি-জামায়াত জোটের? এতো ক্ষয়-ক্ষতিরই বা কী জবাব দেবেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া? পেট্রোলবোমা মেরে মানুষকে দগ্ধ করে পৈশাচিক কায়দায় হত্যার সংস্কৃতি আমদানি করে স্বাভাবিক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চাকে ধ্বংসের প্রচেষ্টার দায় এখন কে নেবে? দেশের সর্বত্র সব শ্রেণী-পেশার মানুষের মুখে মুখে ঘুরে ফিরে এই একই প্রশ্ন । বিএনপির বর্তমান নেতৃত্ব যে ব্যর্থ, তাও জনগণের সামনে আঙ্গুল দিয়ে প্রমাণ করতে পেরেছে সরকারপক্ষ। এখন বিএনপির রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষায় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে । প্রায় ৯২ দিন ধরে বাড়ি ছেড়ে গুলশানের কার্যালয়ে স্বেচ্ছায় অবরুদ্ধ থেকে টানা ৯০ দিন অবরোধ, দাবি ছিল সরকারের পদত্যাগ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের। এই দাবি আদায় করতে গিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট আমদানি করেছিল পেট্রোলবোমা। আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস-নাশকতা ও জঙ্গীবাদী কর্মকাণ্ডে ঝরে গেছে দেড়শ’ নিরীহ মানুষের জীবন, জীবন্ত দগ্ধ হয়ে দুঃসহ যন্ত্রণা নিয়ে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন সারাদেশের প্রায় তিন শতাধিক মানুষ। দেশের সম্পদহানি হয়েছে নজিরবিহীন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে অপূরণীয়। সর্বস্বান্ত হয়েছে শত শত পরিবার। এই তিন মাস দেশবাসীর কেটেছে দুঃসহ যন্ত্রণা, স্বজন হারানোর আর্তনাদ আর অসহনীয় ভোগান্তির মধ্যে দিয়ে। বিশ্ব ইজতেমা, ঈদে মিলাদুন্নবী, এসএসসি পরীক্ষা, এমনকি নিজের পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর লাশ ঢাকায় আনার পরও হরতাল-অবরোধ থেকে পিছু হঠেননি খালেদা জিয়া। ‘কিছু একটা হবে’ এই আশায় তিনি দিনের পর দিন চালিয়ে গেছেন ধ্বংসাত্মক কর্মসূচী। বাস্তবে রাজপথে রক্তের হোলি খেলে ও দেশের এতো ক্ষয়ক্ষতি করেও একটি দাবি আদায় করতে পারেননি খালেদা জিয়া। বিএনপিকে সারা বিশ্ববাসীর সামনে সন্ত্রাসী-জঙ্গীবাদী দল হিসেবে পরিচিত করা হলো? আন্দোলন করতে গিয়ে দলের বেশকিছু নেতাকর্মীকে জীবন দিতে হয়েছে, শত শত নেতাকর্মী নাশকতার মামলায় কারাগারে বন্দী রয়েছে। কেন নেতাকর্মীদের জীবনকে এমন অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয়া হলো? এসবের দায়-দায়িত্ব কে নেবে?
আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস-নাশকতা ও জঙ্গীবাদী কর্মকাণ্ডে ঝরে গেছে দেড়শ’ নিরীহ মানুষের জীবন।,এসবের দায় থেকে এড়াতে পারবেকি তারা
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....
চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....
বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?


“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন
১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।