somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প = দাগ

২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ১০:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



চাঁদ দেখতে কার না ভাল লাগে?
তাই এই জাগতিক সংসারে হাজারও ব্যাস্ততার মাঝে একটু সময় করে মাঝে-মাঝে চাঁদ দেখতে চলে আসি আমাদের বাড়ির ছাদে।মাস গেলেই অপেক্ষায় থাকি কবে ভরা পূর্ণিমা আসবে আর আমি সীমান্তকে সাথে করে চাঁদ দেখব।কিন্তু সীমান্তটা খুব আলসে আমার কথা শুনতেই চাই না। এ সব চাঁদ দেখা-টেখা ওর তেমন ভাল লাগে না বুঝি।বিছানা থেকে উঠতেই চাই না। এই তো সেদিন বিয়ে হল আমাদের অথচ দেখতে দেখতে আটটি বছর কখন যে কেটে গেল বুঝতেই পারিনা। আমাদের একমাত্র মেয়ে অধরা, ওর বয়স এবার ছয় বছরে পড়ল। দেখতে দেখতে অধরা ও বড় হয়ে যাচ্ছে। একদিন ওর বিয়ে হয়ে যাবে। অধরাও কি আমার মত করেই ওর স্বামীর হাত ধরে চাঁদ দেখবে। কি জানি, অধরা আমার মত না ও কিছুটা ওর বাবার স্বভাবের হয়েছে।

আজ আকাশ আলো করে গোল থালার মত একটা সুন্দর চাঁদ উঠেছে।জানি চাঁদ সব সময়ই সুন্দর । আমার কাছে চাঁদ প্রতিবারই নতুন রুপে ধরা দেয়। অধরা বেশ আগেই ঘুমিয়ে পড়েছে। সীমান্ত বিছানায় শুয়ে টিভি দেখছিল। আমি রাতের খাবার বেড়ে সীমান্তকে খেতে ডাকলাম। প্রতি পূর্ণিমা রাতে চাঁদ দেখতে যাওয়া আমার কাছে যেমন আনন্দের ঠিক ততটাই আমি কি যেন একটা কষ্টে ভুগি। আমি জানি কষ্টটা কি তবু কাউকে বলতে পারি না। আমি কখনও আমার এই কষ্টটা কাউকে বলতে চাই নি তবে সীমান্তকে বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এই আজ আট বছরে আমি হয়তো হাজার বার সীমান্তকে সেটা বলতে চেয়েও বলতে পারিনি। নিজের বুকের চাপা কষ্টটাকে নিজের মাঝেই লুকিয়ে রেখেছি।
-কি হল নীলা কি ভাবছ? সীমান্তের কথায় আমি বাস্তবে ফিরে আসি।
-কই কিছু না তো।
-আমার মনে হয় তুমি কি যেন একটা ভাবছিলে।
-না মানে আজ পূর্ণিমা তাই ভাবছিলাম তোমার সাথে ছাদে গিয়ে চাঁদ দেখব। তোমাকে বললে তুমি না বল কিনা তাই ভাবছিলাম।
-না বললেও তুমি কিছু বললে আমি করিনি এমন কোন কাজ আছে?
-না ঠিক তা না তুমি বিরক্ত হও কিনা তাই।
-আমার বউ আমার সাথে চাঁদ দেখবে এতে বিরক্ত হওয়ার কি আছে। তুমি তো জানো আমি একটু অলস তাই আলসেমি করি।এখন তাড়াতাড়ি খেয়ে নাও আমি আজ তোমার সাথে মন ভরে চাঁদ দেখব।
খাওয়া শেষে আমি আর সীমান্ত ছাদে যায়। আজ চাঁদটাকে আরও বড় মনে হচ্ছে। অবশ্য খবরে পড়েছিলাম আজ নাকি চাঁদটাকে আরও বড় দেখাবে। এটাকে বলে সুপার মুন। চাঁদটা আজ না, আমার কাছে আজীবন সুপার মুন হয়েই থাকবে।
আজ কি আমি সীমান্তকে বলব আমার জীবনের সেই কালো অধ্যায়ের কথা। যে কথা আমি আট বছরেও বলতে পারিনি। আমার জীবনের এই কালো অধ্যায়ের কথা বললে সীমান্ত কি আমার সাথে সম্পর্ক রাখবে। সম্পর্ক রাখলেও সীমান্ত কি আমাকে আগের মতই ভালবাসতে পারবে।
আমার তখন কেবল তের বছর বয়স সে সময় আমার জীবনে একটা কালো রাত নেমে এসেছিল। সেই কালো রাতের কথা মনে হলেই আমি ভয়ে অস্থির হয়ে যায়। আমার বেঁচে থাকার সমস্ত ইচ্ছা শেষ হয়ে যায়।
আমি সীমান্তের বুকে মাথা রেখে ফুফিয়ে কেঁদে উঠি।
-এই নীলা কাঁদছ কেন?
-সীমান্ত তুমি আমাকে এই ভাবে সারা জীবন তোমার বুকে আগলে রাখবে তো?
-কেন রাখব না তুমি না আমার লক্ষী বউ।
সীমান্ত আমাকে ওর বুকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।
আমি চাঁদের দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভাবি, আমি কি সীমান্তে সাথে প্রতারনা করছি। সীমান্তকে কি আমি নিরবে শুধু ঠকিয়ে যাচ্ছি।
বিয়ের আগে আমার হালিমা খালা বলেছিল, শোন নীলা প্রত্যেক নারীর জীবনেই কোন না কোন কাল দাগ থাকে। তবে সেই দাগ এক সময় উঠেও যায়। তোর এই দাগের জন্য তুই দায়ী না। দায়ী আমরা এই বড়রা আমাদের এই সমাজ।কারন তোকে আমরা নিরাপত্তা দিতে পারিনি। এই সমাজ তোকে নিরাপত্তা দিতে পারিনি।তুই শুধু শুধু এই ঘটনার জন্য তোকে কেন খারাপ ভাববি।আর শোন জীবনে মনের ভুলেও তুই এই কথা তোর স্বামীর কাছে বলবি না। কোন স্বামী তার স্ত্রীর অনাকাঙ্খিত ঘটনাও মেনে নিতে পারেনা।
-নীলা এই নীলা।
-হু বল,
-তুমি না প্রতি পূর্ণিমা রাতে আমাকে কি যেন একটা কথা বলতে চাও আজ বলবে না।
-হ্যা বলব, আমি তোমাকে আমার নিজের চেয়েও বেশি ভালবাসি।
সীমান্ত হেসে আমার কপালে একটা চুমু দেয়।
আমি আবার চাঁদের দিকে তাকায়। চাঁদটা হেসে আমাকে বলে, পাগলি একটা দেখ এই চাঁদ আমি কত সুন্দর তবুও আমারও কলঙ্ক আছে।আর তুই তো একটা মানুষ তার উপরে এই সমাজে তুই একটা মেয়ে তোর তো দাগ থাকবেই।
আমি সীমান্তকে আরও জোরে জড়িয়ে ধরি। জানি এই ভালবাসার বাধন এত সহজেই ছিড়ে যাবেনা।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ১০:৪৫
৬টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×