somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প = দূরের দিগন্ত

০১ লা জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ২:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আট বছর আগে...
মেয়েটাকে রোজ দেখে সুমন।অসম্ভ সুন্দরী। প্রথম দেখাতেই সুমনের ভাল লেগে যায় মেয়েটিকে।কিছুু না ভেবেই মেয়েটিকে নিয়ে সে এলো মেলো সপ্ন দেখতে শুরু করে।যদিও সুমন জানে এই সব সপ্ন দেখা অলীক মাত্র।সুমনদের মত নিম্ন মধ্যেবিত্ত পরিবারের কারও যে সপ্ন দেখতে নেই।সুমন কেবল বিকম পাশ করেছে।সংসারে অভাবের কারনে একটা এনজিওতে চাকরি নিয়েছে।চাকরির পাশাপাশি পড়াশোনাটাও চালিয়ে যাবে সে।নিজ জেলার একটা পশের জেলায় সুমনের পোষ্টিং।সকাল আটটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সুমনের অফিস।অফিস থেকে অল্প একটু দূরে সুমন একটা টিনশেডের এক কামরার রুম ভাড়া নিয়েছে।বাড়ির মালিক একজন মহিলা।অনেক টাকা পয়সার মালিক তিনি।বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও আছে।
বাড়ির মালিক সমন্ধে সুমন তেমন বেশি কিছু জানে না।জানার আগ্রহও সুমনের নেই।সুমনের ঘরের পাশেই বাড়ি মালিকের দু,তলা বাড়ি।বাড়ির দুতলার বারান্দা সুমনের ঘর থেকে সব দেখা যায়।দু,তলার বারান্দায় মেয়েটিকে প্রায় দেখে সুমন।মেয়েটিকে নিয়ে সুমনের সপ্নের পরিধি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।সুমন চেষ্টা করে মেয়েটার সমন্ধে খোজ নিতে।মেয়েটির সম্মন্ধে জানতে চাইলে কেউ যদি কিছু মনে করে তাই ভেবে সুমনের আর জানা হয়না কিছুই।কলে খাবার পানি আনতে গেলে বাড়ি মালিকের কাজের মহিলার সাথে দেখা হয় মাঝে মাঝে।কথা প্রসঙ্গে সুমন বাড়ি মালিকের সম্মন্ধে জানতে চাই।কাজের মহিলার কাছ থেকে সুমন জানতে পারে বাড়ি মালিকের এক ছেলে দুই মেয়ে একটা মেয়ে মারা গেছে।আর ছেলেটা নেশা করে বেড়ায়।
সুমন লাজ লজ্জা ভুলে জানতে চাই উনার ছোট মেয়ের নাম?তাজনীন।
সেই থেকে সুমনের মনে গেথে যায় একটি নাম,তাজনীন। তাজনীন কে নিয়ে সপ্ন দেখা সুমনের যেন অভ্যাস হয়ে গেছে।তবু সুমন কখনও নিজের অবস্থানটা ভুলে যায় না।খোলা চোঁখে দেখলে ওই দূর দিগন্তটাকে গাছ-পালার সাথে মিশে গেছে মনে হয়।মনে হয় ওখানে ওই গাছপালার কাছে গেলেই আকাশটাকে ছুয়ে দেওয়া যাবে।কিন্তু কাছে গেলে আবার সেই একই দূরুত্ত। ধনী গরিবের ভালবাসাটাও এমন।ভালবাসার মন বলে এ মিলন সম্ভব বাস্তবে গেলে সেটা অসম্ভব।
তাজনীনকে ভালবেসেই যেতে হবে সুমনকে কাছে পাওয়া হবে না কখনও।তারপরও ভালবেসেই সুখ।কাজের মহিলার কাছে সুমন একদিন জানতে চাই আপনার তাজনীন ম্যাডাম কোন ক্লাসে পড়ে?কাজের মহিলাটি আকাশ থেকে পড়ার মত অবাক হয়ে বলে-আফা পড়ব ক্যামনে আপনি জানেন না আফার মাথা খারাপ,আফাই তো পাগল!
কথাটি শুনে সুমন স্তম্ভিত হয়ে রইল বেশ কিছুক্ষন।তাহলে সুমন এতদিন যে মেয়েটাকে নিয়ে সপ্ন দেখে এসেছে সে একজন পাগল।সুমনের কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছে না।তারপরও প্রকৃতির নিয়মে অনেক কিছুই মেনে নিতে হয়।সুমন তার নিজের মনেই এক অদ্ভুদ পরিবর্তন দেখতে পায়।তাজনীন পাগল এ কথাটা শোনার পরে তাজনীনের প্রতি তেমন একটা টান অনুভব করতে পারছে না।আচ্ছা যারা পাগল,প্রতিবন্ধী তারা সহানুভূতি ছাড়া কি ভালবাসা পেতে পারে না।সুমনের এখন কিছুই ভাল লাগে না।সুমন ভাবে এত সুন্দর একটা মেয়েকে পাগল না বানালে বিধাতার কি চলত না?কয়েক মাস পরেই সুমনের আরেক জেলায় ট্রান্সফার হয়ে গেল....

আট বছর পর....

সময়গুলো কত তাড়াতাড়িই না চলে যায়! দেখতে দেখতে আট বছর কেটে গেছে।জীবনের এই দীর্ঘ পথ চলতে গিয়ে সুমন তার প্রথম ভাললাগা(ভালবাসারও হয়তো) মানুষ তাজনীনের কথা এখনও ভুলতে পারেনি।আর সেদিন তাজনীনকে দেখে সুমন যে কতটুকু অবাক হয়েছিল তা কাউকে বলে বোঝাতে পারবে না।
সুমন এনজিওতে চাকরিরত অবস্থায় মাস্টার্স শেষ করে।বেতন কম হওয়াই সুমন চেষ্টা করছিল বেশি বেতনের একটা চাকরির জন্য।কিন্তুু চাকরি এখন সোনার হরিন,পাওয়াটা কি এতই সহজ।বছর খানেক আগে সুমন একটা ভাল বেতনের চাকরি পেয়ে যায়।মালিকের অনেক ব্যাবসা প্রতিষঠান সে গুলোর হিসাব-নিকাস সুমনকেই রাখতে হবে।মালিককে এখনও দেখেনি সুমন।তবে শুনেছে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক একটা মেয়ে।এক বছর পরে মালিককে দেখার সুযোগ হয় সুমনের।
সেদিন সকালে সুমন ফ্রেস হয়ে সকাল সকাল বেরিয়ে পড়ে। আজ তার প্রতিষ্ঠানের মালিক আসবে সব কর্মচারী দের নিয়ে মিটিং করবে।সুমন আগে আগে অফিসে গিয়ে দেখে সব কাজ ঠিক আছে কিনা।সাড়ে দশটার দিকে মালিক চলে এসেছে।মিটিং রুমে ঢুকতেই সুমন মালিককে দেখে ভুত দেখার মত চমকে উঠল।আরে এতো তাজনীন।
কিন্তু তাজনীন তো পাগল ছিল।নাকি তাজনীনের মত দেখতে এ মেয়ে অন্য কেও?
উনি সকলের সাথে পরিচিত হলেন এবং শেষে নিজের পরিচয় দিলেন।
আমি ফারিহা রহমান।সুমন জানত মালিকের নাম ফারিহা রহমান।কিন্তু একটা মেয়ে হুবহু আরেকটা মেয়ের মত হয় কি করে।মিটিং শেষে সবাই চলে গেলে সুমন ফারিহার কাছে যায়।ফারিহা সুমনকে বলে কি ব্যাপার কিছু বলবেন নাকি?
সুমন আমতা আমতা করে বলে,না মানে আপনাদের বাড়ি কি মাঝবাড়ি গ্রামে?
হ্যা ওখানে আমাদের গ্রামের বাড়ি। সুমন আবার বলে, আপনার কি কোন ডাক নাম আছে?
ফারিহা একটু হেসে বলে,হ্যা আমার ডাক নাম তাজনীন।
এত তিছু জানতে চাইছেন যে আমাকে আগে দেখেছেন কখনও?
হ্যা দেখেছি আট বছর আগে আমি আপনাদের ওখানে একটা এনজিওতে চাকরি করতাম।আর আপনাদের টিনের বাসায় ভাড়া থাকতাম।
বুঝেছি আপনি আমাকে দেখে হয়তো অবাক হয়েছেন।ভাবছেন একজন মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ে এই প্রতিষ্ঠানের মালিকের দায়িত্ব পালন করছে কি ভাবে।শুনুন তাহলে, আমি ক্লাস নাইনে থাকতে বাবা মারা যায়।এস এসসি পরীক্ষার পরে বড় আপু মারা যায়।বড় আপুর মৃত্যুটা আমার মনে খুব নাড়া দিয়েছিল।কিছুদিন পরেই আমি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ি।আড়াই বছর পাগল হয়ে ছিলাম।অনেক চিকিৎসার পরে আমি আবার মানসিক ভারসাম্য ফিরে পায়।আমি অসুস্থ থাকতে ভাইয়াও এক রোড এক্সিডেন্টে মারা যায়।সুস্থ হওয়ার পরে আমি আবার পড়াশোনা শুরু করি।মায়ের কথা ভেবে জীবনটাকে আবার নতুন করে শুরু করি।এক নাগাড়ে কথা গুলো বলে থামল তাজনীন।তাজনীনের চোঁখ দুটো ছল-ছল করছে।সুমন এতক্ষন মুগদ্ধ দৃষ্টিতে তাজনিনকেই দেখছিল।
তাহলে মিস্টার সুমন থাকুন,আজ যাই।নিজের প্রতিষ্ঠান মনে করেই সব কাজ করবেন,ভাল থাকবেন।
তাজনীন এখন আরও অধরা হয়ে গেল সুমনের কাছে।মানুষের জীবনে এমন কেউ কেউ থাকে যারা ওই দূর দিগন্তের মতই,তাদেরকে খুব কাছের মনে হলেও তাদেরকে কখনও স্পর্শ করা যায় না।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জানুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ২:৩১
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×