
প্রিন্সেস ডায়ানার সাথে আমি প্রথম কবে পরিচিত হয়েছিলাম তা ঠিক মনে নেই।তবে এতটুকু মনে আছে প্রিন্সেস ডায়ানাকে আমি যেদিন প্রথম দেখেছি সেদিন থেকেই তার উপর ক্রাশ খেয়েছিলাম।এস এসসির পরেই হয়তো খবরের কাগজের মাধ্যেমে প্রিন্সের ডায়ানা সম্পর্কে প্রথম জানি। প্রিন্সেস ডায়ানার ছবি দেখেই আমি তার উপর ক্রাশ খাই। ছবি দেখে ডায়ানাকে এত ভাল লেগেছিল যে ছবিটা কেটে আমার ডায়েরীর মধ্যে রাখি। সেই ছবিটা আজও আমার কাছে আছে।
ভাল মন্দ মিলিয়েই এই আামরা মানুষ। প্রিন্সের ডায়ানারও কিছু ভুল ত্রুটি ছিল। তবে তার পরেও তিনি ছিলেন একজন উদার মন-মানসিকতার মানুষ। আর এ জন্য তাকে আরও ভাল লেগেছিল । ১৯৯৭ সালে ডায়ানা যখন মারা যান তখন আমি কেবল মাত্র হাই স্কুলে উঠেছি। যেদিন ডায়ানা সম্পর্কে জেনেছি তার মৃত্যুটা মনে মনে কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলাম না। ডায়ানার ছবিটা দেখলেই বুকের ভেতরে কেমন কষ্ট হত( অল্প বয়সের আবেগ আর কি হা হা হা )।
প্রিন্সেস ডায়ানাকে চেনেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। রুপের মাধুর্যের কারণে খুব সহজেই তিনি মানুষকে আকৃষ্ট করতে পারতেন। সে সময় ডায়ানার সাথে পাল্লা দেয়ার মত মহিলা খুঁজে পাওয়া দুস্কর ছিল।
প্রিন্সেস ডায়ানা
৩১ শে আগস্ট ১৯৯৭ সালে অনিন্দ্য সুন্দরী এই মহিলা পেরিসে ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন।
প্রিন্স চার্লসকে ডিভোর্স দেয়ার কারণে মানুষ চার্লসকেই ডায়ানার মৃত্যুর জন্য দোষী বলে মনে করে। ডায়ানার মৃত্যুর ঠিক কয়েকদিন আগে ডায়ানা ব্রিটিশ সরকারের কাছে চিঠি লিখে জানিয়ে দেন যে তিনি বিপদে আছেন। তিনি কখনই পুলিশ প্রোটোকল নিতেন না কারন তিনি জানতেন যে পুলিশ সহজেই রাজকীয় মানুষদের দ্বারা প্রভাবিত হতে পারতো।
যেদিন তিনি মৃত্যুবরণ করেন সেদিন হোটেল থেকে বের হওয়ার পরপরই পাপারাজ্জির দল তার পিছু নেয়। ডায়ানা দৌড়ে গাড়িতে গিয়ে উঠেন। তার সাথে সাথে নিরাপত্তাকর্মীও গিয়ে গাড়িতে উঠে। ড্রাইভার পাপারাজ্জিদের হাত থেকে বাঁচার জন্য গাড়ি খুবই দ্রুতগতিতে চালাচ্ছিলেন। ডায়ানার লাকও ছিল খারাপ, কারণ ড্রাইভার মাতাল ছিল। যার ফলাফল ছিল খুবই ভয়াবহ। সড়ক দুর্ঘটনায় গাড়িতে থাকা প্রিন্সেস ডায়ানাসহ ৪ জনের সকলই নিহত হয়েছিলেন।

যাই হোক আমার এই প্রথম ক্রাশ খাওয়া মহিয়সী নারী কে নিয়ে আমি ২০০৯ সালে একটি কবিতা লিখেছিলাম। সেই কবিতাটি শেয়ার করার জন্যই আজ এত কথা বলা । সব কথা বাদ দিয়ে কবিতাটি পড়ুন। কবিতাটি অবশ্যই প্রিন্সের ডায়ানাকে উৎসর্গ করা।
তুমি ছিলে সদা হাস্যময়ী
তুমি এসেছিলে আলোর বর্তিকা হাতে নিয়ে
সপ্নের বীজ বুনে দিয়েছিলে মানুষের মনে মনে।
অন্যর কষ্ট গুলো ছিল শুধু তোমার কষ্ট
তুমি অসহায়ের পাশে ছিলে বট বৃক্ষের মত
যেখানে ছিল অজ্ঞতা
সেখানে জ্বেলে দিয়েছিলে শিক্ষার আলো।
তুমি নিজেকে আত্বনিয়োগ করেছিলে মানুষের সেবায়
তুমি মানুষের মাঝে গড়ে তুলতে চেয়েছিলে সচেতনতা
তুমি চেয়েছিলে দারিদ্র নিপিড়িত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে
নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠাই তুমি ছিলে অগ্রসৈনিক।
তাই তো তোমায় ভালবাসি অনেক মিস প্রিন্সেস ডায়না।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মে, ২০১৭ সকাল ৯:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



