somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অগ্নিকান্ডে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া গ্রামের চরম দারিদ্র প্রায় ৫০ টি কৃষি শ্রমিক পরিবারের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসার বিনীত অনুরোধ।

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১২:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে শক্রবার বিকাল ৫ টার সময় নীলফামারী জেলার, সদর উপজেলার গোড়-গ্রাম ইউনিয়নে "পুকুর পাড়া" নামক একটি গ্রামের প্রায় সকল পরিবারের থাকার ঘর, কৃষি পণ্যে গোলা, কাপড়-চোপড় সহ বসত ভিটার সকল সম্পদ অগ্নিকান্ডের কারণে সম্পূর্ণ রূপে ছাই হয়ে গেছে। কোন পরিবার নিজেদের ভাত খাওয়ার প্লেট ও পানি খাওয়ার গ্লাসটিও রক্ষা করতে পারেনি। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামের ৪ টি ছবি যোগ করা হলো যা দেখলে অনেকের চোখে পানি চলে আসবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।নিচের ছবিতে দেখুন ভাতের সাথে তরকারি হিসাবে গরিব মানুষের প্রধান সবজি আলু গুলো কিভাবে আগুনে ঝলসে গেছে ও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পুড়ে যাওয়া বসত ভিটায়।



দুর্ভাগ্যক্রমে অগ্নিকান্ডেটি ঘটেছে শক্রবার বিকাল ৫ টার সময়, যে দিনটি হলো ঐ এলাকার সবচেয় বড় সাপ্তাহিক হাট-বাজারের দিন। বাজারটি গ্রাম থেকে ৪ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। যে কারণে অগ্নিকান্ডের সময় গ্রামটি ছিলো পুরুষ মানুষ শূন্য। দারিদ্র্যতার কারণে গ্রামটি ছিলো প্রচণ্ড ঘনবসতি পূর্ণ। গ্রামটি নীলফামারী জেলা সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত ও গ্রামের সবচেয়ে নিকটবর্তী পিচ ঢালা রাস্তাটি ৪ কিলোমিটার দূরত্বে হওয়ার কারণে অগ্নি নির্বাপণ কর্মীরা সেখানে পৌঁছেছে আগুন লাগার ১ ঘণ্টা পরে। ঐ সময়ের মধ্যে গ্রামের ৫১ টি পরিবারের থাকার ঘর, ধানের গোলা, পড়নের কাপড় সহ সকল কিছু আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মহিলা মানুষরা নিজেদের শিশু সন্তান ও বৃদ্ধদের আগুনের শিখা থেকে বাঁচাতে পেড়েছে কোন রকমে।



ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামটি কি পরিমাণ দারিদ্র তার ১ টা উদাহরণ দিতে চাই। ঐ গ্রামের প্রায় ৫০ টি পরিবারে মধ্যে মাত্র ১ টি পরিবারের ১ জন ছেলে পুলিশ বাহিনীতে সিপাহী হিসাবে চাকুরী করে। অন্য ২ টি পরিবারে অল্প কিছু কৃষি জমি আছে ও ৪-৫ টি পরিবার বর্গা চাষি। অবশিষ্ট পরিবারের সদস্যরা দিনমজুর শ্রমিক। অন্যের কৃষি জমিতে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কাজ করে। আমি আবারও বলতেছি গ্রামটি কি পরিমাণ দারিদ্র তা ঐ গ্রামে না গেলে কেউ বিশ্বাস করতে পারবে না।

আপনারা অনেকেই অবগত আছেন নীলফামারী জেলাটি মঙ্গা পীড়িত একটি জেলা হিসাবে পরিচিত ও বাংলাদেশের অন্যতম দারিদ্র জেলা। শুক্রবার ও শনিবার রাতে ঐ গ্রামের ৩০০ মানুষের বেশি ভাগই শিশু সন্তান ও বৃদ্ধদের নিয়ে গাছের নিচে ঘুমিয়েছে ফেব্রুয়ারি মাসের এই প্রচণ্ড শীতে। অন্যান্য গ্রামের সামর্থবান কৃষকরা বাঁশ ও খড় দিয়ে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছে। কিন্তু তাদের পক্ষে শীতের কম্বল, সুয়েটার, কিনে দেওয়া সম্ভব না। তাই আপনাদের প্রতি বিনীত অনুরোধ যার যত টুকু সামর্থ্য আছে এমনকি ১ টাকা হলেও তা দিয়ে সাহায্য করার জন্য।



ছোট ভাই বলল আজকে তারা প্রতিটি পরিবারকে ১ টা প্লেট, ১ টা গ্লাস ও ১ টা তরকারির বাটি কিনে দিয়েছে এলাকা থেকে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে। এবার বুঝে নিন কি পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পরিবার গুলো।

বিদেশ থেকে পে-পাল কিংবা ব্যংকের মধ্যে টাকা সংগ্রহে সহযোগিতা করতেছে Bangladesh Disaster Aid and Rehabilitation নামক একটি অ-লাভ জনক (Non-Profit) প্রতিষ্ঠান যা কানাডা সরকারের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত ও কানাডার রাজস্ব বিভাগের কাছে বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে দায়বদ্ধ। এই প্রতিষ্ঠানটি গত ৪ বছর ধরে বাংলাদেশে সংঘটিত বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় প্রবাসী বাংলাদেশী মানুষদের কাছ থেকে সাহায্য গ্রহণ করে তা দেশের দুর্গত মানুষদের মাঝে পাঠানোর ব্যবস্হা করে আসতেছে। প্রবাসী কেউ সাহায্য করতে চাইলে নিম্নোক্ত ই-মেইলে PayPal এর মধ্যমে পাঠাতে পারবেন।

Bangladesh Disaster Aid and Rehabilitation এর PayPal একাউন্ট #

[email protected]

দেশের মধ্য থেকে কেউ পাঠাতে চাইলে নিম্নোক্ত ফোন নাম্বারে বিকাশ এর মধ্যমে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।

বিকাশ: ০১৭১৭-৭৯৩৪২২

দেশের মধ্য থেকে ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠাতে পারবেন:

ডাচ বাংলা ব্যাংক: MD HSIBUL HASAN
একাউন্ট নাম্বার: DBBL: 172-101-23488

আপনার আপত্তি না থাকলে আপনার পাঠানো টাকার কথা নাম উল্লেখ পূর্বক প্রাপ্তি স্বীকার করা হবে।

আপনাদের প্রতি আবারো অনুরোধ ১ টাকা বা ১ ডলার হলেও তা দিয়ে সাহায্য করুন চরম দারিদ্র ঐ মানুষ গুলোকে। এই কৃষক ও কৃষি শ্রমিকরাই আমাদের দেশের চালিকা শক্তি। তাদের এই দুঃসময়ে এগিয়ে আসা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।

কবির ভাষায় বলি "শুন হে মানুষ ভাই সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপর নাই"
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১২:৫৪
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাকে দিয়ে সেলস হবে না

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৫৫

আমাকে বাংলাদেশের এক ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি তাদের সেলসে সহায়তা করার অনুরোধ করেছে। কোম্পানি ভালো, বাজে কোন রেকর্ড নেই। আমার কাজ হচ্ছে, আমার পরিচিত মানুষদের সাথে তাদের মার্কেটিং টিমের যোগাযোগ করায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যাটারিচালিত রিকশা , তিন-চাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং সিসা-দূষণরোধ বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাব।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


বাংলাদেশের নগর ও শহরতলির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি-বাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যান ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরিবহন, বিপুলসংখ্যক চালক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭



ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কেনা ও নির্মাণের টাকা কোথা থেকে এসেছিল-এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই অনলাইনে ঘুরেফিরে আসে। উত্তরটা আসলে লুকিয়ে নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় - দরকার বিকল্প সরকার

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



জামাতকে সংগঠন হিসেবে নিখুঁত বলা যায়, আলেম হতে হলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় - মানে নেতা হবার আগে অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে, বিএনপি-লীগের এমন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×