somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যদি আল-মাজেদ জীবিত থাকতেন...

১১ ই জানুয়ারি, ২০১৪ সকাল ১০:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এ পর্যন্ত কেউই এ প্রশ্নের উত্তর দেয়নি যে, কেন তাকফিরীরা তাদের জন্মভূমি হতে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে এসে তাদের কথিত ইসলামি বিধান জারী করার লক্ষ্যে মানুষ হত্যা করে?! কেন তারা এ পবিত্র বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য তাদের নিজেদের জন্মভূমিকে বেছে নেয় না? কেন বিন লাদেন ইসলামি সরকার গঠনের জন্য আফগানিস্তানকে বেছে নিয়েছিলেন এবং অন্যরা ইরাক ও সিরিয়াকে বেছে নিয়েছেন?
আবনার রিপোর্ট : কিছুদিন পূর্বে আল-কায়েদার সহযোগী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘আব্দুল্লাহ আজ্জাম ব্রিগেডে’র সৌদি নেতা মাজেদ আল-মাজেদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে লেবানন সামরিক বাহিনী। লেবাননের কাছ থেকে মাজেদকে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য সৌদি আরবের আপ্রাণ চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর লেবাননের একটি সামরিক হাসপাতালে তার মৃত্যুর সংবাদ সৌদি গণমাধ্যমেই প্রচারিত হয়। তিনি কিডনী সংক্রান্ত রোগ ডিয়ালিসিস-এ আক্রান্ত ছিলেন।
এমন অনেক চিহ্ন রয়েছে যা হতে প্রমাণ হয় যে, সৌদি আরবের অনেক সরকারি কর্মকর্তার সাথে সরাসরি যোগাযোগ ছিল আল-মাজেদে’র। লেবানন ও সিরিয়ায় যুদ্ধরত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানের একটি অংশের দায়িত্ব ছিল সৌদি এ সন্ত্রাসীর হাতে।
গতকালের আফগানিস্তান থেকে শুরু করে আজকের পাকিস্তান, সিরিয়া ও ইরাকে ইসলামি সরকার গঠনের নামে তত্পর সন্ত্রাসী সংগঠনের প্রায় সবকটির নেতৃত্ব রয়েছে সৌদি সন্ত্রাসীদের হাতে।
আব্দুল্লাহ আজ্জাম ব্রিগেডের কথাই ধরা যাক, আল-মাজেদের পূর্বে আরো দু’জন সৌদি নাগরিক সন্ত্রাসী এ সংগঠনটির নেতৃত্ব দিয়েছেন। এ বিষয়টি কেউ অস্বীকার করেনি যে, এ ধরনের সন্ত্রাসী দলের পেছনে ব্যয়ের জন্য মোটা অংকের অর্থের যোগান একমাত্র তেলের টাকা ব্যতীত পূরণ করা সম্ভব নয়।
এ পর্যন্ত কেউই এ প্রশ্নের উত্তর দেয়নি যে, কেন তাকফিরীরা তাদের জন্মভূমি হতে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে এসে তাদের কথিত ইসলামি বিধান জারী করার লক্ষ্যে মানুষ হত্যা করে?! কেন তারা এ পবিত্র বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য তাদের নিজেদের জন্মভূমিকে বেছে নেয় না? কেন বিন লাদেন ইসলামি সরকার গঠনের জন্য আফগানিস্তানকে বেছে নিয়েছিলেন এবং অন্যরা ইরাক ও সিরিয়াকে বেছে নিয়েছেন?
সত্য কথা হল, উগ্রতা মনোভাবী এ ধরনের ব্যক্তিদেরকে তাদের মাতৃভূমি হতে দূরে রাখা এবং সন্ত্রাসীদেরকে সীমান্তের বাইরে বের করে দেয়ার বিষয় যে স্বয়ং সরকারি পরিকল্পনার আওতাভূক্ত তা অনস্বীকারযোগ্য এক সত্য।
বৈরুতে অবস্থিত ইসলামি ইরানের দূতাবাসে হামলাকারী সন্ত্রাসী দলের নেতার মৃত্যু সংবাদ প্রচারিত হওয়ার পূর্বে ঐ সন্ত্রাসীকে ফিরিয়ে দেয়ার জন্য ৩ বিলিয়ন ডলার ঘুষ দানের জন্য সৌদি আরবের প্রস্তাবের কথা প্রকাশ করে বোমা ফাটিয়েছিল গণমাধ্যম।
আল-মাজেদকে ফিরিয়ে নেয়ার বিষয়ে সৌদি আরবের ব্যর্থতার একটি অংশ স্বয়ং লেবানন সামরিক বাহিনী’র আত্মমর্যাদার সাথে সম্পৃক্ত। যদি আল-মাজেদের অপরাধ শুধু বৈরুতে ইরানি দূতাবাসে হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতো তবে হয়তবা সৌদি আরব কর্তৃক প্রস্তাবিত ৩ বিলিয়ন ডলার ঘুষের প্রস্তাবটি কার্যকর ছিল। কিন্তু চিহ্নিত এ সন্ত্রাসী বহুবার লেবানন সেনাবাহিনী’র বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। অতএব, তাকে বাঁচিয়ে রাখার বিষয়ে কোন প্রকারের গড়িমসি অথবা তাকে সৌদি আরবে নিকট হস্তান্তরের বিষয়টি প্রকৃত অর্থে লেবাননের জাতীয় ভাবমূর্তিতে আঘাত হানতো এবং লেবানন সেনাবাহিনী’র ক্ষমতাও হত প্রশ্নবিদ্ধ। এ কারণেই ঘটনার সমাপ্তি –যেভাবে উল্লেখ হয়েছে- সন্ত্রাসবাদের প্রকৃত মদতদাতাদের মুখোশ উন্মোচনের পূর্বেই ঘটেছে। পাশাপাশি সত্য ব্যতীত সকল পক্ষই এতে লাভবান হয়েছে।
আল-মাজেদকে বহনকারী গাড়ীতে লেবাননীয় সেনাদের হামলায় অপর এক সৌদি নাগরিক গ্রেফতার হয়, যার নিকট সিরিয়ার জাল পাসপোর্টও ছিল বলে জানা গেছে। গণমাধ্যমের সম্ভাবনার ভিত্তিতে ঐ ব্যক্তি সৌদি গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান বান্দার বিন সুলতানের পুত্র। এ সত্ত্বেও কেউ ঐ ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় তুলে ধরেনি। আর যদি গণমাধ্যমের খবর সঠিক হয়ে থাকে তবে কখনই কেউ এ রহস্য সম্পর্কে জানতে পারবে না।

বর্তমানে সিরিয়া, লেবানন ও ইরাকে তত্পর সন্ত্রাসীদের প্রকৃত ইন্ধনদাতাদেরকে বাধা দিতে এর বিরুদ্ধে দৃঢ় সংকল্প প্রয়োজন।
সূত্র : http://www.abna.ir/data.asp?lang=11&id=494225
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭


আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:০১


সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতিঘর (Lighthouse)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৬



বাতিঘর (Lighthouse)

বাতিঘর নিয়ে সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমার অনেক কৌতুহল ছিল। কেন ঐ বয়সেই বাতিঘর নিয়ে আমার এতটা আগ্রহ ছিল, তার কারণ আজও খুঁজে পাই না। অথচ আমি নিজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

×