somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পেটের আলসারের উৎস

০৭ ই এপ্রিল, ২০০৬ বিকাল ৪:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই লেখাটি আমি আমার এক বন্ধুর জন্য পেস্ট করলাম যে কিনা পেটের ব্যাথায় মরে, নাস্তা খায় দুপুর 1 টায়, লানচ বিকাল 6টা....আর রাতের খাওয়া.....সারারাত....ড্যাম!!! এই লেখা পড়ে সে মুক্তি পাক!!

ডা. এমএ হালিম খান
বঙ্গবল্পব্দু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি এক ধরনের পঁ্যাচানো আকৃতির ব্যাকটেরিয়া। মানবদেহের পাকস্ট্থলিকে তার আশ্রয়স্ট্থল হিসেবে বেছে নিতে ভালোবাসে। পাকস্ট্থলি এবং ডিওডেনামের (ক্ষুদ্রান্পের প্রথমাংশ) আলসার রোগের প্রধান কারণ হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি। উল্পম্নত এবং অনুল্পম্নত উভয় বিশ্বেই এ ধরনের জীবাণুর সংত্রক্রমণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ব্রিটেনের 50 বছরের বেশি বয়সের লোকদের শতকরা 50 ভাগ এ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আত্রক্রানস্ন। অনুল্পম্নত বিশ্বে জীবাণু সংত্রক্রমণের হার আশগ্ধকাজনক হারে বেড়েই চলেছে। আরেকটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, অনুল্পম্নত বিশ্বের শতকরা 80 ভাগ প্রাপ্টস্নবয়স্ট্ক লোক এ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আত্রক্রানস্ন। যারা 'ও' রক্তের গ্রুপধারী তারা অন্যান্য রক্তের গ্রুপধারী মানুষের চেয়ে অধিকহারে পাকস্ট্থলি ও ডিওডেনাম আলসারে ভুগে থাকেন। 'ও' গ্রুপধারীরা হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি দ্বারা অধিক হারে আত্রক্রানস্ন হন কি-না এ নিয়ে গবেষণা চলছে।
যেভাবে ছড়ায় : কিভাবে রোগটি ছড়ায় এ বিষয়টি চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের কাছে অসঙ্ষদ্ব। ঘনবসতিপহৃর্ণ এলাকায় যারা বাস করেন তারা এ জীবাণু দ্বারা অধিক হারে আত্রক্রানস্ন হন বিধায় চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, জীবাণুটি মানুষ থেকে মানুষে সংত্রক্রমিত হয়। কীভাবে একজন থেকে অন্যজনের মধ্যে ছড়ায় এ ব্যাপারেও রয়েছে অনেক বিতর্ক। অনেকে মনে করেন, রোগটি একজনের মুখ থেকে অন্য জনের মুখে ছড়ায়। শিশুদের ক্ষেত্রে মুখ এবং পায়ুপথে এটি সংত্রক্রমিত হতে পারে। তবে মানুষের মলমহৃত্র, পানি, খাবার এবং অন্য কোনো প্রাণীর মধ্যে জীবাণুটির অস্টিস্নত্দ্ব মেলেনি। তাই খাবার, পানি এবং অন্য কোনো প্রাণী থেকে রোগ সংত্রক্রমিত হওয়ার কোনো সল্ফ্ভাবনা নেই।
উপসর্গ : জীবাণুর মাধ্যমে সংত্রক্রমণের ফলে মানবদেহে প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো উপসর্গ নাও দেখা দিতে পারে। তবে অনেকের বমি বা বমি বমি ভাব, বুক জ্বালা, নাভির ওপরের পেট ব্যথা প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি মানুষের পাকস্ট্থলির প্রাচীরে প্রদাহের সৃষদ্বি করে। পাকস্ট্থলির এসিড নিঃসরণ বাড়িয়ে এটি পাকস্ট্থলি ও ডিওডেনামে আলসার বা ক্ষতের সৃষদ্বি করতে পারে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, ডিওডেনাম আলসারের শতকরা 90 ভাগ এবং পাকস্ট্থলির আলসারের শতকরা 70 ভাগ সংঘটিত হয় হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি দ্বারা। অনেক সময় ডিওডেনাম বা পাকস্ট্থলির আলসার ফুটো হয়ে মারাত্দ্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। আলসার থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে রোগীকে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে, তা না হলে মৃতু্যর আশগ্ধকা দেখা দিতে পারে।
পাকস্ট্থলির ক্যান্সারেরও প্রধান কারণ হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি। একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, পাকস্ট্থলি বা ডিওডেনাম আলসার থেকে ক্যান্সার হয় না যদি না আলসারটি হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি দ্বারা সংত্রক্রমিত হয়। মোট পাকস্ট্থলির ক্যান্সারের শতকরা 60 থেকে 70 ভাগ ক্ষেত্রে হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরিকে সরাসরি দায়ী করা হয়। যারা অল্কপ্প বয়সে হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি দ্বারা আত্রক্রানস্ন হন পরিণত বয়সে তারা অধিক হারে পাকস্ট্থলির ক্যান্সারে ভুগে থাকেন। প্রাথমিক পর্যায়ে আত্রক্রানস্ন ব্যক্তি সাময়িক সময়ের জন্য পাকস্ট্থলির প্রদাহে ভুগে থাকেন। ক্ষণস্ট্থায়ী পাকস্ট্থলির প্রদাহ থেকে দীর্ঘস্ট্থায়ী পাকস্ট্থলি প্রদাহের সৃষদ্বি হয়। আর দীর্ঘস্ট্থায়ী পাকস্ট্থলির প্রদাহ থেকে অবশেষে সৃষদ্বি হয় পাকস্ট্থলির ক্যান্সারের।
জটিলতা : আগেই বলা হয়েছে, হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি সংত্রক্রমণের কারণে পাকস্ট্থলি এবং ডিওডেনামের প্রাচীর থেকে রক্তক্ষরণ হয়ে তা মলের সঙ্গে পায়ুপথে বেরিয়ে আসতে পারে। এ পরিবর্তিত কাল রক্তযুক্ত মলকে বলা হয় 'মেলেনা'। দীর্ঘদিন ধরে মেলেনা হলে রোগীর মারাত্দ্মক রক্তস্ট্বল্কপ্পতা দেখা দিতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে আলসার থাকলে পাকস্ট্থলির শেষের অংশ (যার নাম পাইলোরাস) সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে খাবার পাকস্ট্থলি থেকে নিচের দিকে নামতে পারে না। এ সময় বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে। অনেক রোগীকে মুখে আঙুল ঢুকিয়ে স্ট্বেচ্ছায় বমি করতে দেখা যায়।
চিকিৎসা : যদি 'এন্ডোস্ট্কোপিক বায়োপসি' বা ইউরিয়া 'ব্রেদটেসদ্ব' অথবা অন্য কোনো পরীক্ষা দ্বারা হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরির উপস্টি্থতি নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করা যায় তাহলে জীবাণুটিকে অবশ্যই দহৃর করতে হবে। তা না হলে আলসার ভালো হবে না। অমিপ্ট্নাজল, ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন ও মেট্রোনিডাজল_ এ তিনটি ওষুধ দ্বারা হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি নিমর্হৃল করার চিকিৎসা পদব্দতিকে বলা হয় 'ট্রিপল থেরাপি'। বর্তমানে হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি দহৃর করার এটিই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য চিকিৎসা। যদি রোগ জটিলতার কারণে পাকস্ট্থলির নিল্ফম্নাংশ সংকুচিত হয়ে যায় তাহলে অপারেশনের মাধ্যমে সংকুচিত অংশটিকে কেটে ফেলে পাকস্ট্থলির সঙ্গে জেজুনাম সংযুক্ত করে এ সমস্যার সমাধান করা হয়।
পাকস্ট্থলি এবং ডিওডেনামের আলসারের জন্য যে হেলিকোব্যাক্টার পাইলোরি দায়ী এ সত্যটি নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করার জন্য অসদ্ব্রেলিয়ার অধিবাসী রয়েল পার্থ হাসপাতালের প্যাথলজিসদ্ব ডা. জেরবিন ওয়ারেন এবং অসদ্ব্রেলিয়ার কুইন এলিজাবেথ মেডিকেল সেন্টারের গবেষক প্রফেসর ব্যারি জেমার্শালকে 2005 সালে চিকিৎসা বিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পুরস্ট্কার দেওয়া হয়।

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮




রুবার সাথে আমার বিয়েটা ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ের মতোই হয়েছে । একদম সাধারন কোনরকম অনুষ্ঠান নাই । সেইদিন অফিসে অনেক কাজ ছিলো । চোখে তারা ফারা দেখছিলাম । বসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথম .........।

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আন্ডারগ্রাউন্ড শোতে এটাই আমার প্রথম ড্রামস বাজানোর একটা মুহূর্ত।

কিছু গল্প আসলে পরিকল্পনা করে শুরু হয় না।কিছু গল্প হঠাৎ করে একটা মুহূর্ত থেকে জন্ম নেয় আর তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমুদ্রের নীল খাম

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২


এই শহরে থাকি প্রায় সাতাশ-আটাশ বছর ধরে। তিন প্রেমিকার মায়া ছেড়ে যাওয়া যায় না এমন এক অদ্ভুত সুন্দর এই শহর। যার এক হাতে নদী, অন্য হাতে সমুদ্র, আর কপালে জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী দুঃশাসনের পতন অনিবার্য ছিল, জুলাই তো স্রেফ উছিলা মাত্র!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮



জুলাই নিয়ে অনেক বিতর্ক, সমালোচনা আছে। কিন্তু, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে জুলাই গণঅভ্যূত্থান না হলে আমরা দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেতাম না। জুলাই ঘিরে যত বিতর্ক, সমালোচনাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুমুখোচিন্তা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:১৬

সব মৃত্যু গণনায় আসে না। রাজনৈতিক সহিংসতার একটি পুরনো নিয়ম আছে। মৃত্যু সমান মৃত্যু নয়। কোনো মৃত্যু পত্রিকার প্রথম পাতায় যায়, কোনো মৃত্যু জয়পুরহাটেই থেকে যায়। এই বাছাইটা দৈবাৎ হয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×