শক্ষাক্ষেত্রে এশিয়ার চেয়ে পিছিয়ে পড়ছে ইউরোপ। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে এশীয়দের তীব্র প্রতিযাগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। সম্প্রতি ফ্রান্স ও জামর্াানিতে পরিচালিত এক জরিপের ফলাফলে এ তথ্য পাওয়া গেছে। গত সোমবার অর্গানাইজেশন ফর ইকোনোমিক কোঅপারেশন এন্ড ডেভলপমেন্ট (ওইসিডি) এর সমীক্ষায় আন্দ্রিয়াস শেলিয়েসার ইউরোপের স্কুল এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তাদের বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে হবে এবং শ্রেণীকক্ষের পক্ষপাত কমাতে হবে। আন্দ্রিয়াস বলেন, একটা সময় ছিল যখন ইউরোপ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতো এবং অপেক্ষাকৃত নিম্ন মজুরিতে কম দক্ষতাসম্পন্ন লোকদের কাজে নিত। এখন আর সে সময় নেই। চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো এখন উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন লোকদের কম মজুরিতে কাজে নিয়োগ করতে শুরু করেছে।
ব্রাসেলসভিত্তিক লিবসন কাউন্সিল, যাদের লক্ষ ইউরোপকে আরো প্রতিদ্বন্দ্বী করে তোলা তাদের সংকলিত এ জরিপে বলা হয়, খেলার আইন এখন পরিবর্তন হয়ে গেছে। আন্দ্রিয়াস অভিযোগ করেন যে, শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যয় বৃদ্ধি, বিশেষ করে মাধ্যমিক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার ক্ষেত্রে আর্থিক সুবিধা বিদেশিদের ভালো করার সুযোগ দিয়েছে। এটি শুধু ব্যক্তির ক্ষেত্রে নয় দেশগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আন্দ্রিয়াস দক্ষিণ কোরিয়ার কথা তুলে ধরে বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে তারা রীতিমত অলৌকিকভাবে এগিয়ে গেছে। 1960 সালে তাদের গড় আয় দক্ষিণ আমেরিকান দেশগুলোর চেয়েও কম ছিল। এখন তাদের শিক্ষার হার 97 ভাগ যা শিল্পোন্নত দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালিসহ বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশ তাদের অর্থনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে সংগ্রাম করে যাচ্ছে, অন্যদিকে জার্মানির অবস্থা পড়তির দিকে। সমীক্ষায় বলা হয়, ফ্রান্স ও জামর্াানি এখন আর জ্ঞান ও দক্ষতার ক্ষেত্রে বিশ্বনেতৃত্বে নেই যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনীতির 35 ভাগ তারাই সরবরাহ করে, যার পরিমাণ প্রায় 11 দশমিক 6 ট্রিলিয়ন ইউরো।
সমীক্ষায় আরো বলা হয়, জার্মান, ফ্রান্স ও ইতালিতে শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক শ্রেণীবৈষম্য রয়েছে যা দূর করতে এগিয়ে আসতে হবে । অনেক দেশের তথ্য উপাত্ত থেকে দেখা যায় ইউরোপীয় স্কুলগুলোতে আর্থ-সামাজিক শ্রেণী বৈষম্য রয়েছে। জামর্াানিতে 10 বছরের শিশুদের মধ্যেও ভোকেশনাল এবং একাডেমিক শিক্ষায় বিভক্তি রয়েছে। সাদা চামড়ার পরিবারগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুযোগ বেশি পায়। ইউরোপীয় দেশগুলোতে শিক্ষা এখনো ক্ষুদ্র শিল্প।
ইউরোপকে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় ফিরিয়ে আনতে আন্দ্রিয়াস সমীক্ষায় পাঁচটি সুপারিশ করেছেন। তিনি বলেন, দেশগুলোকে একটি নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে হবে। উচ্চযোগ্যতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের ফলাফলের জন্য দায়বদ্ধতা তৈরি করতে হবে। ভালো ও স্বচ্ছ স্কুলগুলোয় প্রবেশে আরো সুবিধা দেয়া এবং বেসরকারি তহবিল গঠনে উৎসাহিত করা। এছাড়াও আধুনিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে বিশ্বদ্যিালয়গুলোর কৌশলকে খাপ খাইয়ে নেয়া উচিত।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



