somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিজ্ঞানের ব্যর্থতা নাকি প্রকৃতির বিরূপ পরিবর্তন নীতি বরফাচ্ছন্ন এন্টার্কটিকায় অস্বাভাবিক উষ্ণতা বৃদ্ধি।

০৮ ই এপ্রিল, ২০০৬ দুপুর ১২:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ঊধর্্বগামী হলেও বিগত 30 বছরে বরফাচ্ছাদিত এন্টার্কটিকায় শীতকালীন উষ্ণতা অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়েছে। দক্ষিণ মেরুতে অবস্থিত এ মহাদেশটিতে ওই সময় 2 সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা বেড়েছে বলে নতুন গবেষণায় দেখা গেছে। আশঙ্কার বিষয় হলো, উষ্ণতা বৃদ্ধির এ হার বিজ্ঞানীদের পূর্বানুমানের তুলনায় অনেক বেশি। তাই এটা কি জলবায়ু পরিবর্তন নির্ণায়ক কাঠামোর ব্যর্থতা নাকি প্রাকৃতিক বিরূপ পরিবর্তন নীতি তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন বিজ্ঞনীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের 'সায়েন্স' জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, পুরো এন্টার্কটিকা মহাদেশ ও দক্ষিণ মহাসাগরের বহুলাংশে উষ্ণতার অস্বাভাবিক এ মাত্রা পরিলক্ষিত হয়েছে। এ গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বের বর্তমান জলবায়ু নির্ণায়ক মডেলের যথার্থতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ব্রিটিশ এন্টার্কটিক সার্ভে (বাস) অপ্রত্যাশিত এ উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার নয় বলে জানিয়েছে। তাদের ধারণা, বায়ুমণ্ডলে গ্রিন হাউস গ্যাসের মাত্রা বৃদ্ধি কিংবা এন্টার্কটিকার জলবায়ুর প্রকৃতি পাল্টে যাওয়াই এর কারণ হতে পারে।
এদিকে বিজ্ঞানীরা মহাদেশটির জলবায়ুর এ অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের কারণ খতিয়ে দেখাটাকে জরুরি বলে মনে করছেন। কারণ বরফাচ্ছাদিত এন্টার্কটিকা মহাদেশের যে পানি জমা রয়েছে তা গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের 60 মিটার উচ্চতা বৃদ্ধি করতে সক্ষম।
গত 50 বছরে এন্টার্কটিকায় 2.5 সেন্টিগ্রেড উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে মহাদেশটির সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার সম্পর্কে এখনো কোনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। বিজ্ঞানীরা 1971 এবং 2003 সালের মধ্যে এন্টার্কটিক অঞ্চলে পাঠানো বেলুন থেকে আবহাওয়া সংক্রান্ত নানা তথ্য নিয়ে নতুন করে গবেষণা শুরু করেছে। স্টেশনগুলোর অধিকাংশই মহাদেশটির পূর্বাঞ্চলে স্থাপিত।
গবেষকরা এন্টার্কটিকায় বায়ুমণ্ডলের ট্রোপোস্ফেয়ার (ভূপৃষ্ঠ থেকে তিন মাইল ওপরে বায়ুর স্তর) থেকে নেয়া তথ্যের ওপর গবেষণা চালাতে বেশি আগ্রহী। কারণ বায়ুমণ্ডলের এ স্তরেই পৃথিবীর সঙ্গে তাপের আদান-প্রদান ঘটে সবচে বেশি। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গত তিন দশকে বায়ুমণ্ডলের এ স্তরে 0.5 ও 0.75 সেন্টিগ্রেড হারে উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পৃথিবীর জলবায়ুর এ গোলক ধাঁধা সমাধানে গবেষকরা একটি মডেলে গত শতকে জলবায়ুর 20টি উল্লেখযোগ্য ঘটনার তথ্যকে মিলিয়ে দেখছেন।
টার্নারের মতে, প্রাকৃতিক কারণে জলবায়ুর ওঠানামায় এন্টার্কটিকার তাপমাত্রায় এ ধরনের পরিবর্তন সূচিত হয়েছে অথবা বর্তমানে প্রচলিত জলবায়ু পরিবর্তন নির্ণায়ক মডেল যথার্থ নয়। যুক্তরাজ্যের হ্যাডলি সেন্টার ফর ক্লাইমেট প্রিডিকশন এন্ড রিসার্চের জলবায়ু বিজ্ঞানী ড. জেফ রিডলির বিশ্বাস, প্রচলিত জলবায়ুর পরিস্থিতি নির্ণয়ে মডেলটি মহাদেশটির জলবায়ুর অবস্থা নির্ণয় করতে পারছে না। বিশেষ করে মহাদেশটির জলবায়ুর অবস্থা নির্ণয়ের কাঠামোটি তার কাছে অনুপযুক্ত বলে মনে হয়েছে। তবে তিনি এও বিশ্বাস করেন যে বিদ্যমান মডেলকে পুরোপুরি অবিশ্বাস করাও উচিত হবে না। কারণ বিশ্বব্যাপী জলবায়ুর পরিবর্তন বিষয়ে এ মডেল বেশ ভালো কাজ করছে। বিবিসি

Source: Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

খোঁজা সম্প্রদায়

লিখেছেন কিরকুট, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭

হিন্দু লোহানা জাতি থেকে ধর্মান্তরিত হয়েছিল খোঁজা সম্প্রদায়।মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এই খোঁজা সম্প্রদায়ের মুসলিম ছিলেন এবং শিয়া গোষ্ঠীর আশারি সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন। খোঁজাদের বিশ্বাস এবং ধ্রমীয় আচার-আচরণ সহজে কোন পরিচিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×