যুক্তরাষ্ট্রের 'সায়েন্স' জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, পুরো এন্টার্কটিকা মহাদেশ ও দক্ষিণ মহাসাগরের বহুলাংশে উষ্ণতার অস্বাভাবিক এ মাত্রা পরিলক্ষিত হয়েছে। এ গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বের বর্তমান জলবায়ু নির্ণায়ক মডেলের যথার্থতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ব্রিটিশ এন্টার্কটিক সার্ভে (বাস) অপ্রত্যাশিত এ উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার নয় বলে জানিয়েছে। তাদের ধারণা, বায়ুমণ্ডলে গ্রিন হাউস গ্যাসের মাত্রা বৃদ্ধি কিংবা এন্টার্কটিকার জলবায়ুর প্রকৃতি পাল্টে যাওয়াই এর কারণ হতে পারে।
এদিকে বিজ্ঞানীরা মহাদেশটির জলবায়ুর এ অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের কারণ খতিয়ে দেখাটাকে জরুরি বলে মনে করছেন। কারণ বরফাচ্ছাদিত এন্টার্কটিকা মহাদেশের যে পানি জমা রয়েছে তা গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের 60 মিটার উচ্চতা বৃদ্ধি করতে সক্ষম।
গত 50 বছরে এন্টার্কটিকায় 2.5 সেন্টিগ্রেড উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে মহাদেশটির সার্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার সম্পর্কে এখনো কোনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। বিজ্ঞানীরা 1971 এবং 2003 সালের মধ্যে এন্টার্কটিক অঞ্চলে পাঠানো বেলুন থেকে আবহাওয়া সংক্রান্ত নানা তথ্য নিয়ে নতুন করে গবেষণা শুরু করেছে। স্টেশনগুলোর অধিকাংশই মহাদেশটির পূর্বাঞ্চলে স্থাপিত।
গবেষকরা এন্টার্কটিকায় বায়ুমণ্ডলের ট্রোপোস্ফেয়ার (ভূপৃষ্ঠ থেকে তিন মাইল ওপরে বায়ুর স্তর) থেকে নেয়া তথ্যের ওপর গবেষণা চালাতে বেশি আগ্রহী। কারণ বায়ুমণ্ডলের এ স্তরেই পৃথিবীর সঙ্গে তাপের আদান-প্রদান ঘটে সবচে বেশি। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গত তিন দশকে বায়ুমণ্ডলের এ স্তরে 0.5 ও 0.75 সেন্টিগ্রেড হারে উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পৃথিবীর জলবায়ুর এ গোলক ধাঁধা সমাধানে গবেষকরা একটি মডেলে গত শতকে জলবায়ুর 20টি উল্লেখযোগ্য ঘটনার তথ্যকে মিলিয়ে দেখছেন।
টার্নারের মতে, প্রাকৃতিক কারণে জলবায়ুর ওঠানামায় এন্টার্কটিকার তাপমাত্রায় এ ধরনের পরিবর্তন সূচিত হয়েছে অথবা বর্তমানে প্রচলিত জলবায়ু পরিবর্তন নির্ণায়ক মডেল যথার্থ নয়। যুক্তরাজ্যের হ্যাডলি সেন্টার ফর ক্লাইমেট প্রিডিকশন এন্ড রিসার্চের জলবায়ু বিজ্ঞানী ড. জেফ রিডলির বিশ্বাস, প্রচলিত জলবায়ুর পরিস্থিতি নির্ণয়ে মডেলটি মহাদেশটির জলবায়ুর অবস্থা নির্ণয় করতে পারছে না। বিশেষ করে মহাদেশটির জলবায়ুর অবস্থা নির্ণয়ের কাঠামোটি তার কাছে অনুপযুক্ত বলে মনে হয়েছে। তবে তিনি এও বিশ্বাস করেন যে বিদ্যমান মডেলকে পুরোপুরি অবিশ্বাস করাও উচিত হবে না। কারণ বিশ্বব্যাপী জলবায়ুর পরিবর্তন বিষয়ে এ মডেল বেশ ভালো কাজ করছে। বিবিসি
Source: Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



