বিশ্বনেতৃবৃন্দ মুখে পরিবেশ রক্ষার ইসু্যটিকে যতোটাই অগ্রাধিকার দিক না কেন, বিশ্বে কেবল 6টি দেশ এ পর্যন্তদূষণ প্রতিরোধে 85% বা তার বেশি সাফল্য দেখাতে পেরেছে। দুটি মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এক আন-র্জাতিক সমীক্ষার ফলাফলে সম্প্রতি এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ও কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে গঠিত সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল আর্থ সায়েন্স ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক গত কয়েক বছরের তথ্যের ভিত্তিতে এনভায়রনমেন্টাল পারফরমেন্স ইনডেক্স-2006 শিরোনামে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও দূষণ প্রতিরোধসহ 16টি বিশেষ সমস্যা সমাধানে দেশগুলোর অগ্রগতির তুলনা করা হয়েছে। তালিকাটিতে 133 দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে নিউজিল্যান্ড। দেশটির সাফল্যের সূচক 88%। আজ বুধবার থেকে সুইজারল্যান্ডে শুরু হওয়া ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকে তালিকাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
তালিকাটিতে দেখা যাচ্ছে, দূষণ প্রতিরোধ ও পারিবেশের ভারসাম্য রক্ষার দিক দিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ বেশ খানিকটা এগিয়ে রয়েছে। তালিকার দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের 4টি দেশ: সুইডেন (87%), ফিনল্যান্ড (87%), চেক রিপাবলিক (86%) ও যুক্তরাজ্য (85%)। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান 28 (78.5%)।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলো (বিশেষত আফ্রিকা) পর্যাপ্ত সম্পদের অভাবে জনগণের জন্য সুপেয় জলের ব্যবস্থা করতে পারছে না কিংবা বায়ু দূষণ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। সুতরাং অচিরেই তারা আন-র্জাতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে তেমন আশা করা বৃথা।
তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান শেষ 10টি দেশের মধ্যে। 133টি দেশের পারফরমেন্স ইনডেক্সে বাংলাদেশ রয়েছে 125তম অবস্থানে। সাফল্যের সূচক 43.5%। উপমহাদেশের মধ্যে বাংলাশের পেছনে রয়েছে কেবল পাকিস্তান। দেশটির অবস্থান 127, সাফল্য 41.1%। তালিকার সর্বশেষ দেশ নাইজার। তাদের সাফল্য 25.7%। ইন্টারন্যাশনাল আর্থ সায়েন্স ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক জনিয়েছে, প্রতিবেদন তৈরির আগে বিভিন্ন দেশের গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণের পরিমাণ, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বাস'সংস্থান ব্যবস্থাও পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। আর এসব ক্ষেত্রে একটি দেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব, সম্পদ আহরণ পদ্ধতি, ধনী-দরিদ্রের ব্যবধান যথেষ্ট প্রভাব রাখে বলে প্রমাণ পেয়েছেন তারা। তবে সবকিছুর ওপরে সুশাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, সুশাসন নিশ্চিত না করে পরিবেশ বাঁচনোর চেষ্টা করা অর্থহীন।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সম্পর্কে মন-ব্য করতে গিয়ে ইয়েলের অধ্যাপক গাস স্পেথ বলেন, বিষয়টি গোটা বিশ্বের জন্যই আশঙ্কাজনক। বিশ্বের সবচে ধনী ও ক্ষমতাধর দেশটি যদি পরিবেশ ইসু্যতে এতোটা পিছিয়ে থাকে তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের কারণে অন্যান্য দেশও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সূত্র: বিবিসি
source:http://www.amadershomoy.com/news.php?id=44249&sys=1
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



