somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

দুদিন হরতালে সময় পেলাম তাই ছোট গল্পটা লিখে ফেললাম। প্রথম লেখা কেমন হলো জানি না তবে খুব আনন্দ হচ্ছে। :) :) :)

৩০ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ৯:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সূচনা



লিনার খুব ইচ্ছে সুমনকে নানাপদ রান্না করে খাওয়াবে।এমনিতে লিনার রান্না করার প্রতি এক ধরনের দুর্বলতা আছে। প্রতিটি মেয়ের যেমন থাকে। বিয়ের আগে সে প্রায়ই বিভিন্ন রান্নার বই, টিভি দেখে এটা সেটা বানাতো। ওর বাবা ছিল তার রান্নার একজন অন্ধ ভক্ত। যাই সে রান্না করে তাই বাবার খেতে মজা লাগে। ওর বিয়ের পর বাবা তো নাম ধরে ধরে কতগুলো পদের কথা বলে বললেন ‘তোর মাকে এগুলো শিখিয়ে দিয়ে যাস তো।‘সুমনের সাথে বিয়েটা পুরোই পারিবারিক। বিয়ের দিন পারলারে যাওয়ার আগে তার বাবা তাকে কিছু উপদেশ দিয়েছিলেন। তার মধ্যে একটি ছিল পরিবারের সবার সাথে মিলেমিশে থাকবে। বাবার প্রতিটি কথা সে মেনে চলেছে। সুমন ছেলে হিসেবে চমৎকার। এরকম মা ভক্ত ছেলে এখন খুব কমই দেখা যায়। সুমন কে ভাল লাগার অনেকগুলো কারণের মধ্যে এটা ও একটা। লিনার এই ভাল লাগাটা যে কখন ভালবাসায় রূপ নিয়েছে সে নিজে ও তা জানে না। ভালবাসার মানুষকে নিজের হাতে রান্না করে খাওয়াতে কেনা ভালবাসে?

বাবা, মা আর ছোট বোনকে নিয়ে ছোট পরিবার সুমনদের। পরিবারের ছোট বড় সব ব্যাপারে সুমনের মায়ের সিদ্ধান্তই সব সময় কার্যকর হয়। বিয়ের পর থেকে লিনা দেখছে তার শাশুড়িমা রান্না করেন। মাঝে মধ্যে উনার যখন ইচ্ছে হয় তখন হয়ত ওকে একটা পদ রান্না করতে বললেন। কিন্তু তেল মসলা সব উনি নিজের হাতে দিয়ে যাবেন। ফলে লিনা যা করে তা হল চুলায় রেখে নাড়াচাড়া করা। সুমনের মামী একদিন বলে বসলেন ‘আপা আপনি তো এবার রেস্ট নিতে পারেন, বৌ কে রান্নার দায়িত্ব ছেড়ে দেন।‘ উত্তরে মা বললেন ‘আমার বয়স হয়েছে তোমাকে কে বললো? তাছাড়া ও তো চাকরী করে ও কখন রাঁধবে?’ মামীর উত্তর ‘কেন সকালের টা তো রাঁধতে পারে? আপনি রাতে বলে রাখলেন কি করতে হবে ও করে রাখবে। আপনার আর কষ্ট করে সকালে উঠতে হল না।‘ ‘আচ্ছা আচ্ছা দেখা যাবে?’ বলে একদম অন্য প্রসঙ্গে চলে গেলেন তিনি। এবং আগের মতই সব চলতে লাগলো। চরম অস্বস্তি নিয়ে লিনা প্রতিদিন সকাল বেলা শাশুড়িমায়ের রান্না করা খাবার খেয়ে অফিস যায়।

সুমন আসার অনেক আগেই লিনা বাসায় ফেরে। এই বাসায় বিকেলে নাস্তা হয়না। চায়ের সাথে একটা বিস্কিট অথবা একেবারে কিছুই না খেয়ে এরা বিকেল কাটিয়ে দেয়। মাঝে মাঝে সুমনের মায়ের ইচ্ছে হলে উনি পায়েস বা অন্য কোন বিশেষ নাস্তা বানান। সেটাও অনিয়মিত। সুমন বিয়ের আগে অফিস থেকে সোজা বন্ধুদের আড্ডায় চলে যেত। সেখানে আড্ডার সাথে সাথে বিকেলের নাস্তাও খেয়ে আসতো। ওদের বিয়ের আগে পরে বন্ধুরা কেউ বিয়ে করলো, কেউ ট্রান্সফার হলো, ওদের আড্ডাটা ভেঙ্গে গেল।এখন অফিস থেকে সোজা বাসায়। লিনা দুএকদিন ডালপুরী, আলুপুরী এটা সেটা বানিয়েছে। সুমন আর তার বোন দুজনেই তার নাস্তার ভক্ত হয়ে গেল। কিন্তু সুমনের মা একদিন ও তার বানানো নাস্তা খেলেন না। নানা উছিলা দিয়ে মুড়ি বা বিস্কিট খেয়ে রইলেন।লিনা কষ্ট পেল খুব। এই ঘটনার পর সে নাস্তা বানানো বন্ধ করে দিল। সুমন প্রতিদিন অফিস থেকে বের হওয়ার আগে ফোন করে জিজ্ঞেস করে ‘কি আজ কি বানাচ্ছ?’ সে নিরুত্তর থাকে। সুমন অফিস থেকে যখন অনেক ক্লান্ত হয়ে ফিরে মন মত নাস্তা পায় না তখন কিন্তু ওর উপর রাগ করে। দুই একদিন লিনা ওর সমস্যা বোঝাতে চেয়েছে।কেন ওর ইচ্ছে থাকা সত্ত্বে ও তার প্রিয় মানুষটির জন্য ও কিছু বানায় না।হিতে বিপরীত হয়েছে। ও মানতেই চায় না এগুলো কোন সমস্যা।সুমন বলে ‘মার হয়তো শরীর খারাপ ছিল। তুমি শুধু শুধু মাকে ভুল বুঝছো।‘ লিনা বলে ‘নাহয় বুঝলাম প্রতিদিন বিকেলবেলাতেই মার শরীর খারাপ করে। কিন্তু সেদিন রাতে আমি বিরিয়ানি রান্না করলাম তার এক কণা ও তো উনি খেলেন না। দুপুরের ভাত খেলেন। এটা কি ঠিক করেছিলেন?’ ‘মা ঠিক করলেন কি ভুল করলেন সেটা তোমার বা আমার জাস্টিফাই করা উচিৎ নয়। তোমার আসলে কষ্ট করে আমার জন্য নাস্তা বানাতে ইচ্ছে করে না। তাই এসব উছিলা বের করেছ।‘রাগান্বিত উত্তর সুমনের। লিনা হতভম্ব হয়ে যায়। লিনা শুধু এটুকু বলে ‘কখনো তো মেয়ে হয়ে জন্মাবে না আর বিয়ের পর সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশে নতুন মানুষদের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে ও হবে না কখনো। আমার যদি ক্ষমতা থাকতো তাহলে তোমাকে ইন্টার্নশিপের জন্য মেয়ে বানিয়ে কোন যৌথ পরিবারের বউ করে পাঠাতাম।‘ মনে মনে ভাবে মা ভক্তি ভাল তা বলে অন্ধ ভক্তি কি ভাল?
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×