ভূত বলে সত্যি কিছু আছে কিনা জানি না। তবে ছোটবেলা থেকে আজ পর্যন্ত ভূতের গল্প আমাকে ভীষণ টানে। হরর সিনেমা দেখে আমি এখনো আমি আঁতকে উঠি।খুব ছোটবেলায় নানুবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে অমবস্যার রাতে উঠোনে হোঁচট খেয়ে পড়ে গিয়েছিলাম।নানু থেকে শুরু করে প্রতিটি বয়স্ক মহিলার ধারণা হয়েছিল আমাকে ভূতে থুক্কু জ্বীনে ধাক্কা দিয়েছে। আমার পায়ের ব্যাথা সারানোর থেকে কি করে আমাকে আছর মুক্ত করা যায় সেটা নিয়ে তোলপাড় কান্ড। তখন আমি ক্লাস ফোরে পড়ি।
এরও অনেক আগে যখন স্কুলে ভর্তিও হইনি। একদিন রাতের বেলা শুনলাম আমাদের পাশের বাসার আন্টিকে ভূতে ধরেছে। লোডশেডিং এ পুরো এলাকা অন্ধকার এর মধ্যে এ গা ছমছমে ঘটনা। আমি আর ভাই ছোট ছিলাম বলে আমরা যেতে পারলাম না। আম্মাসহ আপুরা দেখতে গেল।ছোট আপুর কাছ থেকে শুনেছিলাম আন্টি নাকি পুরুষ কন্ঠে চিৎকার করছিলেন।এক পর্যায়ে উনি উনার কোলে থাকা বাচ্চাটাকে ছুড়ে ফেলে দেন।সেদিন রাতে আর ভয়ে দুচোখের পাতা এক করতে পারিনি।
এরপর ভূতের পাল্লায় পড়লাম ফার্স্ট ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষার আগে আগে।খুব মন দিয়ে পড়ছি। রাত তখন দুটোর মত বাজে। বাসার সবাই ঘুমে কাঁদা।আমার পড়ার টেবিলের পাশেই জানালা। চারতলার উপর বাসা।হঠাৎ করে শুনি কে যেন পরিষ্কার গলায় আমার নাম ধরে ডাকছে।মনে হল যেন জানালার বাইরে থেকে শব্দটা আসছে। আমি পড়ি কি মরি করে এক দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে সোজা আম্মার রুমে গিয়ে আম্মাকে ডেকে তুললাম। আম্মাসহ রুমে ফিরে দেখি ছোট আপু খাটে বসে খুব হাসছে। কিরে তোকে ডাকলাম আর তুই দৌঁড় দিলি কেন?
এই গল্পের সূত্রে অন্য একটি গল্প মনে পড়ে গেল।আমার ফুপুর কাছে শুনেছিলাম। ফুপুদের পাশের বাসার এক মেয়ের গল্প।আসল ঘটনা কি জানি না। সে মেয়ে নাকি রাত জেগে পড়ছিল।মেডিকেল ছাত্রী।প্রফের পড়া পড়ছিল। মেডিকেল ছাত্রছাত্রী মাত্রই জানেন কি ভয়ংকর পড়াশুনা করতে হয় প্রফের সময়। জানালার সামনেই তার পড়ার টেবিল।কারেণ্ট ছিল না তাই মোম জ্বালিয়ে পড়ছিল।পড়তে পড়তে হঠাৎ মুখ তুলে সামনে তাকিয়ে দেখে জানালার কাচে একটি মেয়ের প্রতিবিম্ব দেখা যাচ্ছে। মেয়েটা ওর দিকে তাকিয়ে হাসছে এবং মেয়েটা দেখতে হুবহু ওর মত।এরপর মেয়েটার আর সেবছর পরীক্ষা দেয়া হয়নি।আমার ফুপু এত সুন্দর করে যে কোন ঘটনার বর্ণনা দিতেন শুনলে চোখের সামনে সব দেখতে পেতাম। এ গল্প শোনার পর অনেকদিন রাত জেগে পড়তে পারিনি।
এক শীতের রাতে আম্মারা সবাই বিয়ে খেতে গেছে। যথারীতি পরীক্ষা থাকায় যেতে পারিনি।সব জানালা ভাল করে বন্ধ করে পর্দা টেনেটুনে পড়তে বসলাম।হঠাৎ আমার টেবিলের সামনের জানালার পর্দা নিজ থেকেই অল্প অল্প করে সরে যেতে লাগলো।আমার তো হাত পা জমে কাঠ।আমি সোজা সেদিকে তাকিয়ে আছি। টেবিল ছেড়ে উঠতে ও পাড়ছি না। তারপর দেখি পর্দার ওপাশ থেকে বিশাল এক পোকা মহাশয় আবির্ভূত হলেন।এতবড় পোকা আমি আর দেখিনি।পরে আম্মার পোকাটা দেখে বললেন এটা নাকি নারকেল গাছের পোকা।তারপর আবার আমাকে নিয়ে মানে আমার ভূতের ভয় নিয়ে সেই হাসাহাসি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



