somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার-ভালো-থাকা, এবং সেই ছোট নদী

০৪ ঠা মার্চ, ২০০৭ রাত ১:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে
বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে
পার হয়ে যায় গরু, পার হয় গাড়ি...

কাল সন্ধ্যা হতে আমি খুব ভালো আছি। কোনো উৎকন্ঠা নেই- নেই অস্থিরতা। বুকের উপর থেকে চিন্তা নামক এক বিশাল পাথরের অপসারণ হয়েছে। নিজের লাভক্ষতি নিয়ে আমি খুব একটা চিন্তিত হই না; এর মানে এই না যে লাভ হলে আমি দুঃখ পাই কিংবা ক্ষতি হলে আনন্দ। কিন্তু আমার জন্যে অন্য কারো ক্ষতি- সে আমি কল্পনাও করতে চাই না; যা কিনা হতে যাচ্ছিলো।

কিছুদিন আগে আমি পোস্ট দিয়েছিলাম... !@@!535825 !@@!535826 !@@!535827 !@@!535828। সে ভালো-না-থাকার সাথে এই ভালো-লাগার কোনো সম্পর্ক নেই। দুইটা সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি। অন্যভাবে বলতে গেলে আমার অনেক আমির দুই আমির কথা এখানে বলছি। জটিল হয়ে যাচ্ছে কথাগুলো! বাদ দেয়া যাক, ভালো আছি এই ঢের। এতো হিসেব নিকেশের কী আছে! এখন কেউ একজন জিজ্ঞেস করলে বলতে তো পারবোঃ ভালো আছি। বহুদুয়ারী মনের একখানা ভালো থাকলেই হলো।

পোস্টখানা শুরু করেছি ররীন্দ্রনাথের আমাদের ছোট নদী নামক খুবই পরিচিত কবিতাখানা প্রথম তিনটি লাইন দিয়ে। কেন এমন সূচনা তাই বলিঃ কাল আড্ডায় কোনো একজন এই কবিতার আবৃত্তি শুনতে চাইলে আমরা কেউই তা করতে পারেনি। সর্বোচ্চ প্রথম ছয় লাইন পর্যন্ত একজন বলতে পেরেছিলো। আর আমি তো তিন লাইনেই আটকে আছি। কেন এমন হলো? ব্যাপারটা হয়তো এরকম- (আমার ক্ষেত্রে) কবিতাখানা যখন শুরু করেছি ওই তিন লাইনেই শেষ করে দিয়েছি। কখনো এরপরের লাইনগুলো আবৃত্তি করে দেখিনি; আমার এও মনে পড়ে না যে, এই কবিতাখানা আমি কখনো পুরো পড়েছি বলে (কী লজ্জা! কী লজ্জা!)। তাহলে তিন-চারলাইন কিভাবে পারি সেটাও বলতে হয়। প্রথম কারণ হলো মুখে মুখে শুনে, এবং প্রধান কারণ হচ্ছে আমাদের গ্রাম রচনা লিখতে গেলে নদীর কথা লিখতে হতো এবং সেইখানে এই কয়েকটি পংক্তি চলে আসতো।

কাল যখন কবিতাখানার কথা উঠলো তখন নিজেকে কী পরিমাণ অসহায় লেগেছিলো তা বুঝাতে পারবো না। তাই বাসায় ফিরেই এই কবিতার খোঁজ করি আমি আর আমার বন্ধু। সঞ্চয়িতা্থয় খুঁজে পেলাম না। আরেকটা মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমার মা-ও কবিতাখানা আগ্রহী হয়ে উঠলেন এবং তিনি আট লাইন পর্যন্ত প্রায় বলে ফেললেন; বাবাও সাত লাইন পর্যন্ত! কিন্তু তারপর... যাহোক আমার কাছে কবিতাখানার আবৃত্তি ছিলো। সেই খান থেকে রাতে দু'টোর দিকে শুনে শুনে লিখেছে অক্ষরে অক্ষরে। ভুলভ্রান্তি হতেই পারে। এখন টাইপ করতে গিয়ে দু্থখানা ভুল পেয়ে গেছি। আরো হয়তো রয়ে গেছে।

বন্ধুটি নিজে হাতে-লিখা একখানা কপি নিয়ে গেছে।

একটু আগে মা-কে পুরো কবিতাখানা পড়ে শুনিয়েছি। বাবা বাসায় নেই; পরে শুনাবো। ওহ! আমার এক কাজিনও কাল চেষ্টায় ছিলো; তাকেও শুনাতে হবে। অনেক কাজ বাকি!!!

যাহোক, গতরাতের পরিশ্রমের ফসল কবিতাখানা দিলাম যেন আমাদের মতো দুর্গতি কারো না হয়---

[রং=#336699][ইটালিক]আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে
বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে
পার হয়ে যায় গরু, পার হয় গাড়ি
দুই ধার উঁচু তার ঢালু তার পাড়ি
চিকচিক করে বালি কোথা নাই কাদা
একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা
কিচিমিচি করে সেথা শালিকের ঝাঁক
রাতে ওঠে থেকে থেকে শেয়ালের হাঁক

আড়পারে আমবন তালবন চলে
গাঁয়ের বামনপাড়া তারি ছায়াতলে
তীরে তীরে ছেলেমেয়ে নাহিবার কালে
গামছায় জল ভরি গায়ে তারা ঢালে
সকালে বিকালে কভু না্থয়া হলে পরে
আঁচলে ছাঁকিয়া তারা ছোট মাছ ধরে
কালি দিয়ে মাজে থালা, ঘটিগুলি মাজে
বধুরা কাপড় কেঁচে যায় গৃহ কাজে

আষাঢ়ে বাদল নামে নদী ভরভর
মাতিয়া ছুটিয়া চলে ধারা করতর
মহাবেগে কলকল কোলাহল উঠে
ঘোলাজলে পাকগুলি ঘুরেঘুরে ছুটে
দুইকূলে বনেবনে পড়ে যায় সাড়া
বরষার উৎসবে জেগে ওঠে পাড়া।।[/ইটালিক][/রং]

--- দিনঃ ৬৩ বছরঃ ২০০৭
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৭ রাত ২:০৫
১৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হিন্দু মুসলমান ভুলে গিয়ে, আমরা সবাই মানুষ হই

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭



আমি জন্মগত ভাবে মুসলমান।
অবশ্য ধর্মীয় নিয়ম কানুন কিছুই মানতে পারি না। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। এখন তো আর এটা ফকির লালনের যুগ না। মানবিক এবং সচেতন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙ্গের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পিরিট শোন বাই আমেরিকান এয়ারলাইন্স-এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত!

লিখেছেন ঢাকার লোক, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ ভোর ৪:১৫

গতকালের একটা বড় খবর ছিল আমেরিকার একটি অন্যতম জনপ্রিয় বিমান সংস্থা স্পিরিট এয়ারলাইন্স দেউলিয়া হয়ে তাদের সব সেবা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই স্পিরিট অর্থনৈতিক সংকটে হাবুডুবু খাচ্ছিলো,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×