আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে
বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে
পার হয়ে যায় গরু, পার হয় গাড়ি...
কাল সন্ধ্যা হতে আমি খুব ভালো আছি। কোনো উৎকন্ঠা নেই- নেই অস্থিরতা। বুকের উপর থেকে চিন্তা নামক এক বিশাল পাথরের অপসারণ হয়েছে। নিজের লাভক্ষতি নিয়ে আমি খুব একটা চিন্তিত হই না; এর মানে এই না যে লাভ হলে আমি দুঃখ পাই কিংবা ক্ষতি হলে আনন্দ। কিন্তু আমার জন্যে অন্য কারো ক্ষতি- সে আমি কল্পনাও করতে চাই না; যা কিনা হতে যাচ্ছিলো।
কিছুদিন আগে আমি পোস্ট দিয়েছিলাম... !@@!535825 !@@!535826 !@@!535827 !@@!535828। সে ভালো-না-থাকার সাথে এই ভালো-লাগার কোনো সম্পর্ক নেই। দুইটা সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি। অন্যভাবে বলতে গেলে আমার অনেক আমির দুই আমির কথা এখানে বলছি। জটিল হয়ে যাচ্ছে কথাগুলো! বাদ দেয়া যাক, ভালো আছি এই ঢের। এতো হিসেব নিকেশের কী আছে! এখন কেউ একজন জিজ্ঞেস করলে বলতে তো পারবোঃ ভালো আছি। বহুদুয়ারী মনের একখানা ভালো থাকলেই হলো।
পোস্টখানা শুরু করেছি ররীন্দ্রনাথের আমাদের ছোট নদী নামক খুবই পরিচিত কবিতাখানা প্রথম তিনটি লাইন দিয়ে। কেন এমন সূচনা তাই বলিঃ কাল আড্ডায় কোনো একজন এই কবিতার আবৃত্তি শুনতে চাইলে আমরা কেউই তা করতে পারেনি। সর্বোচ্চ প্রথম ছয় লাইন পর্যন্ত একজন বলতে পেরেছিলো। আর আমি তো তিন লাইনেই আটকে আছি। কেন এমন হলো? ব্যাপারটা হয়তো এরকম- (আমার ক্ষেত্রে) কবিতাখানা যখন শুরু করেছি ওই তিন লাইনেই শেষ করে দিয়েছি। কখনো এরপরের লাইনগুলো আবৃত্তি করে দেখিনি; আমার এও মনে পড়ে না যে, এই কবিতাখানা আমি কখনো পুরো পড়েছি বলে (কী লজ্জা! কী লজ্জা!)। তাহলে তিন-চারলাইন কিভাবে পারি সেটাও বলতে হয়। প্রথম কারণ হলো মুখে মুখে শুনে, এবং প্রধান কারণ হচ্ছে আমাদের গ্রাম রচনা লিখতে গেলে নদীর কথা লিখতে হতো এবং সেইখানে এই কয়েকটি পংক্তি চলে আসতো।
কাল যখন কবিতাখানার কথা উঠলো তখন নিজেকে কী পরিমাণ অসহায় লেগেছিলো তা বুঝাতে পারবো না। তাই বাসায় ফিরেই এই কবিতার খোঁজ করি আমি আর আমার বন্ধু। সঞ্চয়িতা্থয় খুঁজে পেলাম না। আরেকটা মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমার মা-ও কবিতাখানা আগ্রহী হয়ে উঠলেন এবং তিনি আট লাইন পর্যন্ত প্রায় বলে ফেললেন; বাবাও সাত লাইন পর্যন্ত! কিন্তু তারপর... যাহোক আমার কাছে কবিতাখানার আবৃত্তি ছিলো। সেই খান থেকে রাতে দু'টোর দিকে শুনে শুনে লিখেছে অক্ষরে অক্ষরে। ভুলভ্রান্তি হতেই পারে। এখন টাইপ করতে গিয়ে দু্থখানা ভুল পেয়ে গেছি। আরো হয়তো রয়ে গেছে।
বন্ধুটি নিজে হাতে-লিখা একখানা কপি নিয়ে গেছে।
একটু আগে মা-কে পুরো কবিতাখানা পড়ে শুনিয়েছি। বাবা বাসায় নেই; পরে শুনাবো। ওহ! আমার এক কাজিনও কাল চেষ্টায় ছিলো; তাকেও শুনাতে হবে। অনেক কাজ বাকি!!!
যাহোক, গতরাতের পরিশ্রমের ফসল কবিতাখানা দিলাম যেন আমাদের মতো দুর্গতি কারো না হয়---
[রং=#336699][ইটালিক]আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে
বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে
পার হয়ে যায় গরু, পার হয় গাড়ি
দুই ধার উঁচু তার ঢালু তার পাড়ি
চিকচিক করে বালি কোথা নাই কাদা
একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা
কিচিমিচি করে সেথা শালিকের ঝাঁক
রাতে ওঠে থেকে থেকে শেয়ালের হাঁক
আড়পারে আমবন তালবন চলে
গাঁয়ের বামনপাড়া তারি ছায়াতলে
তীরে তীরে ছেলেমেয়ে নাহিবার কালে
গামছায় জল ভরি গায়ে তারা ঢালে
সকালে বিকালে কভু না্থয়া হলে পরে
আঁচলে ছাঁকিয়া তারা ছোট মাছ ধরে
কালি দিয়ে মাজে থালা, ঘটিগুলি মাজে
বধুরা কাপড় কেঁচে যায় গৃহ কাজে
আষাঢ়ে বাদল নামে নদী ভরভর
মাতিয়া ছুটিয়া চলে ধারা করতর
মহাবেগে কলকল কোলাহল উঠে
ঘোলাজলে পাকগুলি ঘুরেঘুরে ছুটে
দুইকূলে বনেবনে পড়ে যায় সাড়া
বরষার উৎসবে জেগে ওঠে পাড়া।।[/ইটালিক][/রং]
--- দিনঃ ৬৩ বছরঃ ২০০৭
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৭ রাত ২:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



