somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোস্তাফিজ ফরায়েজী জেরী
মোস্তাফিজ ফরায়েজী জেরী

গল্পঃ গালিবের প্রেম [পর্ব-০১]

২৪ শে জুন, ২০১৪ সকাল ১১:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গালিব অতি সাধারণ ছেলে, ঢাকাতে এক পাবলিক ভার্সিটিতে পড়ে। রুম থেকে বের হবার সময় গায়ে বডি স্প্রে না দিয়ে গালিব মাথায় আচ্ছা মত খাঁটি সরিষার তেল মর্দন করে। জামার উপরের বোতামটা এটে নকিয়া ১১০০ মডেলের ফোন হাতে নিয়ে বের হয় গালিব, কাঁধে থাকে একটা কবিয়ালি ব্যাগ। বন্ধুরা তাকে ‘আবুল’ বলে সম্বোধন করে।

যেখানে বন্ধুরা এন্ড্রয়েড ফোন নিয়ে ফেচবুকিং নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তখন গালিব তার ১১০০ মডেলের নকিয়াটি ঝাঁকিয়ে আলো ঠিক করে সময় দেখে। মাঝে মাঝেই তাকে ফোনটা নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়। কথা বলতে বলতে হুট করে বন্ধ হয়ে যায় তার ফোন। তখন ফোনটাকে জোরে একটা আছাড় দেয় গালিব। এই আছাড়েই তার ফোনের সার্ভিসিং হয়ে যায়। ফোন সার্ভিসিং-এর এই আজব পন্থা গালিবের একান্ত নিজস্ব।

সেদিন ক্যাম্পাসে যাবার পর তার বন্ধু ইমন তাকে ডেকে বলে, ‘এই আবুল, এদিক আয়। দেখ দেখ ঐ মেয়েটা কত সুন্দুর!’

গালিব জানে এখন তাকে নিয়ে স্পস্ট তামাশা হবে। ইমনের কথায় গালিব মাথা নিচু করে মাটির দিকে তাকিয়ে থাকে। গালিব মনে করে, মেয়েদের দিকে এক পলকের বেশী তাকালে পাপ হয়। তবে এই একপলকেই মেয়েটির সৌন্দর্য দর্শন তার শেষ, আসলেই দেখার মত রমণী সেই মেয়েটি।

আরেক বন্ধু শরিফ বলে, ‘তোকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না রে। দেখ আমি কিভাবে মেয়েটাকে ইমপ্রেস করি।’

এই বলে শরিফ গেল সেই মেয়ের দিকে। কিছুক্ষণ বুক ফুলিয়ে মেয়েটির চারপাশ ঘুরে শেষে মাথা চুলকাতে চুলকাতে ফিরে আসলো। মেয়েটিকে কিছু বলার সাহস হয় না শরিফের। ফিরে এসে বলে, ‘ইমন রে, বড় আপু মনে হয়!’

ইমন বলে, ‘তুই যে কত পারিস আমার জানা আছে। এরকম ডজন ডজন মেয়ে আমার পকেটে থাকে বুঝলি!’

এমন সময় ইমনের ফোনে একটা ফোন আসে। ইমন তার এন্ড্র্য়েড ফোনটা পকেট থেকে বের করে। ওপাশ থেকে কিছু বলার আগেই ইমন বলে, ‘ময়না পাখি, তুমি কেমন আছো?’

তার একটু পর রাগত কণ্ঠে ইমন বলে, ‘কি কইলা তুমি? এই কইলাম, আর কখনো ফোন দিবা না তুমি।’

এসব কাণ্ড কারখানা দেখে গালিব মুচকি হাসে। ইমন প্রথমে ইতস্ততঃ হয়, পরে নিজেকে স্বাভাবিক করে তাচ্ছিল্য স্বরে বলে, ‘কি বুঝলি রে আবুল? এটা তো কেবল একটা গেল।’

গালিব তার নকিয়া ১১০০ ফোনটা বের করে দু’চার ঝাঁকি দিয়ে আলো এনে সময় দেখে বলে, ‘চল, ক্লাসের সময় হয়েছে।’

ক্লাসে প্রথম সারির এক কোনায় গালিবের অবস্থান। ক্লাস রুমের কিংবা শিক্ষকের পরিবর্তন হলেও তার অবস্থানের কোন পরিবর্তন হয় না।

ক্লাস রুমে নাম প্রেজেন্টের সময় প্রতিদিন গালিবকে পড়তে হয় বিপদে। অন্যরা যখন হর হামেশে ‘ইয়েস স্যার’ কিংবা ‘প্রেজেন্ট স্যার’ বলে, গালিব তখন বলে, ‘উপস্থিত’। অনেক কষ্ট করেও গত তিন বছরে নাম প্রেজেন্টের সময় গালিব ‘ইয়েস স্যার’ কিংবা ‘প্রেজেন্ট স্যার’ আনতে পারে নি। এই দুইটা শব্দ যেন তার জম। রুমে আয়নার সামনে ফার্স্ট ইয়ারে কত প্র্যাকটিস করেছে গালিব, তবে স্যার নাম প্রেজেন্টের সময় যেই বলেছে, ‘একুশ!’ অথবা ‘টোয়েন্টি ওয়ান’, গালিবের মুখ থেকে অটোমেটিক বের হয়ে গেছে, ‘উপস্থিত!’

ক্লাসের কোন মেয়ে গালিবের দিকে ফিরে তাকায় না। হয়তো সে দেখতে কালসিটে কিংবা তার হাতে নকিয়া ১১০০ থাকে বলে।

এসকল নানাবিধ কারণে আজকাল গালিবের নিজেরও ইচ্ছে হয় একটা প্রেম করে বন্ধুদের দেখিয়ে দিতে। তবে যখনই সে তার কালসিটে মুখটা আয়নাতে দেখে তখনি তার মন খারাপ হয়ে যায়। তার মনে প্রশ্ন জাগে, এই কালসিটে ছেলের সাথে প্রেম করবে কে?

তার রুমের আর সবাই প্রেম করে, রাতের পর রাত জেগে ফোনে খুনসুটি করে। তবে সে যে বড্ড একা। বাবা-মাকে হারানো একটি ছেলে কত কষ্ট করে এত পর্যন্ত এসেছে তার কোন ব্যাখ্যা নেই। এতিমখানা থেকে ভার্সিটিতে আসতে কারো জীবনে কত সংগ্রাম থাকে তা শুধু যার জীবন সেই বোঝে। তাই বলে কি তার সাধ-আহ্লাদ থাকবে না?

তাই সহজ-সরল গালিব একদিন ঠিক করে বসে যে করেই হোক সে প্রেম করবেই।

[চলবে...............]
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্প চাচা ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫


সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ভোট দিয়ে এসে অনেকক্ষণ ধরেই অপক্ষো করছিলাম কখন সন্ধ্যা হবে সে প্রত্যাশায়। সন্ধ্যার পর মোটামুটি বসে গিয়েছিলাম ফলাফলের উপর টেলিভিশনে বিশেষ আলোচনা দেখার জন্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্ধ দুয়ার"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪


"বন্ধ দুয়ার"

ক্লান্ত এ সপ্তাহে শুনি, আজ কারো কাজ নাই,
বন্ধ কারখানায় তালা, কোথা যাব তবে ভাই?
ছুটা বুয়া হয়ে খাটা, সে সুযোগও মেলা ভার,
তরুণী দেখিয়া মোরে, কেহ খোলে না যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

"আমেরিকাকে আবার মহান করব" বলে এসে যিনি দুনিয়ার সবাইকে বিরক্ত করলেন, ভোটাররা তাঁকে জানিয়ে দিলেন: হুমকি ধমকি আর উম্মাতাল আঁতলামির... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×