somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোস্তাফিজ ফরায়েজী জেরী
মোস্তাফিজ ফরায়েজী জেরী

গল্পঃ বাঘ মামার রাজত্বে আফ্রিকার সিংহ

২৫ শে জুন, ২০১৪ সকাল ৯:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বাঘ মামা চিন্তায় চিন্তায় শেষ। সুদূর আফ্রিকা থেকে এক সিংহ এসেছে তার রাজত্বে। রাজ্য দখল করেই নাকি ক্ষান্ত হবে সিংহ। শিয়াল পণ্ডিত যেমন বাঘের ভয়ে ভয়ে ঘুরে বেড়াত, তেমনি বাঘ মামা সিংহের ভয়ে পালিয়ে বেড়াতে লাগল। বাঘ মামা ভয়ে ভয়ে থাকে, কবে জানি দেখা হয়ে যায়! দেখা হলেই তো বাঘে-সিংহে যুদ্ধ বেঁধে যাবে। আর সেই যুদ্ধে যে জিতবে, সেই হবে রাজা। বাঘ মামা আগেও শুনেছে আফ্রিকার সিংহ নাকি ভয়ঙ্কর হয়।
এদিকে রাজ্য জুড়ে একটা কথা ছড়িয়ে পড়তে লাগল, ‘সিংহ হলো বনের রাজা’।

আর একেকজন বাঘ মামাকে এসে একেক রকম কথা বলতে লাগল। বানর এসে বলল, ‘ইয়া বড় বড় থাবা সিংহের!’

বাঘ মামাতো আরো ভয় পেয়ে গেল। এরকম দুর্দিন যখন চলছে হঠাৎ একদিন শিয়াল পণ্ডিত এসে হাজির।
এসেই বলে, ‘মামা কিছু কাজে শহরে গিয়েছিলাম। লোকজন এখন বড্ড পাল্টে গেছে মামা! কত কি নতুন যন্ত্র-তন্ত্র আবিষ্কার করে ফেলেছে।’

বাঘ মামার মুখে কথা নেই। গম্ভীর মুখ করে বসে আছে। শিয়াল পণ্ডিত বুঝতে পারে মামা চিন্তায় আছে।

শিয়াল পণ্ডিত বলে, ‘মামা কি এমন চিন্তায় আছো?’

তবু বাঘ মামার সাড়া-শব্দ নেই। শিয়াল পণ্ডিত অবস্থা বুঝে বিদায় নিয়ে চলে গেল সেদিন।

পরদিন দাঁত বের করে হাসতে হাসতে শিয়াল পণ্ডিত হাজির। এসেই বলে, ‘মামা, মামা, সিংহ হল বনের রাজা! তুমি হলে তাহার প্রজা!’

বাঘ মামা বলে, ‘ঠাট্টা মশকরা রাখ, এখন কি করা যায় বল। সারা জীবন তো আমাকে ধোকা দিয়ে পগার পার। এবার না হয় আমার একটা উপকার কর!’

শিয়াল পণ্ডিত ভাবে, ঠিকই বলেছে মামা। আসলেই মামার জন্য কিছু একটা করতে হবে।
শিয়াল পণ্ডিত বলে, ‘নো চিন্তা মামা। তুমি এক কাজ করো, সিংহকে তোমার বাসায় দাওয়াত করো।’

সিংহকে ঘরে ডেকে আনা মানে বিপদকে ঘরে ডেকে আনা। তাই বাঘ মামা বলে, ‘কি সব আহাম্মকের মত কথা বলিস!’

শিয়াল পণ্ডিত বলে, ‘আরে মামা, কাছে না পেলে সিংহকে শায়েস্তা করব কিভাবে? তুমি শুধু দাওয়াত করো। বাকীটা আমার উপর ছেড়ে দাও। আর সিংহ দাওয়াত খেতে আসলে তুমি শুধু চুপচাপ থাকবে, বাকীটা আমি দেখবো।’

ভাগ্নে বারবার ধোকা দিলেও তাকে অগাধ বিশ্বাস করে বাঘ মামা। তাই সিংহকে দাওয়াত করল বাঘ মামা। আর এদিকে শিয়াল পণ্ডিত অনেক খুঁজা-খুঁজি করে একটা ফাঁদ খুঁজে বার করলো। ফাঁদের উপর নানা রকম ফুল ছিটিয়ে ফাঁদকে ভালোমত ঢেকে দিল।

সিংহ যথাসময়ে এসে হাজির। শিয়াল পণ্ডিত সিংহকে দেখে চিৎকার করে বলতে লাগল, ‘সিংহ হল বনের রাজা! সিংহ হল বনের রাজা!’

বাঘ তো শিয়ালের মুখে একথা শুনে মনে মনে রেগে অস্থির। কিন্তু সিংহের বিরাট দেহ দেখে ভয়ে কিছুই বলতে পারল না।
সিংহ বাঘ মামার দিকে আড় চোখে তাকায়।

শিয়াল পণ্ডিত সিংহকে বলল, ‘রাজা মশাই, এ বনের একটা রীতি আছে। রাজাকে খেতে হয় রাজার আসনে বসে।’

বাঘ মামাতো অবাক। বনের রাজার আসন, একথা তো এই প্রথম শুনল সে। আবার মনে মনে রাগ করল শিয়ালের উপর। এত দিন মামা রাজা ছিল, তার জন্য কোন আসন নেই, আর সিংহ আসতে না আসতেই তার জন্য আসনও তৈরী হয়ে গেল। শিয়াল পণ্ডিত সিংহের এত বেশী চামচামি করতে লাগল যে, বাঘ তাকে সন্দেহ করতে লাগল।

শিয়াল পণ্ডিত সিংহকে সেই ফুলে ঢাকা ফাঁদের কাছে নিয়ে গেল। বাঘও তাদের পিছু পিছু গেল।

শিয়াল পণ্ডিত সিংহকে বলল, ‘ঐ যে রাজার আসন। আপনি ওখানে গিয়ে বসুন, আপনার খাবার চলে আসবে।’

বোকা বাঘ মামা ভাবল- এত বড় সাহস, আমার আসনে সিংহ বসবে!

যেই ভাবা সেই কাজ! বাঘ মামা এক লাফে সেই ফুলে ঢাকা ফাঁদের উপর গিয়ে পড়ল, আর সাথে সাথে ফাঁদে আটকা পড়ল।

শিকারিরা চিৎকার করতে করতে ফাঁদে আটকা পড়া বাঘকে ধরতে আসলো। শিয়াল পণ্ডিত সুযোগ বুঝে সটকে পড়ল। আর সিংহও শিকারিদের তাড়া খেয়ে প্রাণ নিয়ে আফ্রিকাতে পালিয়ে বাঁচল। আর কোনদিন এদিকে আসল না শিকারিদের ভয়ে।
শিয়াল পণ্ডিত শান্তিতে দিন কাটাতে লাগল।

---- সমাপ্ত ---
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জুন, ২০১৪ সকাল ৯:৪১
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্প চাচা ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫


সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ভোট দিয়ে এসে অনেকক্ষণ ধরেই অপক্ষো করছিলাম কখন সন্ধ্যা হবে সে প্রত্যাশায়। সন্ধ্যার পর মোটামুটি বসে গিয়েছিলাম ফলাফলের উপর টেলিভিশনে বিশেষ আলোচনা দেখার জন্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্ধ দুয়ার"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪


"বন্ধ দুয়ার"

ক্লান্ত এ সপ্তাহে শুনি, আজ কারো কাজ নাই,
বন্ধ কারখানায় তালা, কোথা যাব তবে ভাই?
ছুটা বুয়া হয়ে খাটা, সে সুযোগও মেলা ভার,
তরুণী দেখিয়া মোরে, কেহ খোলে না যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

"আমেরিকাকে আবার মহান করব" বলে এসে যিনি দুনিয়ার সবাইকে বিরক্ত করলেন, ভোটাররা তাঁকে জানিয়ে দিলেন: হুমকি ধমকি আর উম্মাতাল আঁতলামির... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×