somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ শিয়াল পণ্ডিত, বাঘ এবং কাঠুরিয়ার গল্প

১১ ই জুলাই, ২০১৪ সকাল ১০:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



অনেক অনেকদিন দিন আগের কথা। তখন বাঘ, শিয়াল আর মানুষেরা একি ভাষায় কথা বলত। একদিন শিয়াল পণ্ডিত দেখে এক কাঠুরিয়া বনের মাঝে বসে কাঁদছে আর মাথা হাত দিয়ে চাপড়াচ্ছে। শিয়াল পণ্ডিত বলে, ‘কাঠুরিয়া ভাই, কি হয়েছে?’

কাঠুরিয়া কাঁদো কাঁদো মুখে বলে, ‘কি আর বলব ভাই, আমার ছেলেটার হয়েছে মরণ জ্বর। কবিরাজ মশাই বলেছে এই অসুখের মাত্র একটা ওষুধই আছে।’

একথা বলেই হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে কাঠুরিয়া।

শিয়াল পণ্ডিত বলে, ‘কি সেই ওষুধ?’

কাঠুরিয়া বলে, ‘আমি বলতে পারব না, এই ওষুধ আমার ধরা ছোঁয়ার বাইরে।’

শিয়াল পণ্ডিত বলে, ‘বলই না ভাই, যে করেই হোক সেই ওষুধ আমি এনে দেবই।’

কাঠুরিয়া বলে, ‘তাহলে শোন ভাই। এ অসুখের একমাত্র ওষুধ হচ্ছে বাঘের দুধ। বাঘ মামার কাছে যদি আমি এই আবদার নিয়ে যায়, তাহলে নিশ্চিত ঘাড় মটকে দেবে আমার। আবার না গেলে আমার ছেলেটা মরে যাবে।’

শিয়াল পণ্ডিত বলে, ‘তুমি চিন্তা করো না, কালকেই তুমি বাঘের দুধ পেয়ে যাবে।’

কাঠুরিয়া মনে আশা নিয়ে বাড়ি ফিরল।

এদিকে শিয়াল পণ্ডিত বাঘ মামার কাছে যেয়ে বলে, ‘বাঘ মামা, বাঘ মামা! শুনেছ কি ঘটনা ঘটেছে?’

বাঘ মামা বলে, ‘নতুন আবার কি ঘটল রে ভাগ্নে?’

শিয়াল পণ্ডিত বলে, ‘মামা শুনলাম, এক কাঠুরিয়ার নাকি একটা খুব সুন্দর মেয়ে আছে। মেয়েটার নাকি বিয়ে দেবে কিন্তু বিয়ের জন্য কাউকে খুঁজে পাচ্ছে না। তুমি বিয়ে করে ফেল মামা। মেয়েটা নাকি সেইরকম রূপবতী। পুরো রাজ্যে মেয়ের রূপের গুণ-গান।’

বাঘ মামা বলে, ‘কি যে বলিস, কত বীর আছে এরকম রূপবতীকে বিয়ে করার জন্য!’

শিয়াল পণ্ডিত বলে, ‘দেন মোহরের কথা শুনে বীরেরা সব পালিয়েছে মামা। তোমার মত বীর কি এ জগতে আছে মামা?’

বাঘ মামা বলে, ‘কি এমন দেন মোহর রে হতচ্ছাড়া?’

শিয়াল পণ্ডিত বলে, ‘বাঘের দুধ মামা।’

বাঘ মামা বলে, ‘তাই বলি। তাহলে বিয়েটা এবার করেই ফেলি, কি বলিস?’

শিয়াল পণ্ডিত ভাবল, এইতো সুযোগ।

শিয়াল পণ্ডিত বলে, ‘এমন সুন্দরী মেয়ে আর পাবে না মামা, এবার বিয়েটা করেই ফেল। তবে মামা দেন মোহর কিন্তু কালকেই দিতে হবে।’

বাঘ মামা বলে, ‘ও তুই চিন্তা করিস না ভাগ্নে। কালকেই পেয়ে যাবি।’

পরেরদিন শিয়াল পণ্ডিত বাঘ মামার কাছে যেয়ে দেখে বাঘ মামা ঠিকই বাঘের দুধ জোগাড় করে রেখেছে। শিয়াল পণ্ডিত সেই দুধ নিয়ে কাঠুরিয়াকে দিয়ে আসে। বাঘের দুধ খেয়ে কাঠুরিয়ার ছেলেও সুস্থ হয়ে উঠল।

এদিকে শিয়াল পণ্ডিত লাপাত্তা। বাঘ মামাতো তাকে বাগেই পাচ্ছিল না। তাই একদিন বাঘ মামা শিয়াল পণ্ডিতের বাড়িতে গিয়ে হাজির।

শিয়াল পণ্ডিতকে বাঘ মামা বলে, ‘কি রে হতচ্ছাড়া, দেন মোহর নিলি, আমার বিয়ে কবে দিবি?’

শিয়াল পণ্ডিত বলে, ‘চল মামা আজকেই চল।’

বাঘ মামাকে সাথে নিয়ে শিয়াল পণ্ডিত কাঠুরিয়ার বাড়িতে রওনা দিল। কাঠুরিয়ার বাড়ির আঙিনায় কাছে গিয়ে শিয়াল পণ্ডিত দেখে কাঠুরিয়ার ছেলে খেলা করছে।

আর কাঠুরিয়া হাতে কুঠার নিয়ে রাগে ফুঁসছে আর বলছে, ‘এ কি হয়ে গেল আমার! হতচ্ছাড়া বাঘের দুধ খেয়ে আমার সুন্দরী মেয়েটা ছেলে হয়ে গেল। হতচ্ছাড়া বাঘটা আসুক। আজকে বাঘের একদিন না হয় আমার একদিন।’

বাঘ মামাতো এ কাণ্ড দেখে শিয়ালকে নিয়ে এক ছুটে বনে চলে গেল।

বাঘ মামা হাঁপাতে বলে, ‘কি হয়ে গেল রে ভাগ্নে? কাঠুরিয়া তো আমাকে মারার জন্য খুঁজছে।’

শিয়াল পণ্ডিতও হাঁপাতে হাঁপাতে বলে, ‘বাঘের দুধ মামা, বাঘের দুধ। বাঘের দুধের যে এত শক্তি তা তো জানতাম না।’

বাঘ মামা বলে, ‘আমিও জানতাম না রে হতচ্ছাড়া।’

--- সমাপ্ত ---
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×