লেখাটি ৩১.১২.২০১৩ তারিখে লেখা হলেও পোস্ট করা হয়ে ওঠেনি। আজ বিভিন্ন ফাইল ঘাটতে গিয়ে বের হল।
“সমাজতন্ত্র যাদের আরাধ্য কিংবা আগ্রহ, নকশাল আন্দোলনের নাম যারা শুনে থাকবে অথবা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে যাদের বাড়ি ‘শ্রেণীশত্রু’ শব্দটা তাদের বড় চেনা। যাদের চেনা নাই তারা ঘরের শত্রু বিভীষণের সাথে মিলিয়ে নিতে পারেন। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য যদিও এক কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণে বড় অন্তরায় হয়ে দাড়ায় শ্রেণী শত্রুরা। ইসলাম কায়েম করা যদি মুসলিমের মকসদ হয় তবে বিধর্মী ইহুদি-খ্রিস্টানদের হাতে যত না মুসলিম শাহাদাত বরণ করেছে তার ঢের বেশি প্রান দিয়েছে শিয়া-সুন্নি সংঘর্ষে। নকশাল বা সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা যাদের আদর্শ, তারা শোষণ মুক্ত সমাজ গড়তে গিয়ে আগে নিজ শ্রেনিভুক্ত ভাইদের আগে খতম করেছে, আমার মত দক্ষিণ-পশ্চিমের মানুষ এই কমরেডদের প্রতিদিন স্মরণ করত আজ ৪/৫/৬ টা লাশ পড়েছে। জামায়াত-হেফাজত-আহলে হাদিস-তাব্লিগদের যারা মুসলিম উম্মাহ বলে এক সুত্রে গাথেন তাদের বলি, এদের শ্রেণী শত্রুতা সবচাইতে বেশি, এদের আত্মীয়তা, বন্ধুত্ব এমনকি মসজিদ পর্যন্ত আলাদা যেমন আলাদা ব্রাহ্মণ-শূদ্রের। অসাম্প্রদায়িক, সমাজতান্ত্রিক বাংলাদেশ ছিল আওয়ামীলীগ ও বাম ঘরানার দলগুলোর আদর্শ যে আদর্শকে ধারণ করে সহস্র প্রান বলিদানের মাধ্যমে পেয়েছিলাম সোনার বাংলাদেশ। আপসোস, স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে আওয়ামীলীগকে সবচাইতে বিপদে ফেলেছিল জাসদ, বাসদ’রা পক্ষান্তরে হাজার হাজার বাম ঘরানার কমরেডদের হত্যা করা হয়েছিল রক্ষীবাহিনী দিয়ে। এবছরের গোঁড়ার দিকে প্রতিষ্ঠা পাওয়া গণজাগরণমঞ্চ আদর্শিক দিক দিয়ে আপাত দৃষ্টিতে আওয়ামীলীগের সমমনা বা শ্রেণীভুক্ত মনে হলেও সাধারণ ধর্মপ্রান অনেক মুসলিমদের মনে আওয়ামীলীগের সম্মন্ধে বিদ্বেষ ছড়িয়েছে। সাম্প্রতিক বাম নেতাদের আম্লিগ নেতাদের চেয়েও বড় আম্লিগ বনে যাওয়া সেই সন্দেহকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। গণজাগরণমঞ্চ আওয়ামীলীগের শ্রেণীশত্রু হয়ে দাঁড়াবে কিনা তা সময়ই বলে দেবে।”

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



