somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভ্রমণ_আজমীরিগঞ্জ

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আলোর রঙ

যেভাবে গিয়েছিলাম আজমীরিগঞ্জ...

সেদিন ছিল নবমীর রাত, সন্ধ্যায় আজমীরিগঞ্জ উপজেলা কমপ্লেক্সে ঘোরাঘুরি করে বেরুলাম একসাথে সবাই পূজা দেখতে। বস্তুত গ্রামে পূজামন্ডপে ঘুরে পূজা দেখা আমার এই প্রথম, ধূপ আর আগুন নিয়ে নৃত্যও দেখলাম প্রথম পূজামন্ডপে।শুনলাম রাতে যাত্রাপালা হবে- যাত্রা এর আগে কখনো দেখি নি বলে চরম আগ্রহ হলো। ম্যাজিষ্ট্রেট সাহেবের উপস্থিতির কারণে বিশেষ খাতির পেলাম সব জায়গায়, ট্রাইপড ছাড়া ছবি তোলার ব্যর্থ প্রচেষ্টাও চালালাম।


দুর্গতিনাশিনী


আলোর নাচন

পরদিন সকালে বাসার সামনের পুকুরের টলটলে জলে আমার ভাগ্নে আর ভাতিজা (হ্যা, দুই বছর চার মাসের ভাতিজা আমার সাঁতার জানে) সাঁতরাচ্ছিল, হিংসায় আমার গা জ্বলে যাচ্ছিল। একা একাই বের হয়েছিলাম (মাঝপথে ভাবী জোর করে পিয়ন একজন দিয়ে দিল সাথে), রাতে যেদিক গিয়েছিলাম তার উল্টোদিকে হাঁটতে হাঁটতে বার বারই চোখ চলে যাচ্ছিল রাস্তার পাশের ঝোঁপের ছোট্ট ছোট্ট বুনোফুলে (বুনোফুলের পোস্টের বেশীর ভাগ ছবি সে সময়ে তোলা)।


জল-কেলি


যে জীবন ফড়িং এর ১


যে জীবন ফড়িং এর ২


প্রতীক্ষা ১


জা-ল


ভাগ্নে আমার

বেলা বাড়লে রওয়ানা দিলাম ফুপির বাড়ীর উদ্দেশ্যে, নদীপথে চল্লিশ মিনিটের রাস্তা পিটুয়ারকান্দী। ফুপাতো বোনের বর এল আমাদের নিতে, যাকে এই প্রথম দেখলাম। খুব লজ্জা পেলাম এই ভেবে যে আমার ফুপাতো বোনের পিচ্চিটাকে অনেকক্ষণ ঘাটের দোকানে বসে দেখছিলাম, জানতাম না সে আমারই ভাগ্নে! যাই হোক, ফুপুর বাসায় কী আবেগঘন পরিবেশ তৈরী হয়েছিল তার বর্ণনা দেওয়ার দরকার নেই মনে হয়! বাড়ীর সামনে একটা পুকুর, পুকুর ছাড়িয়ে হাওর; বাড়ীর পেছনে আরেকটা পুকুর আর সেই পুকুর ছাড়িয়ে নদী- ভৈরবগামী ছোট্ট লঞ্চগুলোকে দেখা যায় দরজায় দাঁড়িয়ে!


একা ২


যুগলে


চাকা- সভ্যতার শুরু


একা ৩

আনন্দের সাথে ভয়ও পেয়েছিলাম অনেক, ফুপি আমাকে কিছুতেই আসতে দিবেন না। এই প্রথম এত কষ্ট করে গেলাম আর থাকব না!- এটা মেনেই নিতে পারছিলেন না তারা। দুপুরে খাওয়ার পর পেছনের পুকুরে বরশি দিয়ে মাছ ধরা আর সন্ধ্যায় সামনের পুকুরে চান্দের আলোয় চুপচাপ বসে থাকা, তারপর উচ্চস্বরে চাঁদের গান গাওয়া - সে এক অন্যরকম অনুভূতি! অনেক কষ্টে বুঝিয়ে সুজিয়ে আমাদের ফিরতে রাত হলো অনেক- কিন্তু সেটাই ছিল উপভোগ্য; নৌকায় শুয়ে মাথার উপর মস্ত চাঁদ, জলের কলকল শব্দ! কিন্তু কেন যেন ঠিকঠাকমত সব কিছু থেকে আনন্দ নিতে পারছিলাম না! কী যেন খচখচ করছিল মনে!


ভাগ্নী


আশা ১

পরদিন ভোরে নৌকার প্রথম ট্রিপ ধরার জন্যে ভোর পাঁচটায় দৌড়েও পারলাম না দু'মিনিটের জন্যে, বাংলাদেশে এরকম টাইমলি কোন যানবাহন ছাড়তে প্রথম দেখলাম, ম্যাজিষ্ট্রেট সাহেবের ফোনও নৌকা দুমিনিটের জন্যে থামাতে পারে নি আমাদের জন্যে। কোথাও তাহলে একটু হলেও সময়ানুবর্তিতা আছে দেখে এই না পাওয়ার দুঃখ ভুলে গেলাম। ফেরার সময় আর ভুল করলাম না, নৌকার ছইয়ের উপরে উঠে আসলাম। হাওড়ের টলটল জল আর নীল আকাশ! দূরে কোথাও কোথাও নাম না জানা পাখি হাওড়ের জলে আধেক ডুবে থাকা গাছের উপর, লাল লাল শাপলা! সুন্দর! অদ্ভুত সুন্দর!


অন্য আলোয়


আশা ২


প্রত্যয়

বাসে ফেরার পথে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় এসে ক্যামেরাটা ধরে থাকলাম বন্দুকের মতো, ট্রিগার চেপে; যাওয়ার পথে রাস্তার দুপাশে অনের মাছ ধরার জাল দেখে গিয়েছি ছবি তুলতে পারে নি। ঠাঠাঠা করে শাটার চাপলাম, যদি বাসের দুলুনী আর গাছের ডালের ফাঁক দিয়ে একটি হলেও গুলি লেগে যায়!


চির সবুজ


প্রতীক্ষা ২


একা ৪

আর তারপর আরো একটা সুন্দর জায়গা ঘুরে আসার আনন্দ বুকে নিয়ে আমি আমার ছোট্ট রাজ্যে!
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০১১ রাত ১:৪৭
২৮টি মন্তব্য ২৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পিনাকী ভট্টাচার্য কেন দেশে আসে না, জানেন?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯


Pinaki Bhattacharya - পিনাকী ভট্টাচার্য তিনিঞ্চি কেন দেশে আসে না জানেন? তার পাসপোর্টই তাকে সে অনুমতি দেয় না। Meghna Alam থেকে প্রাপ্ত এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে তার পাসপোর্টে স্পষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের সেই এন্টিনিয়ার।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৮

কিছু স্বপ্ন, কিছু স্মৃতি এবং নানীর বাড়ি



আমি বেশ কিছুদিন ধরে একটি বিশেষ ধরনের স্বপ্ন দেখছি। স্বপ্নের কথায় যাওয়ার আগে কিছু পেছনের গল্প বলা প্রয়োজন।

ক্লাস নাইনে পড়ার সময় থেকে অনার্স... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×