somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ও মাহবুবা !

০৩ রা নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বলাকা সার্ভিসে কাকলী থেকে গোপীবাগের মোড় পর্যন্ত ২ টাকা ভাড়া । সে টাকাটাও ম্যানেজ করতে পারছিনা ।আমাদের এখন বাড়ির কাজ ধরা হয়েছে , রড , কাঠ, সিমেন্ট এ চারিদিক একাকার , আব্বার পকেটে টাকা নেই - আমার পকেটে কিভাবে থাকবে ?
এক মায়াময় ভোরে ছাদের বেশ কিছু রড বেচে দিলাম। অল্প কিছু টাকা যোগাড় হলো , আর কে মিশন রোডের চার তালা বাড়িটির সামনের রকে সকাল থেকে রেড এন্ড হোয়াইট সিগ্রেট টানতে থাকি । মাঝে মধ্যে হয়তো দু এক কাপ চা জোটে কিন্ত মনে রয়েছে পকেটের টাকাগুলার হিসেব নিয়ে কড়কড়া জ্ঞান ।
শকুনের মতোন চোখ নিয়ে চারতালার বারান্দার দিকে চেয়ে আছি , সিচুয়েশন পক্ষে থাকলে , সেখানে একটি লাল কাপড় ঝুলার কথা ।
কিন্ত ৪/৫ ঘন্টা হয়ে গেলো , কাপড় তো দূরের কথা , এ বাসায় কোন জন মানব আছে কিনা তাও বুঝতেছিনা। সামনের ল্যান্ডফোনের দোকান থেকে কল দিবো কিনা ভাবতেছি , কিন্ত আমার কঠিন গণিত জ্ঞান হিসেব করে জানালো , বাস ভাড়ার অভাবে টীকাটূলি থেকে কাকলী পর্যন্ত আমাকে হেঁটে ফিরতে হতে পারে ।
সেপ্টেম্বরের এ সময়ে হঠাত আকাশ কালো হয়ে আসলো , চায়ের দোকানে আর দাঁড়ানোর জায়গা নেই , আশে পাশ থেকে অনেক লোকজন আশ্রয়ের জন্য চলে এসেছে , জামা কাপড় ভিজে যাচ্ছে ,সেদিকে খেয়াল নেই শুধু পকেটের অল্প কয়টা টাকা হাতে চেপে ধরে , আমি কঠিন চোখে চারতালার দিকে তাকিয়ে আছি , যদি কোন লাল কাপড় দেখা যায় ।

আমার ভাগ্য সব সময়েই ভালো , খুব সুপ্রসন্ন । আধা ঘন্টা পরে লাল কাপড় হাতে মাহবুবা কে বারান্দায় দেখতে পেলাম।

এর পরের দু ঘন্টা আমার সারা জীবনের পাথেয় । চারতালার সিড়ির ল্যান্ডিং এ আমি মাহবুবার কোলে মাথা রেখে শুয়েছিলাম , আর মাহবুবা আমার হাতের বড় হওয়া নখ গুলো কেটে দিচ্ছিলো ।
তুমি কি এ দিনের কথা ভুলে যাবে ? - মাহবুবা তার গভীর কালো চোখ তুলে আমাকে জিজ্ঞাসা করলো ।
আমি পকেটের টাকা কয়টা কি পরিমান ভিজে গেছে , সেট এক হাত পকেটে ভরে বুঝে নিচ্ছিলাম ।
আনমনে উত্তর দিলাম, বৃষ্টি এলেই , সারাজীবন আমার এ দিনের কথা মনে থাকবে ।ভালোবাসার মানুষ কাছে এলে নাকি ভালবাসার রং ফিকে হয়ে যায় , নাকি ভালবাসার মানুষকে জীবনে পেতে নেই -- এই সব সমীকরণের বেড়াজাল পেরিয়ে
কুড়ি বছর পর- মাহবুবার সাথে আবার ফের যখন ফোনে কথা হচ্ছিলো , সে তখন ব্রিসবেনে আর আমি ঢাকায় ... ব্রিসবেনে যখন বৃষ্টি হয়,আমাদের ঢাকায় তখন বৃষ্টি হওয়ার কথা না ।
কিন্ত সেদিন আর এরপরে যে কদিন মাহবুবার সাথে আমার যে কবার কথা হয়েছে , ততোবারই ঢাকায় ঝরঝর বৃষ্টি হচ্ছিলো আর ওপাশ থেকেও বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের শব্দ পাচ্ছিলাম। অনেক দূর হতে কেউ কাঁদতে থাকলে সেটি কান্নার শব্দ নাকি বৃষ্টির শব্দ -বুঝা যায় না --তবে ব্রৃষ্টি বা কান্নার সময় শ্রোতার শব্দ করার নিয়ম নেই -- তাই আমি সেই আগের মতোই , চুপ করে ফোন কানে ধরে বসে থাকতাম .।।।

অবশ্য ভালোবাসার নতুন ধারাপাতে এখন আর এক বলতে কিছু নেই , ভালোবাসা এখন অনেক জনাতেই হয়ে যায় । মাহবুবাও শুনেছি কয়েকজন কেই ভালোবেসেছে , আমিও কি তার ব্যতিক্রম হয়েছি! জানিনা , তবে সংসারে ব্যস্ত হয়ে গেছি দুজনেই ।

আর কে মিশন রোডের চারতালার সেই বারান্দায় -মাহবুবার লাল কাপড় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে আর ইচ্ছে করে কিনা জানি না , তবে আমি এখনও গোপীবাগের মোড় পার হতে গিয়ে দাঁড়িয়ে যাই ,সেই বারান্দার নীচের টং এর দোকানে চা এর অর্ডার দিয়ে আনমনে উপরের দিকে চেয়ে থাকি ,
আমি জানি আমার ভাগ্য অনেক সুপ্রসন্ন, কে জানে,লাল কাপড়টি হয়তো আবার কখনো নড়তেও দেখা যেতে পারে ।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা নভেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:২৩
১১টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে? নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ??

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


বঙ্গ ও বেঙ্গলীর শিকড় কী মুছে গেছে নাকি পুণ্ড্রনগর সভ্যতার মত হারিয়ে গেছে ?? সামু ব্লগের এই ক্রান্তিকালে বিষয়টি নিয়ে একটু আলোচনা/পর্যালোচনা করে কিছু সময় কাঠানো যাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি বড়দের গল্প - ছোটরাও পড়তে পারে

লিখেছেন মুনতাসির, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫০

বিজ্ঞানীরা তিনটা আলাদা দ্বীপে দুইজন পুরুষ আর একজন মহিলা মানুষকে এক বছরের জন্য ফেলে রেখে এসেছে। একটা দ্বীপ ব্রিটিশদের, একটা ফ্রেঞ্চদের, আর শেষটা আমাদের বাংলাদেশীদের। এক বছর পর যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:০০

সংকটে আওয়ামী লীগের কর্মীরা কোথায় দাঁড়িয়ে?
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে বহুবার প্রমাণ হয়েছে যে, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি থাকে তার তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। তাদের শ্রম, ত্যাগ, জেল-জুলুম সহ্য করার মানসিকতা এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

খাজনা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



মন! মানুষের মন! মানুষকে তছনছ করে দেয়!
কখনো সে বাঘ, কখনো সে অজগর, কখনো সে শত্রু, কখনো সে বন্ধু!
কখনো সে ঈশ্বর, কখনো সে শয়তান, কখনো সে নিয়তি!
বিদিকিচ্ছিরি কান্ড!

লম্বা টানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের পক্ষে বাংলাদেশ সরকারের সরাসরি দাঁড়ানো সম্ভব নয়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:১৫


ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত যখন মাইক্রোফোনের সামনে কথা বলা শুরু করলেন , তখন তার চোখে রাগ ছিল না, ছিল এক ধরনের ক্লান্ত অভিমান। একটা মুসলিম দেশ, কোটি কোটি মুসলিম মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×