somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেশের পোশাক খাতের বড় বাজার হয়ে উঠতে পারে চীন

১৯ শে অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ১০:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে পোশাক খাতে ৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় করতে চায়। অন্যদিকে চীনও চায় নিজেদের উৎপাদন সক্ষমতা রপ্তানি করতে। এ ক্ষেত্রে চীন যদি বাংলাদেশ থেকে আউটসোর্সিং করে, তবে উভয় দেশই লাভবান হতে পারে বলে মনে করে এ খাতের উদ্যোক্তারা। এ ছাড়া চীনের কম্পানিগুলোর উন্নত প্রযুক্তি ও পেশাদার ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা এই সম্ভাবনাকে আরো কার্যকর করবে বলে তারা মনে করে


উদ্যোক্তারা জানায়, এ মুহূর্তে প্রতিযোগিতাপূর্ণ পোশাকশিল্পের জন্য বাংলাদেশকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করে চীন। কারণ তারা নিজেদের শিল্প খাত হালনাগাদ করার চেষ্টা করছে। তাই সুলভ মূল্যে শ্রমশক্তিপ্রধান বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ করার অনেক সুযোগ আছে।
উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ফলপ্রসূ এবং গুরুত্বপূর্ণ করেছে। তারা মনে করে, চীনের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বস্ত্র খাতে বিনিয়োগ করলে ২০২১ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় অনেকটাই সম্ভব। চীনের প্রেসিডেন্টের সফরকালীন ২৭টি চুক্তি এবং ২৪.৪৫ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহযোগিতার চুক্তি এটাই প্রমাণ করে। তবে সব কিছুই নির্ভর করে চুক্তি ও বিনিয়োগ বাস্তবায়নে বাংলাদেশের দক্ষতার ওপর।

তবে বিনিয়োগে বাংলাদেশের কিছু প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে উল্লেখ তারা জানায়, বাংলাদেশের দুর্বল পরিবহন অবকাঠামো, রেলওয়ে ও বন্দরের সক্ষমতা সীমিত এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ খুবই অপর্যাপ্ত। অনেক মানুষ হালকা শিল্পের শ্রমিক এবং কৃষক। এ ছাড়া পেশাদার টেকনিশিয়ান এবং ব্যবস্থাপক সংকটও রয়েছে বাংলাদেশের। আইনি ও আয়কর পদ্ধতিতেও চীনের সঙ্গে পার্থক্য রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘চীন বাংলাদেশের অবকাঠামো, জ্বালানি এবং বস্ত্র খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর ফলে উচ্চমূল্য সংযোজনী পণ্যে দেশটি বিনিয়োগ করলে তাদের কারিগরি অভিজ্ঞতা আমাদের পোশাক খাতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া চীন যেহেতু আমাদের পাশাপাশি দেশ, তাই বাংলাদেশে উৎপাদন খরচ কম হবে, জাহাজের ভাড়া কম লাগবে এবং লিড টাইমও কমবে।’ তাঁর প্রত্যাশা, আগামীতে চীন হবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির বড় বাজার।

এদিকে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চীন প্রতিবছর দেড় ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। তবে দেশটি প্রধান যে পাঁচটি পণ্য আমদানি করে এর কোনোটাই রপ্তানি করে না বাংলাদেশ। এ ছাড়া তৈরি পোশাক খাতে চীনের অভ্যন্তরীণ বাজার প্রায় ৩০ হাজার কোটি ডলারের। আর এর ৯০ শতাংশই স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করে দেশটি। যে ১০ শতাংশ আমদানি করে সেখানে বাংলাদেশের হিস্যা ১০০ ভাগের এক ভাগ।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, বাংলাদেশে যেটি নেই, চীন এসব পণ্য আমদানি করে। এই পণ্যগুলো হলো প্রাইমারি প্রোডাক্ট এবং ইন্টার মিডিয়েট প্রোডাক্টস। অর্থাৎ এক ধরনের ভ্যালু চেইন প্রোডাক্ট। ফলে চীনের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনা সবটুকুই নির্ভর করছে তৈরি পোশাক খাতে।

আহসান এইচ মনসুর আরো বলেন, এক গবেষণায় দেখা গেছে, চীনের তৈরি পোশাক খাতের বর্তমান ২৭০ বিলিয়ন ডলারের বাজার আগামী ২০১৯ সালের মধ্যে অন্তত ৩৩০ বিলিয়ন ডলারে ছাড়িয়ে যাবে। তবে সেই বাজারের মাত্র ১২ শতাংশ বা ৩২ বিলিয়ন ডলার আমদানি করে মেটানো হয়। এর মধ্যে গত অর্থবছরে বাংলাদেশের অবদান ছিল ৩৪ কোটি ১২ লাখ ডলার। তার পরও চীনে বাড়তে থাকা শ্রমিক মজুরির সুযোগটা বাংলাদেশ কাজে লাগাতে পারে। এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘চীনে পণ্য উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। ফলে এখানে আমাদের সুযোগ আছে।’

এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি ও বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘পোশাক খাত ছাড়া চীনের বাজারে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হতে পারে তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো পণ্য নেই। কারণ চীন বর্তমানে উন্নত প্রযুক্তির গাড়ি, কম্পিউটার ও টেক্সটাইল মেশিনারি তৈরি করে। ফলে দেশটিতে আমাদের পণ্য রপ্তানিও কম।’ চীন আমদানি করে এমন কয়েকটি শীর্ষ পণ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রনিক পণ্য, জ্বালানি, কারখানার যন্ত্রপাতি, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং শিল্পের বিভিন্ন কাঁচামাল। তাই অদূর ভবিষ্যতে চীনের উদ্যেক্তারা বাংলাদেশের বস্ত্র খাতে বিনিয়োগ করলে এখান থেকে রপ্তানির বিপুল সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়া দেশটির শ্রমিক মজুরি বেড়ে যাওয়ায় তারা এ খাতে বিনিয়োগ করে লাভবান হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সহসভাপতি মো. ফজলুল হক চীনের বিনিয়োগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগে কিছু প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। যেমন—দুর্বল পরিবহন অবকাঠামো, রেলওয়ে ও বন্দরের সক্ষমতা সীমিত এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ অপর্যাপ্ত।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চীনের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বস্ত্র খাতে বিনিয়োগের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ তৈরি পোশাকের জন্য যে পরিমাণ কাপড়ের স্থানীয় চাহিদা রয়েছে, এর ৫০ শতাংশের বেশি আমাদের উদ্যোক্তারা আমদানি করে থাকে। চীন যদি তাদের আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে তাহলে দুই দেশই বিশেষভাবে লাভবান হবে।’






Copy
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে অক্টোবর, ২০১৬ সকাল ১০:৪৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা - প্রমাণ

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:১২



ব্লগার সাহেব আমেরিকা থেকে লিখেছেন, “অমুক আসলে মুক্তিযোদ্ধা নন।”

আমি বন্ধুকে ফোন করলাম।
বললাম, “তুমি নাকি ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা?”

সে বলল, “বুঝতে পারছি না।”

“কেন?” আমি প্রশ্ন করলাম।

“১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন লা-মাযহাবিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কারণ কী ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩২


আজকে নতুন চারটি মুখ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলো। এর মধ্যে একজনকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে । বলছি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকনের কথা। তিনি একজন লা মাযহাবি বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবীপ্রসাদ যাত্রা

লিখেছেন জ্যোতির্ময় ধর, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:২১


আমি তখন ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। চট্টগ্রামের মোমিন রোডের রুচিশীল বই বিপণি কথাকলির বুকশেলফে চোখ বুলাচ্ছিলাম । হঠাৎ একখানি বইয়ের ওপর এসে থমকে গেল আমার চোখ । "ক্ষুদে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×