somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এই লিখা যে না পড়বে তার গর্দান কাটা যাবে! আর যে পড়বে তার মস্তক কাটা যাবে! একদিন মু্ন্সিগঞ্জ-এর লৌহজং থানার বড়

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ দুপুর ১:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
একদিন মু্ন্সিগঞ্জ-এর লৌহজং থানার বড়"ন" পাড়ায় বেড়াতে যাওয়া ও একটি মাজারকে ঘিরে মেলা দেখা এবং সাথে কিছু ভন্ড লোকের ভন্ডামি দেখা। আমরা ১২ জন বন্ধু ৪ টি মোটর সাইকেলে চড়ে মু্ন্সিগঞ্জের সিপাহীপারা (এটা মু্ন্সিগঞ্জ সদর থানায় রামপাল ইউনিয়নে অবস্থিত) হতে রওনা হলাম বিকেল ৪ টার সময়। নির্দিষ্ট কোন উদ্যেশ্য ছিল না । শুধু মাত্র বেড়াতে যাব এটাই জানি। কোন এক বন্ধু বলল চল লৌহজং থানার বড়ণ পাড়াতে একটি বিশাল মেলা হচ্ছে দেখে আসি। তাৎখনিক সবার সম্মতি পাওয়া গেল ।
সেখানে গিয়ে আমিত অবাক, লাখ লাখ মানুষের সমাগম। হরেক রকমের খাবার , গৃহস্থালীতে ব্যবহৃত জিনিসপত্র, নানা রঙগের খেলনা, সহ বিশার মেলা মিলেছে।
একজনের কাছে জানতে পারলাম এটা কদম আলি মাস্তান (রঃ আঃ) মাজার। প্রতি বছর ১৭ মাঘ হতে ২৪ মাঘ পর্যন্ত এখানে ওরস পালন হয়। আমি বললাম খুবই ভাল কথা।
এর পর পুরো এলাকাটা ঘুরে দেখতে শুরু করলাম।

প্রথমেই দেখলাম অসংখ নারি পুরুষ একসাথে বসে আছে। তাদের সবার গলায় লাল কাপড় এর বড় একটি গামছা বা ওরনা বা চাদর টাইপের ঝোলানো। অনেকেরই পাগলের মত লম্বা লম্বা চুল, দাড়ি, গোফ আছে। এবং সেখানে গানের আসর জামিয়েছে কিছু লোকজন। ভাল খুবই ভাল ।
এর পড় গেলাম সেই বিখ্যাত ব্যাক্তির মাজারে। ভিতরে ঢোকতে পারলাম না ভক্তগনের ভিরের কারণে। কিন্তু দুর হতে মাজারকে ঘিরে আমাদের চিরাচরিত দৃশ্যই দেখলাম তা আর বলে, লিখা বড় করার দরকার নাই । মাজার যে ঘর রয়েছে তার বাইরে শত শত লোক মোমবাতির আলো জ্বালাচ্ছে অনেকটা ইবাদতের মন নিয়ে। বলে রাখি প্রায় ১ ঘন্টার মত ছিলাম সেখানে কাউকে নামাজ বা কোরআন পাঠ করতে দেখিনি । করলেও আমার চোঁখে পড়েনি।
সকলের গলায় লাল কাপড় দেখে বিখ্যাত লাল সালূ উপন্যাসের কথা মনে পড়ে গেল। যাদের অতি মাত্রায় ও অন্ধের মত মাজার প্রিতি রয়েছে তারা দায়া করে এই উপন্যাসটি মনযোগ দিয়ে পড়বেন।
কি লিখাটা অগোছালো আর বড় হয়ে যাচ্ছে? ঠিক আছে লিখার মূল উদ্যেশ্যের কথা বলে চলে যাচিছ । সমস্ত এলাকা ঘুরতে ঘুরতে একটি যায়গায় এসে আমার চোখ থেমে গেল । সাথে থাকা বন্ধুকে বললাম কিরে সব জায়গাতে আলো জ্বলছে কিন্তু ঐ জায়গায় অপেক্ষাকৃত কম আলো, আর ছোট ছোট খুপরির মধ্যে একটি বা দুটি করে মোম জ্বলছে ঘটনাকি? বন্ধুটি বলল চল দেখে আসি । সেখানে গেলাম আমি গুনতে শুরু করলাম কতগুলি খুপরি রয়েছে। প্রায় ৭০-৮০টি ছোট ঘর । কিসের খুপড়ি? বন্ধু বলল সিদ্ধির ঘর। মানে গাজার ঘর । আমি বললাম একেবারে ওপেন? কেউ কিছু বলেনা। ওখানে না পুলিশ দেখ আসলাম। ও বলল মাজারগুলি ঘিরে এমন গাজার দোকান আর গাজাখোররা ওপেননি থাকে । লাখ লাখ টাকার গাজা বিক্রি হয়। এগুলি আইন সিদ্ধ গাজাঁর খুপরি, আলোর স্বল্পতার জন্য স্পষ্ট দেখা যাচেছ না। আর ছবি গুলি রিস্ক নিয়ে মোবাইল দিয়ে তোলা। দেখলে খবর ছিল।

আমরা একটি ঘরে প্রবেশ করলাম , ঘরে একজন মহিলা (৪৫-৫০), গায়ের রং কাল , মাথার চুল জটলাগানো , কিছু সাদা কিছু কাল, কিছু লাল,
নাম জানতে চাইলে সে বলল লাইলী পাগলনী, দীর্ঘ ২০ বছর যাবৎ বিভিন্ন মাজারে মাজারে সে যায় । এবং এই পবিত্র সিদ্ধি (তার মতে) বিক্রি করে। দেশের বাইরেও সে গিয়েছে বলে জানায়।খাবারের সমারোহ। একজন মাওলানার লিখা বই এর প্রচারনার ব্যানার।
সুসজ্জিত মাজার ঘর।

আমি মাজারকে ঘিরে মানুষের প্রচলিত কৃ-সংস্কার তুলে ধরার জন্য এই পোষ্টটি দিয়েছি। আরিফুর রহমান বাবুল ভাইকে এই মাজার সম্পর্কে কিছু জানলে ব্লগে লিখার জন্য আবেদন জানাচ্ছি। মাজার নিয়ে তার লিখা গুলি পড়ে অনেক কিছু জানতে পেরেছি। বাঁশের বাঁশি বিক্রি করছে এক বিক্রেতা।

কারো মূল্যবোধের প্রতি আঘাত নয় মাজার নিয়ে আমাদের ভুল ধারণা ও কর্মগুলিকি ঠিক এটা জানাই আমার উদ্যেশ্য । কারন আমি অনেক মাজারে দেখেছি মাজাকে সিজদাহ করে অনেকে। অথচ নামাজ বা অন্য কোন ভাল কাজ করে না। সেখানে নেশার আসর জমায়। আরো কাত কি?
আপনিও আপনার আসে পাশের অনিয়ম গুলি এই ব্লগে তুলে ধরুন। বলে রাখি আমরা গাঁজা খাইনি। বিশ্বাস না হলে আমার বন্ধুদের জিজ্ঞেস করতে পারেন।

শিরোনামটি শুধুমাত্র দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য দেযা। কেউ বাঁশ দিয়েন না। দিলে রড দিয়েন কাজে লাগব। খেলনা।


সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ দুপুর ১:৪৯
১৩টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×