somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার বনাম জার্মানির দারিদ্র্য সীমা

২২ শে অক্টোবর, ২০১২ দুপুর ১২:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সরকারি হিসাবে বাংলাদেশে দারিদ্র্য গত ৫ বছরে শতকরা ৮.৫ ভাগ কমেছে৷ আগে যেখানে ৪০ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করতেন এখন সেই সংখ্যা কমে শতকরা ৩১.৫ ভাগ হয়েছে৷ কিন্তু শতকরা হারের এই উন্নয়নের হিসেবের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই বলে মনে করেন বিআইডিএস-এর গবেষক অর্থনীতিবিদ ড. জুলফিকার আলী৷

জার্মানির প্রায় ১৩ মিলিয়ন মানুষ দারিদ্র্য সীমার নীচে বাস করে – অবাক করার মতো বিষয়, তাই নয় কি? তথ্যটা কিন্তু সত্য৷ সম্প্রতি বিশ্ব দারিদ্র্য দিবস উপলক্ষ্যে এমনই একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে জার্মানির পরিসংখ্যান ব্যুরো৷
ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ হলেও, সেখানকার সব মানুষ যে ভালো নেই সেটা এ তথ্য থেকেই বোঝা যায়৷ জার্মানির ভিসবাডেন শহরের এই পরিসংখ্যান ব্যুরোর সমীক্ষা অনুযায়ী, প্রতি ছয় জন জার্মানের একজন দারিদ্র্যের মুখোমুখি হচ্ছে প্রতিনিয়ত৷ আর সংখ্যার বিচারে এরা জার্মানির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ৷ যাদের মধ্যে অধিকাংশই (৬৫ শতাংশ) একক বাবা অথবা মা৷ অর্থাৎ তাদের সন্তান থাকলেও, তারা এক হয় অবিবাহিত অথবা তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেছে৷
২০০৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি নতুন নীতিকে সামনে রেখেই প্রথমবারের মতো এ ধরনের একটি সমীক্ষা চালায় সংস্থাটি৷ এরপর থেকে প্রতি বছরই এটা তারা চালিয়ে আসছে৷ তবে দারিদ্র্য সীমার নীচে বাস করা জার্মান জনগণের এহেন পরিসংখ্যান এর আগে আর দেখা যায় নি৷ সমীক্ষাটি অবশ্য এই সংখ্যা দিয়েই বসে থাকে নি৷ তারা গবেষণা করে দেখিয়েছে যে, দারিদ্র্যের মুখোমুখি হওয়া এ সমস্ত মানুষের বাৎসরিক আয় ১১, ৪২৬-এরও কম৷ মাসিক হারে যা দাঁড়ায় মাত্র ৯৫২ ইউরো, অবশ্যই যাতায়াতের খরচ, স্বাস্থ্য সেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তা যাবৎ ব্যয় ধরে৷
এরপরেও প্রশ্ন উঠতে পারে, জার্মানি তথা ইইউ'র দারিদ্র্য সীমা পরিমাপের মাপকাঠি নিয়ে৷ স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে দারিদ্র্য সীমার নীচে বসবাসকারী জার্মানির এ বিপুল জনগণকে হয়ত দরিদ্র বলা যায় না৷ কিন্তু এখানকার আয় ও ব্যয়ের মধ্যে যে সম্পর্ক, এখানে থাকা-খাওয়ার যে খরচ – তার সঙ্গে আফ্রিকা বা দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশের তুলনা করা কি চলে? এই যেমন, ২০১০ সালের অপর এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ২৯.৮ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নীচে বাস করে৷ অর্থাৎ তারা বিপিএল পরিবারভুক্ত৷
সে যাই হোক, আগামী বছর জার্মানির জাতীয় নির্বাচনের আগে এ রকম একটা পরিসংখ্যান অন্তত চিন্তার বিষয় চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের জন্য৷ জার্মানির ট্রেড ইউনিয়নগুলির বক্তব্য, দেশে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে এই পার্থক্যের কারণ মূলত শ্রম বাজারের অস্থিরতা, মুদ্রাস্ফীতি এবং বিশ্বব্যাপী আর্থিক মন্দা৷
এছাড়া, খাদ্য উৎপাদন হ্রাস ও খাদ্য মূল্য বৃদ্ধির কারণে বিশ্বের অন্তত ১০ কোটি মানুষের জীবনমান দারিদ্র্য সীমার নীচে নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে ভিসবাডেন শহরের এই সংস্থাটি৷
ডিজি/এসবি (এএফপি, ডিপিএ, রয়টার্স)
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৫:৪২
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×