somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জিহাদ থেকে নিরব

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আপনাদের কি মনে আছে শিশু জিহাদের কথা? ওই যে খেলতে খেলতে পড়ে গেল যে বাচ্চাটা? আবার এই তো সেদিন, লাশ উদ্ধার হল নিরবের। আমার ইদানিং একটা খুব বাজে অভ্যাস হয়েছে জানেন? একটা মৃত্যু হলে আমি পরের মৃত্যুর জন্য মনে মনে প্রস্তুতি নিয়ে নিই। জিহাদ.......... নিরব............ এরপর কে? এরপর যে কেউ হতে পারে। হতে পারে আপনার আদরের ছোট ভাই, হতে পারে আপনার কলিজার টুকরা ছেলেটাও। কি? ভাবতে গিয়ে শিউরে উঠলেন তো? এবার ভাবুন তো, আপনার কল্পনা করতেই গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। যাদের সাথে বাস্তবে ঘটছে তাদের কী অবস্থা হতে পারে?

ফেসবুকে শিশু নিরবের মৃত্যু নিয়ে তুলকালাম চলছে। সবাই দায়ী করছে প্রশাসনকে। আসলেই কি সব দায় প্রশাসনের? আপনার কি কোন দায়ই নেই? সরকার যখন ম্যানহোল বানায় তখন তার উপর ঢাকনা থাকে। কয়েকদিন পরই আমরা সেটা গায়েব করে দিচ্ছি। তারপর দায় দিচ্ছি প্রশাসনকে। আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলি। ঢাকা শহরের সব বাসার মত আমাদের বাসার সামনেও একটা ড্রেন আছে। ড্রেনটা বানানোর পর যাদের বাসার সামনে দিয়ে ড্রেনটা বানানো হয়েছে তারা সবাই স্ব-উদ্যোগে ড্রেনের উপর বিরাট অংকের টাকা খরচ করে স্ল্যাব বসায়। সাতদিনের মাথায় কে বা কারা প্রায় সব স্ল্যাব ভেঙে ভেতরের রডগুলো চুরি করে নিয়ে যায়। তারপর যখন আবার লাগানো হয় আবারো একই ঘটনা ঘটে। বেশ কয়েকবার এই ঘটনা ঘটানো হয়। এর দায় কি আপনি প্রশাসনের উপর চাপাতে পাারবেন?

আমরা বাঙালিরা বড় অদ্ভুত স্বভাবের। নিজের অপকর্মের দায় কখনো নিজেরা নিতে চাই না। আমরা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় রাস্তায় কলার খোসা ফেলে যাই। তারপর ঘুরে এসে যখন সেই খোসায় পিছলা খেয়ে পড়ে যাই তখন সরকারের চৌদ্দ গোষ্ঠী উদ্ধার করে ফেলি। আসলেই কি সরকার দায়ী?

মানছি প্রশাসনে অব্যবস্থাপনা আছে। ছোট খাটো না। অব্যবস্থাপনার ফাঁকটা অনেক বড়। কিন্তু প্রশাসনে দুর্বলতা আছে তাই বলে কি আমরা যা খুশি তাই করব? অন্যের কথা না ভাবি। অন্তত নিজের আর নিজের পরিবারের কথাটা তো একবার ভাবা উচিত।

আপনি বা আমি হয়ত কয়েকদিন পরই জিহাদ কিংবা নিরবকে ভুলে যাবো। কিন্তু এখনই নিরবতা না ভাঙলে এভাবেই চলে যাবে আরো অনেক নিরব। সেই নিরবটা হতে পারে আপনার সকল হাসির একমাত্র উৎস।

সচেতনতা! হ্যাঁ। একমাত্র সচেতনতাই পারে নিরবদের বাঁচাতে। সারা দেশের কথা আপনাকে ভাবতে হবে না। আপনি দেখুন তো আপনার এলাকার সব ম্যানহোলে ঢাকনা আছে কিনা? যদি থাকে সেখানে একটা তালা লাগিয়ে দিন যেন চুরি না হয়। যদি না থাকে নিজেরাই কিনে নিন না! কতই বা খরচ? আপনার এতটুকু ত্যাগ বাঁচাতে পারে নিরব-জিহাদদের। বেঁচে থাকুক নিরবরা। বেঁচে থাকুক আমাদের সোনামণিদের মুখের মিষ্টি হাসি।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১১:২৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এই সমাজ- ৭২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৩



দেশের সরকার অযোগ্য অদক্ষ হলে, জনগনের শান্তি থাকে না।
দেশের জনগন সারাদিন কাম কাজ করে। অফিসে নানান রকম যন্ত্রনা পোহায়। নানান জক্কি ঝামেলা পোহাতে হয়। অফিসে থাকে না... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেল গ‍্যাস অনুসন্ধান আর বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে, সুদি মহাজন আর খাম্বা/কার্ড সরকারের মিথ্যাচারের জবাব॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮



২০০৮-২০২৪ এই ১৬ বছরকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন "chronicle of shoddy gas exploration" - মানে গ্যাস অনুসন্ধানের ধীরগতির ইতিহাস।

২০০৮-২০২৪ এর মূল চিত্র

< Between 2008 and 2024, bureaucratic interference... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল ইশরাত মঞ্জিল ধ্বংসের আসল খলনায়ক কে?

লিখেছেন মৌন পাঠক, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:১১

কথায় কথায় বামপন্থী, সেক্যুলারদের গালি দেয়া হচ্ছে ইশারাত মঞ্জিলের ইতিহাস মুছে ফেলার জন্য।

কিন্তু দালিলিক ইতিহাস হলো— ১৯৫১-৫২ সালে মূল ইশারাত মঞ্জিল বিল্ডিংয়ে কোনো হিন্দু, বামপন্থী বা আওয়ামী লীগার বুলডোজার চালায়নি!

তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবননগর

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১



গ্রাম দেখতে কোলাহলের বাইরে গিয়ে দেখি-
কোথাও নেই একরত্তি গ্রাম!
বিলুপ্ত হয়েছে যাবতীয় সবুজ সুন্দর;
সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছে কংক্রিটের বন!
ভ্রমণক্লান্তিতে খুব তৃষ্ণার্ত হয়ে-
জলপানাঙ্ক্ষা জানাতেই পেলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ নেপালের চেয়েও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২৬

বাংলাদেশ নেপালের চেয়েও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।



বাংলাদেশে যদি একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প বা বড় ধরনের নগর দুর্যোগ আঘাত হানে, তাহলে দেশটি নেপালের অভিজ্ঞতার চেয়েও বহুগুণ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×