somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুবিন খান
অদৃষ্টরে শুধালেম, চিরদিন পিছে, অমোঘ নিষ্ঠুর বলে কে মোরে ঠেলিছে?সে কহিল, ফিরে দেখো। দেখিলাম থামি, সম্মুখে ঠেলিছে মোরে পশ্চাতের আমি।

গল্পটা পৃথিবীর, কিংবা তোমার

২৬ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


তোমার সঙ্গে কথা হয় না।
কতগুলো বছর তোমার সঙ্গে কথা হয় না!
শত যুগ হবে কি? নাকি লক্ষ বছর?
তাহলে এক কোটি বছর হবে মনে হয়।

তারও বেশী! বল কি! আজন্ম নাকি!
না, তা নয় বোধ হয়, তাই না?
বিশ্বব্রহ্মান্ডর বয়স তো তেরো দশমিক
সাত, পৃথিবীর সাড়ে চার বিলিয়ন বছর।

জন্মের পর থেকে আমার মতো করেই
বিগব্যাংয়ের পর এই বিশ্বব্রহ্মান্ডটাও
নয় দশমিক দুই বিলিয়ন বছর ধরে
পৃথিবীর অপেক্ষায় ছিল, সে তো জানোই।

প্রথম যেদিন পৃথিবীর সঙ্গে দেখা, তখন
বলতে গেলেই উত্তাপ ছড়াতো পৃথিবীটা
তোমার মতো করেই, নয়ত ছুটে পালাতো
কক্ষপথে, চারশ’ ষাট কোটি বছর আগে।

তারপর ধীরে ধীরে একটু একটু করে শীতল
হতে হতে একদিন হঠাৎ পৃথিবী কাঁদতে শুরু
করল; আহা! সে কি কান্না! সকাল দুপুর রাত
কোটি কোটি বছর বুক ভাসানো কান্না কেবল।

কান্না ঝরানো বৃষ্টিতে পৃথিবীর বুকের কঠিন
পাথরেরা গলতে গলতে মাটি হতে থাকে
তখনও পৃথিবী সবুজ নয়, নয় উর্বর,
নেই প্রাণ, অথচ কি ভীষণ অভিমান!

খুব প্রবল প্রাণীবিহীন প্রাণহীন তখন পৃথিবী
বিশ্বব্রহ্মান্ড পরম মমতায় জড়িয়ে থেকে
আগলে রেখে পৃথিবীর বুকে জমা দুঃখদের
প্রবহমান নদী আর সাগর গড়তে দিল চাঁদ।

পৃথিবীর ছোঁয়ায় মৃত চাঁদও জীবন্ত হলো
এল জোয়ার, বইলো হাওয়া, জাগলো স্পন্দন
নিষ্প্রাণ যৌগগুলো নড়ে উঠল প্রাণস্পন্দনে
কি অসম্ভব স্পন্দন আর জীবনীশক্তির প্রাণ।

তোমারও কি চলছে এখন ডায়নোসর কাল?
চারপাশ জুড়ে কেবলই মাংসাশী লড়াই?
চাঁদকে কি দিই নি তোমার জোয়ার তুলতে?
হাওয়াদের কি বলি নি ঝুমুরে দমকা বইতে?

বুকের গহীনে অষ্টাদশীর তন্দ্রাভাঙা আকুলতা
স্পন্দনে দোলে হৃদপিন্ডর ছন্দময়তা
চাঁদের টানে ফুসফুসের সবেগ হওয়া- তুমি
শোনই না! পৃথিবীর মতোই উত্তাপে পালাও।

আর আমি এখনও বিশ্বব্রহ্মান্ডর মতোই
চেয়ে চেয়ে তোমার কক্ষপথ পরিভ্রমণ দেখি
তোমার দিকে ছুটে যাওয়া গ্রহাণুদের বুকে নিই,
আবার কখনও তোমার বুকেই সুনামি তুলি।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:৪৩
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৪৫ বছরের অপ-উন্নয়ন, ইহা ফিক্স করার মতো বাংগালী নেই

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৫:০৫



প্রথমে দেখুন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলো; উইকিপেডিয়াতে দেখলাম, ১০৩ টি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি আছে; ঢাকা ইউনিভার্সিটি যাঁরা যেই উদ্দেশ্যে করেছেন, নর্থ-সাউথ কি একই উদ্দেশ্যে করা হয়েছে? ষ্টেমফোর্ড ইউনিভার্সিটি কি চট্টগ্রাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ মাতানো ব্লগাররা সবাই কোথায় হারিয়ে গেল ?

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩৪

ইদানিং সামু ব্লগ ব্লগার ও পোস্ট শূন্যতায় ভুগছে। ব্লগ মাতানো হেভিওয়েট ব্লগাররা কোথায় যেন হারিয়ে গেছেন।কাজের ব্যস্ততায় নাকি ব্লগিং সম্পর্কে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। আমি কিছু ব্লগারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ৬৪

লিখেছেন রাজীব নুর, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৫



সুরভি বাসায় নাই। সে তার বাবার বাড়ি গিয়েছে।
করোনা ভাইরাস তাকে আটকে রাখতে পারেনি। তবে এবার সে অনেকদিন পর গেছে। প্রায় পাঁচ মাস পর। আমি বলেছি, যতদিন ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ অমঙ্গল প্রদীপ (পাঁচশততম পোস্ট)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১০ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১১:১৪

প্রদীপের কাজ আলো জ্বালিয়ে রাখা।
কিন্তু টেকনাফের একটি ‘অমঙ্গল প্রদীপ’
ঘরে ঘরে গিয়ে আলো নিভিয়ে আসতো,
নারী শিশুর কান্না তাকে রুখতে পারতো না।

মাত্র বাইশ মাসে দুইশ চৌদ্দটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণপ্রজাতন্ত্রী সোমালিয়া দেশে চাকরি সংকট

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১১ ই আগস্ট, ২০২০ রাত ১২:২০



গণপ্রজাতন্ত্রী সোমালিয়া সরকার মন্ত্রী পরিষদে কতোজান বিসিএস অফিসার আছেন? তাছাড়া সততার সাথে সোমালিয়া সরকার চাইলেও সঠিক ও যোগ্য মন্ত্রীপদে কতোজন বিসিএস অফিসার দিতে পারবেন?

(ক) মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় - একজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×