somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বৈঠকি গল্প ৩

৩১ শে মে, ২০২১ রাত ১২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এই তুমি কি বাইরে যাবা?
হু যাব।
কখন যাবা?
হাতের কাজ শেষ করে নেই, তারপর যাব।
শোন, আসার সময় গরম মসলা আনবা।
আচ্ছা।
শ্যাম্পু ফুরিয়ে গেছে, একটা শ্যাম্পু আনবা।
আচ্ছা।
শোন, গরম মসলার সব আইটেম আনবা, দারচিনি গোল মরিচ তেজপাতা এলাচি...
আচ্ছা বাবা আনবো।
না, তুমি ভুলে যাবা, লিখে নাও।
আচ্ছা লিখব। কাগজে লিখবা না। কাগজে লিখলে কাগজ দেখতে ভুলে যাবা, ফোনে লিখ।
আচ্ছা, যাওয়ার সময় লিখব নে, এখন কাজ করতে দাও।

বেরুবার সময়...
এই তোমাকে কি কি আনতে বললাম...
আচ্ছা, নিয়ে আসবো।
না, আনবা না, তুমি ভুলে যাবা, লিখে নাও।
লিখতে হবে না, মনে থাকবে। আর ফেরার সময় ফোন করব, তখন বলে দিয়ো।
রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে এক সুহৃদ ফোন করলেন, শোন, আমি আজকে এক কেজি আম ফেলছি!
তাই নাকি! খুবই ভালো খবর। আচ্ছা, বাজারে লিচু আছে না এখনও।
আছে। বেশি দিন থাকবে না। এখন শেষ দিকে।
এবারে এখনও ভালো করে লিচু খাওয়া হয় নাই। লিচু খেতে ইচ্ছা করছে।
কথা বলতে বলতে বাজারে পৌঁছে সোজা লিচুর সামনে।
লিচু কত করে দিচ্ছ?
চারশ' টাকা শ'
কম রাখবা না? তিনশ' টাকা দেই।
লিচুঅলা বলে, কালকা পাচশ' টাকায় কিনতে হবে।
শুনে মেজাজ খারাপ হয়, আচ্ছা কালকা পাচশ' টাকা দিয়ে কিনবো। বলে পরের জনের কাছে, লিচু কত করে দিচ্ছ?
এই লোক তাকিয়েই বিগলিত হাসি হাসে। সাড়ে তিনশ' দিয়েন।
তিনশ' দেই।
আপনে মনে হয় আমারে চিনেন নাই। আমি আপনেরে চিনি। আপনে মৌচাকে বাবুল ভাইয়ের দোকানে যাইতেন।
এখন আর কিছু বলা যায় না। আচ্ছা দেও। লিচু হবে ভালো তো?
লন, খাইয়া দেখেন, বলে একটা লিচু এগিয়ে দেয়।
খাইতে হবে না, দেও, বলতে বলতে আমিও হাত বাড়িয়ে লিচুটা নিয়ে ছিলতে শুরু করি। ছেলা হলে মুখে পুরে বলি, ঠিকমতো আছে তো নাকি বাসায় গিয়ে দেখব বিরাশিটা...
না ভাই, না ভাই, ঠিক আছে। ভাই কি আগের বাসাতেই আছেন?
হু, আচ্ছা যাই।
আইসেন ভাই।

লিচু নিয়ে মনের আনন্দে বাসায় ফিরে বলি, নেও, লিচু নিয়ে আসছি।
গরম মসলা কই!
আনি নাই। ভুলে গেছি।
এক গাদা জিনিসের নাম বললাম আর খালি লিচু নিয়ে বলছে ভুলে গেছি! তোমার না ফেরার আগে ফোন করার কথা!
ভুলে গেছি।
ভুলে গেছি! তোমারে না বললাম লিখে নেও!
লিখতে ইচ্ছা করছিল না। হৈচৈ কইরো না তো, লিচু আনছি, লিচু খাও।
তুমি খাও।
পরে খাবো। এখন গোসল দিব। অনেক গরম, বলতে বলতে আমি গোসলখানায় ঢুকে পড়ি। ঝর্ণা ছাড়তে ছাড়তে গজগজ করে বলি, ভাত খেতে ভুলে যাই আর আমারে বলে মনে করে গরম মসলা আনতে, হুহ্‌।
ঝর্ণার শীতল জল এসে আমাকে ভেজাতে শুরু করে। শরীর জুড়ে একটা প্রশান্তি ছড়িয়ে পড়ে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মে, ২০২১ রাত ১২:৩৭
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×