ঘরের দেয়ালে দেয়ালে ক্ষুদে ডায়নোসরদের সদর্প বিচরণ। বৈদ্যুতিক বাতির চারপাশে তাদের তাদের শিকারি পদক্ষেপ। এদিক-সেদিক ছুটোছুটি-হুটোপুটি তাদের ক্লান্তিহীন। আর দিনের বেলা পর্দার আড়ালে কিংবা আলমারি-শেলফের পেছনে সংগোপন আত্মগোপন। কালের বিবর্তনে মুছে যাওয়া অতিকায় ডায়নোসর শেষমেশ ঘর বেঁধেছে আমার ঘরের আনাচে-কানাচে।
বিরক্তিকর প্রাণি ! যেখানে সেখানে মলত্যাগ করে আমার ঘরের পবিত্রতা বিনষ্টকারী প্রাণি। দূর দূর করে তারাই এদের, ঘর থেকে তাড়িয়ে দিয়ে আমার ঘরকে করি অনুপ্রবেশকারীমুক্ত। কিন্ত পাজি ডায়নোসরগুলো ভীষণ চালু, একদিক তাড়াই, তবে আরেকদিক দিয়ে ঢুকে পড়ে। এক জানালা দিয়ে বের করে দেই আরেক জানালা দিয়ে ভেতরে আসে। আর যখন-তখন, আমার ঘরের যেখান-সেখানে কালো বিচ্ছিরি মল বর্ষণ করে।
আমার দরজায় চিপায় চাপা পড়ে মরে থাকে, স্লাইডিং জানালার ফোকড়ে কাটা পড়ে- ক্ষুদে ডায়নোসর। রোগে ভুগে ধীরে ধীরে মরে এরা। মরে পঁচে দুর্গন্ধ ছড়ায় ঘরে। সংখ্যা কমে ধীরে ধীরে ডায়নোসরের এ ডিজিটাল সংস্করণের।
আমার ড্রয়ারের ভেতর কোণে, কিংবা বইয়ের তাকের কোণায় কোণায়- ডিমের খোসায় বেড়ে ওঠে বাচ্চাকাচ্চা। টিকটিক টিকটিক ডাকতে থাকে ঘরের ভেতর। আমার অনিচ্ছাতেই হয়ে ওঠে এরা আমার প্রতিবেশি- না না রুমমেট।
এদের যাতনা সয়ে আমি পার করি ঘরের সময়। আমার মত আমি থাকি, ওদের পেলেই তাড়াই আমি।
আমায় জ্বালায় এরা-আমি এদের জ্বালাই।

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




