somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিয়ের জন্য কেমন প্রস্তুতি চাই

৩০ শে এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১১:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বিয়ের প্রস্তুতি বলতে সাধারণত আমরা বুঝি টাকা-পয়সা জোগাড় করা বা বিয়ের প্রয়োজনীয় সাজসরঞ্জাম কেনাকাটা ইত্যাদি। বাস্তবে বিয়ের প্রস্তুতি হলো বিয়ে-পরবর্তী বিরূপ পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করা। বিয়ে করার পর অনেককেই প্রতিকূল পরিস্থিতি ও বিভিন্ন পেরেশানিতে পড়তে হয়। পারিবারিক দ্বন্দ্ব এর অন্যতম। বিয়ে করার সাথে সাথেই অনেকের বাবা-মা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজনের সাথে মানসিক দূরত্ব সৃষ্টি হয়।

মায়ের অভিযোগ হলো, ছেলে বিয়ে করার পর বউ ছাড়া কিছুই বোঝে না। ভাইবোনদের অনুযোগ হলো, ভাই বিয়ে করার পর আমাদের খোঁজখবর রাখে না। এভাবে একেক আত্মীয়ের একেক অভিযোগ। এ ধরনের হাজারও অভিযোগ ও অনুযোগে ‘বেচারা’ বিয়ে করেই চরম হতাশায় পড়ে যায়। তাই বিয়ের আগেই উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া ও মানসিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করার নামই হচ্ছে বিয়ের প্রস্তুতি। একটি যুবক ছেলে এত দিন যে জীবন পার করে আসছিল, বিয়ের মাধ্যমে সে সেই জীবন পরিত্যাগ করে দায়িত্বশীল একটি জীবনে পদার্পণ করে। এ জীবনে তার কিছু দায়িত্ব আছে, কিছু পেরেশানি আছে। তাই বিয়ে এক দিকে যেমন আনন্দের, অন্য দিকে তা দায়িত্বের। আজকের যুবক, বিয়ে করার সাথে সাথে হয়ে যাবে দায়িত্ববান স্বামী। তার থাকবে স্ত্রীর প্রতি দায়িত্ব, বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজনের প্রতি দায়িত্ব। মোট কথা, বিয়ে মানেই দায়িত্ববান একজন মানুষে পরিণত হওয়া। স্বামী-স্ত্রীকে মনে রাখতে হবে, প্রাকৃতিক নিয়মে স্বামী-স্ত্রী হয়ে যাওয়া সহজ; তবে আদর্শ স্বামী-স্ত্রী হওয়ার জন্য প্রয়োজন দীর্ঘ দিনের শিক্ষা ও দীক্ষা। দাম্পত্যজীবনে যারা বেশখানিকটা পথ পাড়ি দিয়েছেন বা যারা দাম্পত্যের পড়ন্ত বিকেল পার করার প্রতীক্ষায় আছেন, তাদের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা। আফসোসের বিষয় হলো, আমাদের সমাজের বেশির ভাগ স্বামী-স্ত্রী এ দিকটির প্রতি চরম অনাগ্রহী। ক’জন স্বামী-স্ত্রী আদর্শ স্বামী-স্ত্রী হতে প্রস্তুত? স্বামী-স্ত্রী হওয়ার অল্প কিছু দিনের মধ্যেই আসে বাবা-মায়ের অধ্যায়। সেটা আরো জটিল ও কঠিন অধ্যায়। বাবা-মা তার সন্তানের সাথে কেমন আচরণ করবে, কিভাবে তার নবাগত সন্তানকে শিক্ষাদীক্ষায় বড় করে গড়ে তুলবে, বাবা-মাকে তার সব কিছুই শিখতে হয়।

বিয়ের পর একজন নবাগত নারী স্বামীর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে আগমন করেন। যিনি তার বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজন, শৈশব স্মৃতি সব কিছু ফেলে এমন একজন পুরুষের হাত ধরে চলে আসে, যার সাথে তার না ছিল কোনো পরিচয়, না ছিল কোনো আত্মীয়তা। শুধু একটি পবিত্র বন্ধনের ফলে তারা একত্র জীবনযাপনে প্রস্তুত হয়ে যায়। জীবনসঙ্গিনী হিসেবে যে নারী আসে সে যেমন স্বামীর দুঃখেরও সঙ্গী হয়, সুখেরও সঙ্গী। সারা জীবন একসাথে কাটে একজন পুরুষ ও একজন নারীর জীবন। তাই স্বভাবতই স্বামীর কাছ থেকে নারীর অনেক কিছু চাওয়া-পাওয়ার থাকে। চাওয়ার থাকে স্বামীর আদর-সোহাগ, প্রেম-ভালোবাসা।

অপর দিকে বেশির ভাগ পরিবারে ছেলেরা বিয়ে করলে মায়ের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি হয়ে যায়। কারণ, মা দেখেন তার ছেলে এত দিন তার ছেলে থাকলেও ছেলের বউ রূপে তার ঘরে যে মেয়েটির অনুপ্রবেশ ঘটেছে সে তার ছেলেকে এখন তার থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাইছে। ছেলে এখন মায়ের নেই; নবাগত বউয়ের। এত দিন যে ছেলের ওপর মায়ের ছিল অখণ্ড অধিকার, এখন তার ওপর প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে স্ত্রী-পরিচয়ে এক নারীর অধিকার। আর মায়ের অধিকার খণ্ডিত হতে চলেছে। এই বাস্তবতা মা না পারেন মেনে নিতে, না পারেন অস্বীকার করতে। এই সময় মায়েরা এক অন্তর্জ্বালায় ভোগেন, যা তিনি কাউকে বোঝাতে পারেন না; এমনকি নিজের ছেলেকেও না। তাই সামান্য থেকে সামান্য কারণে তিনি খুব সংবেদনশীল হয়ে পড়েন, তার অনুভূতি চরমভাবে আহত হয়। এ সময় যদি ছেলে বা ছেলের বউয়ের কাছ থেকে কোনো অমার্জিত ও অশোভন আচরণ পান, তখনই মায়ের মনে পড়ে যায় প্রসববেদনা থেকে নিজের জীবনকে তিলে তিলে ক্ষয় করে সন্তানকে গড়ে তোলার সব কষ্ট। মায়ের মনে কষ্টের আর শেষ থাকে না। সুতরাং বিয়ের সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি হলো, মা ও স্ত্রীর অনুযোগ ও অভিযোগগুলোকে সামাল দেয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নেয়া। হেকমতের সাথে তাদেরকে বোঝানো। স্ত্রীকে বোঝাতে হবে যে, তুমি আমার জীবনসঙ্গিনী। তোমার সুখ-দুঃখে আমি পাশে আছি। আমার সুখ-দুঃখে তুমি পাশে থাকবে। তুমি আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, আমি তোমার জীবনের অপরিহার্য অধ্যায়। সুতরাং আমাদের মাঝে ভালোবাসা, যা মূলত ঐশী নেয়ামত তা চির অটুট থাকবে। অপর দিকে মাকে বোঝাতে হবে, মা! আমি তোমার ছিলাম, তোমার আছি, তোমারই থাকব। এত দিন তোমার সেবায় আমি একা নিয়োজিত ছিলাম। এখন তোমার সেবা করার জন্য মহান আল্লাহ তায়ালা আমার সহযোগী দান করেছেন। তাই তুমি আমাদেরকে যখন যা লাগবে, বলবে। তোমার সেবাযত্নে আমাদের সহযোগিতা করবে পরামর্শ দিয়ে, শাসন দিয়ে। আরেকটি কথা মা! আমি তোমার সন্তান, তোমাকে আমি মা বলে ডাকি। এই ডাকটি পাওয়ার জন্য তুমি কত কষ্ট করেছ! দশ মাস দশ দিন গর্ভে ধারণ করেছ। আমার সব আবর্জনা তুমি পরিষ্কার করেছ। শীতের রাতে প্রস্রাব-পায়খানা করে তোমাকে কষ্ট দিয়েছি, তুমি এসব কষ্ট হাসিমুখে বরণ করেছ। এখন আমি তোমাকে মা বলে ডাকি। আর তোমার ঘরের নবাগত যে মেহমান এসেছে, তার জন্য তুমি কিছুই করনি। অন্যের ঘরে লালিতপালিত একটি মেয়ে। তার পরও সে তোমাকে মা বলে ডাকে। এর চেয়ে তুমি আর কী চাও? সুতরাং তুমি মনে রেখো মা! আমার কাছ থেকে তুমি যতটুকু আশা করতে পারো, তার কাছ থেকে ততটুকু আশা করতে পারো না। সে তোমাকে ততটুকু দেবে না, যতটুকু আমি দেবো। সেটা মেনে নিয়েই জীবন চালাতে হবে মা! এভাবে মাকে বোঝাতে হবে। এভাবে বোঝাতে পারলে সাংসারিক জীবনের অনেক ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকতে পারব, ইনশাআল্লাহ।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×