somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উপকারের খোঁটা দেয়া জঘন্যতম অপরাধ

০৯ ই মে, ২০১৫ রাত ৯:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দান-সদকা করে কোনো মুসলমান ভাইয়ের উপকার করা একটি সওয়াবের কাজ। মানুষকে দান-সদকা করে উপকার করার প্রতি গুরুত্বারোপ করে মহান আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, 'তোমরা সালাত আদায় করো জাকাত দাও এবং আল্লাহ তায়ালাকে উত্তম ঋণ দাও।' (সূরা মুজাম্মিল : ২০)।
অন্যত্র তিনি বলেন, 'তোমরা যদি আল্লাহ তায়ালাকে উত্তম ঋণদান কর তাহলে আল্লাহ তায়ালা তা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করে দেবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন।'
আল্লাহ তায়ালা অমুখাপেক্ষী এক মহান সত্তা। যার কোনো জিনিসের প্রয়োজন নেই। কোনো মাখলুকের সাহায্য-সহযোগিতার প্রয়োজন নেই; বরং তিনিই পৃথিবীর সব সৃষ্টিজীবকে সাহায্য করেন। মহাভা-ারের মালিক মানুষের কাছে ঋণ চান তার মহাভাণ্ডার শূন্য হওয়ার কারণে নয়; বরং তিনি ঋণ চান তার অসহায়-গরিব, গৃহহীন, বস্ত্রহীন, ক্ষুধার্ত বান্দাদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব করার জন্য। সুতরাং আল্লাহ তায়ালাকে ঋণ দেয়ার আহ্বান অত্যন্ত গুরুত্ববহ ও হৃদয়স্পর্শী। আল্লাহকে ঋণদান করলে অর্থাৎ আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের দান-খয়রাত করলে ইহজগতে তা ফেরত পাওয়া যাবে না; তবে আখেরাতে আল্লাহ তায়ালা প্রচুর লাভসহ ফেরত দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি রয়েছে। হাদিস শরিফে আছে, 'যে ব্যক্তি কোনো মোমিনের পার্থিব কষ্টগুলো থেকে একটি কষ্ট দূর করে দেয়, আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের দিন তার কষ্টগুলো দূর করে দেবেন। যে ব্যক্তি কোনো অভাবীকে দুনিয়ায় ছাড় দেয়, আল্লাহ তায়ালা তাকে দুনিয়া ও আখেরাতে ছাড় দেবেন। যে ব্যক্তি কোনো মোমিনের দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ তায়ালা দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন। আর আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে সাহায্য করেন, যতক্ষণ সে তার ভাইয়ের সাহায্য করে।' (মুসলিম শরিফ)।
কিন্তু আজকাল দেখা যায়, একশ্রেণীর মানুষ দান-খয়রাত করে ও ধারকর্জ দিয়ে পরক্ষণেই খোঁটা দেয়। বিশেষত যদি গ্রহীতার সঙ্গে দাতার কোনো কারণে সুসম্পর্ক বিনষ্ট হয় বা মতপার্থক্য দেখা দেয় তখন অতীতের উপকারের খোঁটা দিতে দেখা যায়। উপকার করে খোঁটা দেয়া জঘন্যতম অপরাধ। উপকারের সব সওয়াবকে বিনষ্ট করে দেয়। উপকার করে খোঁটা দেয়ার চেয়ে উপকার না করাই উত্তম। মানুষের উপকার করার দ্বারা যে মহাপুণ্য অর্জিত হয়, খোঁটা দেয়ার দ্বারা তা নষ্ট হয়ে যায়। তাই খোঁটা দেয়া ইসলামের দৃষ্টিতে জঘন্য অন্যায় ও কবিরা গুনাহ। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, 'যারা স্বীয় সম্পদ আল্লাহ তায়ালার রাস্তায় ব্যয় করে এবং তা প্রকাশ করে না এবং কষ্টও দেয় না, তাদের জন্যই রয়েছে তাদের পালনকর্তার কাছে পুরস্কার। তাদের কোনো আশঙ্কা নেই, তারা চিন্তিত হবে না। নম্র কথা বলে দেয়া ও কোনো অপ্রীতিকর ব্যাপারে সামান্য উদারতা ও ক্ষমা করে দেয়া ওই দান-খয়রাতের চেয়ে উত্তম। আল্লাহ তায়ালা সম্পদশালী ও সহিষ্ণু। 'হে ঈমানদাররা! তোমরা অনুগ্রহের কথা প্রকাশ করে এবং কষ্ট দিয়ে নিজেদের দান-খয়রাত নষ্ট করো না। সে ব্যক্তির মতো যে নিজের সম্পদ লোক দেখানোর জন্য ব্যয় করে এবং আল্লাহ তায়ালা ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে না। অতএব, এ ব্যক্তির দৃষ্টান্ত একটি মসৃণ পাথরের ন্যায়, যার ওপর কিছু মাটি পড়েছিল, অতঃপর এর ওপর প্রবল বৃষ্টি বর্ষিত হলো, অনন্তর তাকে সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে দিল। তারা ওই বস্তুর কোনো সওয়াব পায় না যা তারা উপার্জন করেছে। আল্লাহ তায়ালা কাফের সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না।' (সূরা বাকারা : ২৬২-৬৪)।
খোঁটা দেয়া হীনমন্যতার পরিচয়। যারা হীন, যাদের হৃদয় সঙ্কীর্ণ, একমাত্র তারাই খোঁটা দেয়। এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। যাদের চরিত্রে নবীর (সা.) শিক্ষার বিকাশ ঘটে তারাই একমাত্র এই ব্যাধি থেকে বেঁচে থাকতে পারে। হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, হজরত আবুজর (রা.) থেকে বর্ণিত, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তিন শ্রেণীর লোকের সঙ্গে আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের দিন কথা বলবেন না। খোঁটাদানকারী, সে যা কিছু দান-সদকা করে পরক্ষণেই তার খোঁটা দেয়। আর যে ব্যক্তি মিথ্যা শপথ করে তার পণ্য বিক্রি করে এবং যে ব্যক্তি টাকনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে চলে বা পরিধান করে।' (সহিহ মুসলিম : ২০২)।
আরেক হাদিসে আছে, 'তিনজন বেহেশতে যেতে পারবে না। তারা হচ্ছে- মাতাপিতার অবাধ্য সন্তান, মাদকসেবী, উপকার ও দানদক্ষিণার প্রচার ও খোঁটাদানকারী।' (নাসায়ি শরিফ)।
মোটকথা, কাউকে উপকার করতে চাইলে নিঃস্বার্থভাবেই করব; কিন্তু উপকার করে খোঁটা দেয়ার চেয়ে উপকার না করাই ভালো।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×