হজের অন্যতম আমল জামরায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ।
মিনায় পৌঁছে আল্লাহর মেহমানেরা বড় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করেন। জনশ্রুতি আছে, হজরত ইব্রাহিম (আ.) নিজ সন্তান ইসমাঈলকে (আ.) কোরবানি করার জন্য মিনায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। জামারায় পৌঁছালে শয়তান তাঁকে ধোঁকা দেয়। তখন শয়তানকে লক্ষ্য করে তিনি পাথর নিক্ষেপ করেন।
তার প্রেক্ষিতেই সকল হাজীগনকে
প্রথম দফায় সগির নামক ছোট শয়তানকে,
২য় দফায় ওস্তা নামক মেঝ শয়তানকে
এবং তৃতীয় দফায় আকাবা নামক বড় সন্তানকে উদ্দেশ্য করে ৩X৭= ২১টি পাথর ছুড়তে হয়।
তিন শয়তানকে তাকবিরসহ পাথর নিক্ষেপ করা হজ্বের অপরিহার্য অংশ। শয়তানের প্রতি ঘৃণা প্রকাশের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এই পাথর নিক্ষেপ করা হয়।
যে স্থানে হাজীগন পাথর নিক্ষেপ করতে যান-সেই স্থানটা লোকারণ্য-তাই সুশৃংখল হয়ে অনেকটাই ধীর গতিতে পাথর নিক্ষেপের অনুষ্ঠান পালন করা বাঞ্চনীয়। পাথর নিক্ষেপের সময় ধীরস্থিরতা বজায় রাখা জরুরি, যাতে আল্লাহর নিদর্শনের অসম্মান না হয়।
রাগ-আক্রোশ নিয়ে জুতা কিংবা বড় পাথর নিক্ষেপ করা কখনও উচিত নয়।
ঐ এলাকার নিরাপত্তা/শৃংখলা ব্যবস্থাও অত্যন্ত সাধারন হওয়ায় পাথর নিক্ষেপের সময় বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটা ও প্রাণহানির পূর্ব ইতিহাস আছে।
তবে এখন ওখানকার সুযোগ সুবিধা অনেক ভাল।
শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ মূলত প্রতিকী হলেও দেখা যায় অনেক হাজী সাহেবরাই পাথর নিক্ষেপের যায়গাটাকেই বাস্তব শয়তান মনে করে প্রচন্ড রাগ ক্ষোভ প্রকাশ করে পাথর ছুড়ে মারেন।কেউ
কেউ জুতা, পানির বোতোলও ছুড়ে শয়তাম মারার উল্লাশ করেন।এইধরনের ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ দেখায় মূলত নাইজেরিয়াসহ আরো কয়েকটি আফ্রিকান দেশের হাজীগন।
ওনারা ওনাদের দৈহিক শক্তি দিয়েই সব কিছু করেন-ওনারা যখন দলবদ্ধ হয়ে চলাফেরা করেন তখন পাশাপাশি থাকা দূর্বল লোকেরা কেনূর গুতায় ধরাশায়ী হলেও তারা ভ্রুক্ষেপ করেননা।
তাঁদের অমন ক্রোধান্বিত পাথর ছুড়ে মারা দেখে আশাপাশের অন্যান্য হাজীরাও আরো বেশী ক্রুদ্ধ হয়ে পাথর ছুড়তে থাকেন-তখনই ঘটে দূর্ঘটনা……
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




