somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শাবিতে মুর্তি? ভাঙো ভাঙো মুরতাদদের হাত....

০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ২:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি মুক্তিযুদ্ধের ভাষ্কর্য নির্মিত হতে যাচ্ছে। এটি নিয়েই যত নাটকিয়তার শুরু। আমি জানি না বাংলাদেশে কতটি পীর আছে, আর এদের কাজই কি? আমার কাছে মনে হয় তাদের আর তাদের মুরিদদের তাদের ঠুনকো ঈমান রক্ষা করা ছাড়া আর কোন কাজ নাই। ভাষ্কর্য নির্মানের সিদ্ধান্তের পরপরই এরকম হাজারো পীরের লাখো মুরিদ মেসে মেসে এসে তাদের অশেষ নেকী হাসিল করার চেষ্টায় লিপ্ত। তারা মেসে মেসে গিয়ে ছাত্রদের মুর্তি নির্মানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে আহবান জানচ্ছে। এর পিছনো তাদের ঠুনকো যুক্তিগুলো হল-

১। ভাষ্কর্যের নামে মুর্তি।
২। শাহজালালের পুন্যভুমিতে মুর্তি।
৩। ঈমানী দায়িত্ব।

এগুলো নিয়ে কিছু বলার আগে যারা এ নিয়ে আন্দোলন করছে তাদের নিয়ে কিছু কথা বলি। বাংলাদেশে আর কিছু থাকুক আর না থাকুক, অলিতে গলিতে মসজিদ আছে হাজারে হাজারে আর আছে গজিয়ে ওঠা পীর। যদিও মসজিদগুলো শুক্রবার ছাড়া ব্যবহার হয় না, আর পীরদের কাজটা কি তা আমি জানি না। মসজিদগুলো অন্তত সপ্তাহে একবার কাজে লাগে, পীরের দরকার কখন হয় আমার বোধগম্য না। আর দরকারই বা হবে কেন? দেশের লাখো কি কোটি কোটি সমস্যা তাদের (পীর) কাছে কোনই গুরুত্ব পায় না। তাদের কাছে একমাত্র গুরুত্বপুর্ণ জিনিষ হল তাদের পিতৃদত্ত ঈমান। আমাদের দেশের দারিদ্রতা, বেকারত্ব, নারীর প্রতি বৈষম্য, অর্থনৈতিক মন্দা এগুলো তাদের কাছে কোন সমস্যাই মনে হয় না। কারন দারিদ্র বিমোচন, বেকারত্ব দুরীকরন সহ বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা মোকাবেলায় তাদের কোন কর্মসুচী বাস্তবায়নে তাদের কোন আগ্রহ দেখি না। এই সেক্টরগুলোতে তাদের কোন কর্মসুচিও আমার চোখে কখনো পড়ে নি। আমার আবার চোখেও সমস্যা আছে! তাদের বয়ানে আছে শুধু একটা মাত্র বিষয়, আর তা হল কিভাবে ঈমান শক্ত করা যায়। ঈমান শক্ত করার কাজেই তারা আর তাদের ভক্তরা যারা জাহান্নামের ভয়ে নাহয় জান্নাতের লোভে তাদের ক্বালবের সাথে নিজেদেরকে জুড়ে নিয়েছে তারা ব্যস্ত থাকে।

এবারে আসি তাদের ঠুনকো যুক্তিতে। তাদের প্রথম যুক্তি ভাষ্কর্যের নামে মুর্তি। তারা যদি না জানে যে ভাষ্কর্য আর মুর্তির মধ্যে পার্থক্য কি এই অজ্ঞতার বোঝা অন্যের উপর চাপানো কেন?

শাহজালালের পুন্যভুমিতে মুর্তি! মুর্তি যদি ইসলামে নিষিদ্ধই হয় তাহলে তা কি শুধু মাত্র পুন্যভুমিতে নিষিদ্ধ? যদি তা না হয় তাহলে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এবং এর বাইরে দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা ভাষ্কর্যের নির্মানকাজ চলার সময় এরা কি কোন প্রতিবাদ করেছিল? এমন এক দেশে থাকি রে ভাই। জাতীয় দিবসগুলোতে দেশের নেতৃস্থানীয়রা যখন বিভিন্ন পাথরের স্থাপনায় পুষ্পস্তবক অর্পন করে এসে কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করে তখন এইসব মাওলানার তো কিছু বলতে শুনি না।


তোমার ঈমানী দায়িত্ব নিয়ে তুমি থাক। অন্য কেউ যদি ঈমান নিয়ে মরতে না চায় তাহলে তুমি কি করবা? তোমার ঈমান তার উপর চাপায়ে দিবা? ঈমানের এসব ব্যবসায়ীর ধারনা তাদের ঈমান একেবারে শুদ্ধ। এটা অন্যের উপর চাপিয়ে দেবার অধিকার তাদের আছে।

এখন জনগন থেকে দুরে থাকা এইসব পীরদের কথা মেনে কেন নিতে হবে? এর পিছনে একটা কারন খুজেও পাই না। খারাপ লাগে তখন যখন দেখি আমার ক্যম্পাসের কোন ভাল সাবজেক্টে পড়া বড়ভাই হুদাই ঐসব পীরদের কথা শুনে ভাষ্কর্য নিয়ে মেসে আসে হেদায়েতের বস্তা নিয়ে। এদেশের পীরদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কেমন তা মোটামুটি আমরা সবাই জানি। তারপরও একটা সর্বচ্চ বিদ্যপীঠে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী যখন ঐসব প্রায় মুর্খ পীরদের পিছে ছোটে তখন কী-বোর্ডে লেখা থেমে যায়....
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:৫০
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×