somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হত্যাকারীর নস্টালজিয়া

২৮ শে এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কলেজে পড়ার সময় থেকে আমার মেসজীবন শুরু। এক রুমে দুজন থাকতাম। সন্ধ্যার পর পড়ার সময় রুমের বাতি নেভানোই থাকত। আমি আর আমার রুমমেট দুজনেই পড়ার জন্য টেবিল ল্যম্প ব্যবহার করতাম। টেবিল ল্যম্প ব্যবহার করলেই বাতির আসেপাশে পোকা ঘোরাঘুরি করত। মাঝে মাঝে দেখতাম টেবিলের উল্টো দিকের দেয়ালে একটা টিকটিকি। পোকার লোভে টেবিলের পাশের দেয়ালে ঘোরাঘুরি করত।


কতদিন যে পড়তে পড়তে টিকটিকিটার শিকার করা দেখেছি। অদ্ভুত কিছু ব্যপার লক্ষ করেছি তখন। টিকটিকিকে আমি কখনোই আলোতে ডাকতে শুনিনি। অন্ধকার ঘরে সে কি কোন প্রাগৈতিহাসিক উল্লাস প্রকাশ করতে ডাকত কিনা কে জানে? এটি কোন বৈজ্ঞানিক তথ্য উপাত্ত নয়, ব্যক্তিগত এ্যরবিট্রারি তথ্যের সংগ্রহ বলতে পারেন। যাই হোক, এভাবে পড়ার টেবিলের আশেপাশে টিকটিকিটিকে বারংবার দেখতে দেখতে এবং শোবার সময় এর ডাক শুনতে শুনতে ঘুমুতে যাবার একটি অনাকাঙ্খিত বদঅভ্যাস তৈরি হয়ে যাবার দরুন টিকটিকিটির সাথে একটি সুক্ষ্ম সম্পর্ক তৈরি হল আমার।

একদিন অনেক রাতে ঘুম ভেঙে গেল। তেমন কিছুই না, প্রকৃতির ডাক। উঠে ঘুমঘুম চোখে টয়লেটের দিকে এগিয়ে গেলাম। টয়লেটের দরজা বন্ধ করার সময় উপর থেকে যেন কি একটা পায়ের কাছে পড়তে দেখলাম। ঘুমে ঢুলুঢুলু চোখে সেটি ঠিক ঠাওরে উঠতে পারলাম না।

এরপর কয়েকদিন পড়ার টেবিলে টিকটিকিটির দেখা পাইনি, ঘুমুতে যাবার সময়ও টিকটিক শব্দ শুনিনি। দিনকয়েক পর একদিন টয়লেটে দেখলাম দরজার কাছেই পানির কলের নীচে রাখা বালটির চিপায় একটি টিকটিকিট মৃতদেহ। সেদিন রাতের সাবকনশাস মাইন্ড থেকে কিছু ছবি মনে পড়ল - একটি টিকটিকি টয়লেটের দরজার উপরে বসে ছিল বোধ হয়, আমি দরজাটা বন্ধ করতেই দরজার পাল্লার সাথে গলা বেধে এটির ইহজগত সাঙ্গ হয়।


আজ আমার বাইকের চাকা একটি ছুচোর মৃত্যুর কারন। এই ঘটনাটা আমাকে অনেকদিন আগের সেই টিকটিকিটির কথা স্মরন করিয়ে দিল।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্বর্গের নন্দনকাননের শ্বেতশুভ্র ফুল কুর্চি

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ২২ শে মে, ২০২৪ বিকাল ৫:১৭


কুর্চি
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : কুরচি, কুড়চী, কূটজ, কোটী, ইন্দ্রযব, ইন্দ্রজৌ, বৎসক, বৃক্ষক, কলিঙ্গ, প্রাবৃষ্য, শক্রিভুরুহ, শত্রুপাদপ, সংগ্রাহী, পান্ডুরদ্রুম, মহাগন্ধ, মল্লিকাপুষ্প, গিরিমল্লিকা।
Common Name : Bitter Oleander, Easter Tree, Connessi Bark,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সচলের (সচলায়তন ব্লগ ) অচল হয়ে যাওয়াটই স্বাভাবিক

লিখেছেন সোনাগাজী, ২২ শে মে, ২০২৪ বিকাল ৫:২৬



যেকোন ব্লগ বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর, একটি ভয়ংকর খারাপ খবর; ইহা দেশের লেখকদের অদক্ষতা, অপ্রয়োজনীয় ও নীচু মানের লেখার সরাসরি প্রমাণ।

সচল নাকি অচল হয়ে গেছে; এতে সামুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

হরিপ্রভা তাকেদা! প্রায় ভুলে যাওয়া এক অভিযাত্রীর নাম।

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ২২ শে মে, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:৩৩


১৯৪৩ সাল, চলছে মানব সভ্যতার ইতিহাসের ভয়াবহ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। টোকিও শহর নিস্তব্ধ। যে কোন সময়ে বিমান আক্রমনের সাইরেন, বোমা হামলা। তার মাঝে মাথায় হেলমেট সহ এক বাঙালী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছেলেবেলার বন্ধু ও ব্যবসায়িক পার্টনারই মেরেছে এমপি আনারকে।

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ২২ শে মে, ২০২৪ রাত ১০:৪৮


ঝিনাইদহ-৪ আসনের সরকারদলীয় এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিল তারই ছোটবেলার বন্ধু ও ব্যবসায়িক পার্টনার আক্তারুজ্জামান শাহীন!

এই হত্যার পরিকল্পনা করে তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আরেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

টাকা ভাংতি করার মেশিন দরকার

লিখেছেন সায়েমুজজ্জামান, ২৩ শে মে, ২০২৪ সকাল ৯:১০

চলুন আজকে একটা সমস্যার কথা বলি৷ একটা সময় মানুষের মধ্যে আন্তরিকতা ছিল৷ চাইলেই টাকা ভাংতি পাওয়া যেতো৷ এখন কেউ টাকা ভাংতি দিতে চায়না৷ কারো হাতে অনেক খুচরা টাকা দেখছেন৷ তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×