somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাজে গল্প

২৬ শে জুন, ২০০৬ বিকাল ৪:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আইজুদ্দিন সাহেবের কী দুর্মতি হয়েছিলো, বেশ কয়েক বছর বিপত্নীক জীবন কাটিয়ে শেষে প্রৌঢ়ত্বের ধূসর এলাকা টপকে গিয়ে বিয়ে করলেন বেশ রগরগে এক তরুণীকে। রগরগে বিশেষণটি গল্পকাহিনীর আগে বসালে শুনতে ভালো লাগে (বিশেষণ আর কাহিনী দুটিই), কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষে কিশোরী-তরুণী-যুবতীরাও রগরগে হয়ে উঠতে পারে বইকি। যারা আবারও জিজ্ঞেস করবেন, কিভাবে পারে, তাঁদের বলি, শিরোনাম দেখুন।

আইজুদ্দিন প্রথম স্ত্রীর ইন্তেকালের কিছুদিনের মধ্যেই বিয়ে করতে পারতেন। সবাই তাঁকে সেরকম পরামর্শই দিয়েছিলো। আইজুদ্দিন অন্যের কথা কানে নিতে চান না, নিজের বিচার বিবেচনায় চলেন। তাই দীর্ঘদিন একাকী সংবৃত জীবনযাপনের পর ঐ ধূসর এলাকা টপকে এসে তিনি অসংবৃত হবার পণ করলেন, এবং আলোচ্য রগরগে স্ত্রীকে ঘরে তুললেন।

কয়েক মাস বেশ ফূর্তিতে কাটলো আইজুদ্দিনের।

এরপর একদিন ব্যবসার কাজে চিটাগাং গিয়েছিলেন, ঢাকায় ফিরে আসতেই এক নিন্দুক প্রতিবেশী দাঁত কেলিয়ে বললো, আইজুদ্দিন সাহেব দেখি ঢাকার বাইরে গেলে ঘরে অস্থায়ী আইজুদ্দিন রেখে যান!

আইজুদ্দিন বুঝতে পারেন না, ব্যাপার কী?

প্রতিবেশী ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দ্যান, মহল্লার আরেক ছোকরা, জিমি সরকার, এই দুদিন তাঁর বাড়িতে রাত্রিযাপন করেছে।

আইজুদ্দিন চটে ওঠেন। ককখনো এইসব হতে পারে না, বলেন তিনি। তাঁর বউ রগরগে হলেও চরিত্রবতী (!), সে মোটেও ঐ রকম নয়।

কিন্তু পড়শীরা শুধু হাসে।

এরপর আবারও ব্যবসার কাজে আইজুদ্দিনকে যেতে হয় খুলনায়। ফিরে এসে আবারও অস্থায়ী আইজুদ্দিন, সেই জিমি সরকারের কীর্তিকাহিনী শুনতে হয় তাঁকে পড়শীদের মুখে। সেদিন নাকি জিমি তাঁরই একটি লুঙ্গি পরে বাজার করে এনেছে। আইজুদ্দিন গালাগালি করে পড়মীদের হাঁকিয়ে দ্যান।

কিন্তু ব্যবসা তো আর থেমে থাকে না। তাঁকে যেতে হয় কলকাতা, সিঙ্গাপুর, ব্যাংকক। রগরগে বউটাকে সেখানে সাথে করে নিয়ে যেতে চাইলেও সম্ভব হয় না। আর কী আশ্চর্য, বউটারও তেমন গরজ নেই তাঁর সাথে যাবার। আইজুদ্দিন ঘুরে ফিরে আসেন, বীচে হাফপ্যান্ট পরা শ্বেতাঙ্গিনী, ড্যানস ক্লাবে মঙ্গোলয়েড নগি্নকা, ইত্যাদি দেখে উত্তেজিত হয়ে ঘরে ফেরেন। কিন্তু পড়শীরা সব স্পয়েলস্পোর্ট, তাঁর আবেগে ঠান্ডা পানি ঢেলে দিয়ে জিমি সরকারের কান্ডকারখানা বয়ান করতে থাকে, জিমি নাকি সেদিন তাঁর বউকে কোলে নিয়ে বারান্দায় বসে সিগারেট খেয়েছে, একসাথে সিনেমা দেখে এসে হাওয়াইমিঠাই খেতে খেতে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করেছে, এইসব।

আইজুদ্দিন প্রচন্ড ক্ষেপে ওঠেন পড়শীদের ওপর। যত্তোসব নোংরা মনের লোকজন।

কিন্তু একদিন তিনি গ্যাসের বিল দিয়ে এসে ঘরে ফিরলে দরজা খুলে দেয় ... জিমি সরকার!

আইজুদ্দিন হাঁ করে তাকিয়ে থাকেন। জিমির পরনে তাঁরই একটা হাফপ্যান্ট, তাঁরই একটা সাদা গেঞ্জি। ওগুলো ব্যাংকক থেকে কেনা।

জিমি সরকার গলা খাঁকরায়। বলে, দেখুন, আমি বেশ কিছুদিন অস্থায়ী আইজুদ্দিনগিরি করেছি। কাজটা আমার ভালোই লেগেছে। আপনার স্ত্রীও আপত্তি করেননি। আপনার আপত্তি থাকলে আমার বালছাল কিছুই এসে যায় না। আমার নাম জিমি সরকার! দেখুক লোকে, বলুক লোকে, আমি করি আমার যা মন চায়! তো. যা বলছিলাম, এখন থেকে আমি আপনার বাসাতেই থাকবো। আপনি যেমন আছেন তেমনই থাকুন, আমাকে আমার কাজ করে যেতে দিলেই হবে। ট্যাঁ ফোঁ করবেন তো পেঁদিয়ে খাল তুলে নেয়া হবে।

আইজুদ্দিন কপালের ঘাম মুছতে মুছতে ঘরের ভেতরে পা রাখেন।

পড়শীরা এটা নিয়ে অনেক কথা বলে। একই বাড়িতে একটা আইজুদ্দিনের পাশাপাশি আরেকটা অস্থায়ী আউজুদ্দিন? এটা কেমন কথা? এ কেমন ব্যাভার? এক ঘর মে দো পীর?

আইজুদ্দিনের রগরগে বৌটার বক্তব্য কী, সেটা কিন্তু কেউ জানতেও চায় না।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

থাক অহমিকায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


তোমার রঙিন আকাশে নেই
যে অমাবস্যার- অন্ধকার
ঝলমল করছে শুধু চাঁদ-
ডুবছ ডুবছ সুখমারী রাত!
উড়ছ শঙ্খচিলের ডানায়;
তোমার আকাশে অমাবস্যা নাই।

আমি মাটি বন্দি হয়েছি
মরার আগেই- মরার আগেই-
স্বপ্ন দেখি শুধু হুতুম পেঁচা হব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫০



বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন[

শেখ মুজিব ইতিহাসের খলনায়ক।
জাতীয় বেইমান।
পাকিস্তান ভাঙার অপরাধী।
- এই কথাগুলো আপনি বিশ্বাস করেন?
তাহলে আজ আপনাকে একটা অনুরোধ করব- একবার শুধু থামুন।

রাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৫

ফারাজা তাবাসসুম খান-
অনেকদিন তোমাকে নিয়ে লিখি না। খুব ব্যস্ত আছি। আমার সব সময় নিয়ে নিচ্ছে অফিস। আমি অফিস থেকে তোমাকে ফোন করলে তুমি কথা বলতে চাও না। আবার আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Mystic River – জোয়ারে ফিরে আসে সবকিছু

লিখেছেন রাজসোহান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩১



১৯৭৫ সালের বোস্টন। শ্রমজীবী মানুষের সাধারণ পাড়া। রাস্তায় হকি খেলছিল তিনটে বাচ্চা ছেলে। হঠাৎ বল গড়িয়ে পড়ল ড্রেনে। খেলা ওখানেই শেষ। ফুটপাতের একপাশে তখন সদ্য ঢালা ভেজা সিমেন্ট। ছেলেগুলো কাঠি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×