somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রহস্যগল্প 005 [সম্পূর্ণ না হলেও আংশিক রঙিন!]

১৩ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ১২:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গাব্রিয়েল মগাদিশু চৌরাসিয়া একটা সাদাকালো হাফপ্যান্ট পরে নিজের বৈঠকখানায় পায়চারি করছেন। সাদাকালো হাফপ্যান্ট মানে এই নয়, এর একটা পায়া সাদা, অন্যটা কালো। সাদাকালো প্যান্ট মানে এ-ও নয় যে প্যান্টটা জেব্রার মতো ডোরা বা পোলকা ফুটকি দিয়ে ছোপানো। প্রকৃতপক্ষে প্যান্টটা সাদাই ছিলো, এখন ময়লা হয়ে কালচে মেরে গেছে। বউ ঝগড়া করে বাপের বাড়ি চলে গেছে, তাই চৌরাসিয়া অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে ঘরে ময়লা জামা পরে থাকতে পারেন।

পায়চারি করতে করতেই মগাদিশু চৌরাসিয়া প্যান্টের পকেট থেকে ভোগান্তির বোতল বার করেন। তাঁর পকেটগুলি বোতলের মাপে তৈরি করা, তিনি মর্জিমাফিক কোনদিন 700 মিলি কোনদিন 330 মিলির হাফপ্যান্ট পরেন। পায়চারি করতে করতেই তিনি বোতলে রহস্যভেদীসুলভ একটি গুরু চুমুক দিয়ে সোফায় উপবিষ্ট মিসেস অর্ধকুমারীর দিকে দৃষ্টিপাত করেন।

"আপনি বলতে চাইছেন, কে বা কাহারা গত রাতে আপনার ফ্ল্যাটের দরজাটাকে একেবারে আগাপাস্তলা লাল রং করে দিয়ে গেছে?"

মিসেস অর্ধকুমারী শুষ্কমুখে সায় দেন। আজ তিনি মাথায় সাদাকালো (ডোরাকাটা) একটা হিজাব পরে এসেছেন।

"তো দিলোই না হয়। আপনার সমস্যা কোথায়?"

মিসেস অর্ধকুমারী চটে ওঠেন। বলেন, "কী যে বিশ্রী একটা কটকটে রং, না দেখলে বিশ্বাস করতে পারবেন না! তাছাড়া আমার দেয়ালের সাথে ঐ রংটা ম্যাচ করে না মোটেও! তাছাড়া ... তাছাড়া গায়ে পড়ে এভাবে দরজা রং করে দেয়াই বা বরদাশত করবো কেন? আজকে দরজা রং করছে কালকে ঘরে ঢুকে ছুরি মারবে! আপনি এর একটা বিহিত করে দিন!"

চৌরাসিয়া গম্ভীর মুখে আবার পায়চারি শুরু করেন।

গত পরশু থেকে শুরু হয়েছে এই ফ্যাকড়া। অর্ধকুমারীকে নিয়ে মোট হলো চারজন। সবারই একই অভিযোগ। কে বা কাহারা এসে ঘরের দরজায় রং করে দিয়ে যায়। মক্কেলগুলো মহা ব্যাক্কেল। ঘরের দরজায় রং করে যায় কে বা কাহারা, কিন্তু তারা ঠাহর করতে পারে না। এটার জন্য তাদের রহস্যভেদীর শরণাপন্ন হতে হয়। এটা একটা কথা হলো? আর বিহিত করে দিলেও তো শালারা পয়সা দিবে না!

গত পরশু এসেছিলো বারমুডা খান। তার আগের রাতে কে নাকি তার ঘরের দরজা একেবারে কাঁঠালপাতারঙা করে দিয়ে গেছে। না, এবার বাড়িওয়ালাকে সন্দেহ করছে না সে। বাড়িওয়ালা এমনই কঞ্জুষ মাক্ষিচুস যে পান খেয়ে দরজায় পিক পর্যন্ত ফেলবে না, রং করে দেয়া তো দূরের কথা। তার ধারণা, এটা কোন রূপক হুমকি, কোন মাফিয়াবাহিনীর শাসানি। চৌরাসিয়া সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়ে তাকে বিদায় করেছেন।

গতকাল সকালে এসেছিলেন পাশের ফ্ল্যাটের মিস মঞ্জুময়ূরী। তাঁরও একই অভিযোগ। তবে তাঁর ঘরের দরজার রং হলুদ করে দেয়া হয়েছে, গত রাতে। মঞ্জুময়ূরীর সন্দেহ সিনে সাংবাদিক পমি রহমানকে, কারণ হলুদ সাংবাদিকতা করে করে নাকি ঐ ব্যাটার হলুদের ওপরই একটা ইয়ে জন্মে গেছে। কেন পমি রহমান গায়ে পড়ে তাঁর ঘরের দরজা রং করে দেবে, এ প্রশ্নের সদুত্তর মঞ্জময়ূরী দিতে পারবেন না, এবং দিতে পারবেন না বলেই তো মগাদিশু চৌরাসিয়ার কাছে আসা। তবে তিনি আর এই ফ্ল্যাটে আপাতত একা একা থাকতে সাহস পাচ্ছেন না, উত্তরায় বড় বোনের বাড়িতে চলে যাচ্ছেন, চৌরাসিয়া যাতে এই রহস্যের একটা কিনারা করেন।

চৌরাসিয়া পমি রহমানকে পাকড়াও করে সন্ধ্যেবেলা জেরা করবেন ভেবেছিলেন, কিন্তু বিকেলে সে নিজেই এসে হাজির। অভিযোগ, কে বা কাহারা সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে তার ঘরের দরজায় বিদঘুটে একটা নীল রং করে দিয়ে গেছে, মুরগির ঘরের দরজাতেও নাকি কেউ ওরকম বিশ্রী রং লাগায় না। পমি রহমানের সন্দেহ মিস মঞ্জুময়ূরীর দিকে, মহিলার নাকি মতলব ভালো নয়, কিন্তু তাঁর পক্ষে যে ঐ কাজ করা সম্ভব নয় তার সাক্ষী আবার স্বয়ং চৌরাসিয়া, উত্তরায় বোনের বাসায় চলে যাবার অ্যালিবাই আছে মহিলার। পমি রহমান ফোঁসফোঁস করতে থাকে হলুদ রঙের বৃত্তান্ত শুনে। চৌরাসিয়া তাকেও বিদায় করেন সাবধানে থাকতে বলে।

আর আজ মিসেস অর্ধকুমারী এসেছেন লাল রঙের নালিশ নিয়ে।

হুমমমমমমমমম।

মিসেস অর্ধকুমারীকে বিদায় করে দিয়ে চৌরাসিয়া মিনিট দশেক ভোগান্তি পান করেন। মদ্যপান করলে তাঁর বুদ্ধি আরো ধারালো হয়ে ওঠে।

কিছুক্ষণ ভেবেচিন্তে তিনি ঘরে তালা মেরে বের হন। চিন্তামগ্ন ছিলেন বলে ঐ ময়লা হাফপ্যান্টটা পরেই বেরিয়ে পড়েন। হাঁটতে হাটতে এসে হাজির হন মোড়ের রাস্তার রঙের দোকানে। দোকানের নাম আগে ছিলো উজ্জ্বল রং বিতান, এখন সেটার নাম পালটে রাখা হয়েছে [গাঢ়] রং দে বাসন্তী [/গাঢ়]।

দোকানী লাল মিয়াকে শুধান চৌরাসিয়া, " সবুজ , তোমার দোকানে গত তিন দিনের মধ্যে কি কার্বন মাঝি সাহেব কোন কেনাকাটা করেছেন?" সবুজ লাল মিয়ার ডাকনাম।

লাল মিয়া তাম্বুলরঞ্জিত দংষ্ট্রারাজি বার করে হাসে। বলে, "আরে উনি তো গত তিন দিন ধইরাই খালি রং, থিনার আর ব্রাশ কিনতে আছেন!

চৌরাসিয়া গম্ভীর হাসেন। "বটে? কী কী রং কিনেছেন?"

লাল মিয়া খানিকক্ষণ খাতা ঘেঁটে বলে, "সবুজ, হলুদ, নীল, লাল আর কালা।"

চৌরাসিয়ার খটকা লাগে, তিনি বলেন, "কালো? কালো রঙও কিনেছে নাকি?"

লাল মিয়া মাথা ঝাঁকায়। "হ।"

চৌরাসিয়া মুষড়ে পড়েন। লাল মিয়ার দোকানে দাঁড়িয়েই কয়েক চুমুক ভোগান্তি পান করেন। তারপর শ্লথ পায়ে বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করেন। কেন যেন তাঁর মন বলছে, বাড়ি ফিরে দেখবেন তাঁর ঘরের সুন্দর বাদামী বার্ণিশ করা দরজাটাকে কে বা কাহারা একেবারে কালো রং দিয়ে পোঁচ মেরে একাকার করে রেখেছে ...!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ১:১৪
১৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হিন্দু মুসলমান ভুলে গিয়ে, আমরা সবাই মানুষ হই

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭



আমি জন্মগত ভাবে মুসলমান।
অবশ্য ধর্মীয় নিয়ম কানুন কিছুই মানতে পারি না। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। এখন তো আর এটা ফকির লালনের যুগ না। মানবিক এবং সচেতন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙ্গের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পিরিট শোন বাই আমেরিকান এয়ারলাইন্স-এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত!

লিখেছেন ঢাকার লোক, ০৪ ঠা মে, ২০২৬ ভোর ৪:১৫

গতকালের একটা বড় খবর ছিল আমেরিকার একটি অন্যতম জনপ্রিয় বিমান সংস্থা স্পিরিট এয়ারলাইন্স দেউলিয়া হয়ে তাদের সব সেবা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই স্পিরিট অর্থনৈতিক সংকটে হাবুডুবু খাচ্ছিলো,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×