হাঁ। ইহাই চলিতেছে এই ভূভাগে, জংলাদেশে। মারোতন্ত্র। মারোক্রেসি।
মারোতন্ত্র কথাটির ফজিলত ব্যাপক। কী মারো কেন মারো? প্রথমেই দেখিতে হবে স্বৈরাচার শেরশাদ নামিয়া গরম গদি রাখিয়া যাইবার পর হইতে দেশে কী উদ্দেশ্য লইয়া আপাগণ কাম করিয়া চলিতেছেন। মারো! রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, ব্যবসায়ে প্রতিদ্্বন্দ্বী ইহাদের মারিয়া কুটিয়া শ্যাষ করিয়া দাও। আঁটিসুদ্ধু গাপ করিয়া দাও শালাদের। এইসব সমশ্রেণীশত্রু বিনাশ হইবার পর মন দাও টাকাপয়সা মারিবার দিকে। বিভিন্ন প্রজেক্ট হইতে টাকাপয়সা লুটিয়া লও, বিদেশী বেনিয়াদের হাতে সকল সুবিধাদি তুলিয়া দিয়া যৎসামান্য কমিশন কামাইয়া সেই টাকা সুইস গোলায় জমা করো। আর এইসব কর্মে গণেরা জটিয়া চিলুবিলু করিলে গঞ্জিকার কলিকায় দম মারো দম। কহো ইহা সব বিরোধীদের কীর্তি। উহারাই বিদেশী রাষ্ট্রের সাথে ষড় করিয়া এইরূপ করাইতেছে। উহারা সব দেশের শত্রু, দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী, দেশের উন্নয়নবিরোধী কূটনা, চুদনা। আবারও ভোট মারো! ভোট মারিয়া আমাদিগকে গদি গরমের সুযোগ করিয়া দাও।
মারোতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার উন্নয়নকল্পে এর স্বীকৃতি আশু প্রয়োজন। তাই অনেকেই বিদেশী পরামর্শক ডাকিয়া বলাইতেছেন, দেশটির নাম পাল্টাইয়া মারোপ্রজাতন্ত্রী জংলাদেশ রাখিলে কেমন হয়।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



