বড় হয়ে এ দেশে মন্ত্রী হবো। এই দেশে মন্ত্রীদের দুঃখ নেই, কষ্ট নেই। ছত্রিশশো সিসির গোদা ভলভো গাড়ি চড়ে চড়ে ঘুরে বেড়াবো। আমার আশেপাশে গিজগিজ করবে সচিব-পাতিসচিব-টুনিসচিবের দল, সাংবাদিকের ক্যামেরা আর মাইক্রোফোনের গাদি লেগে থাকবে আমার কালা মুখের সামনে, আমি ময়লা হলুদ দাঁতের সারি বার করে বলবো, সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে। আমি ডানে বাঁয়ে হাত নিচু করে মুঠি মুঠি পয়সা কামাবো, ওগুলো আন্ডিল বেঁধে ফেলে রাখবো বিদেশের ব্যাঙ্কে, থাইল্যান্ড কানাডা আর মালয়েশিয়ায় তালুক-জলমহাল কিনে ফেলে রাখবো। আপনাদের টাকায় বিদেশে যাবো সরকারী মিশনে, কিন্তু মিশন চুলোয় গচ্চা দিয়ে ঘুরে বেড়াবো সমুদ্র সৈকত, পাঁচতারা হোটেলের সুন্দরী রিসেপশনিস্টের স্তনের ভাঁজের দিকে আড়চোখে তাকি য়ে জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজাবো। আমার ছেলেমেয়েগুলো বখে গেলেও পাঠিয়ে দেবো প্রবাসে ফূর্তি করতে, দেশে আমার বাড়িতে বিদু্যৎ অচলা হয়ে থাকবে, আমি পথে বেরোলে শুয়োরের বাচ্চা জনগণগুলোকে পুলিশ পেঁদিয়ে ঠেলে রাখবে রাস্তা থেকে দূরে, জ্যামশূন্য রাস্তায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়িতে বসে আমি ঘ্যাঁস ঘ্যাঁস করে কুঁচকি চুলকাবো আর বলবো ...
বাঞ্চোৎ জনতা কত বোকা,
ওদের কাছে জবাব দেয়ার আমার কী ঠ্যাকা!
আমি মন্ত্রী, আমার কি কোন দায়বদ্ধতা থাকতে পারে এই ভুখাল্যাংটাদের কাছে?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




