somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক গবেষকের উদ্দেশ্যে

২৩ শে এপ্রিল, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ভাই তিনহাতী, খাটলেন তো ভালোই, তবে হুদা কামে।

ডারউইন তার পুস্তকের অধ্যায়ের পর অধ্যায়ে কী বলেছিলো আপনি পড়ে দ্যাখেন নাই। অত বিদ্যা আপনার মোটা মাথায় নাই, আমরা জানি। প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব কী বলেছে সেটা আপনি না জেনেই কোমরে গামছা বেঁধে নেমে পড়েছেন ডারউইনকে বিভ্রান্তিকর বলে জাহির করার জন্য। প্রাণীর শরীরগত পরিবর্তন হয় যেসব ফ্যাক্টরের কারণে, সেসব ফ্যাক্টরের মান ও পরিমাণ যদি কোন কারণে হেরফের হয়, তাহলে প্রাণীও চেষ্টা করে সেই পরিবর্তনের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে। যারা খাপ খাইয়ে নিতে পারে, তারা টিকে থাকে, যারা পারে না তারা টিকেও থাকতে পারে না। এভাবে সেই প্রাণী ও প্রজাতি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে, যার খাপ খাইয়ে নেবার ক্ষমতা বেশি। আর এই খাপ খাইয়ে নিতে গিয়ে প্রাণীর শরীরগত পরিবর্তন ঘটে। যেহেতু এক এক অঞ্চলে ঐ ফ্যাক্টরগুলোর মান ও পরিমাণগত পরিবর্তন এক এক রকম, তাই খাপ খাইয়ে নেবার ধরনটাও হয় এক এক রকম। তাই এক সময় দেখা যায় একই প্রাণীর বংশধর দু'টি ভিন্ন পরিবেশে দু'টি ভিন্ন প্রজাতি হিসেবে বিকশিত হয়েছে। একে বলে স্পেসিয়েশন, একেই ডারউইন তাঁর পর্যবেক্ষণ থেকে সূত্রিত করেছেন। এ কারণেই ন্যাচারাল সিলেকশন লোকালাইজড, এ কারণেই স্পেসিয়েশন হয়। আপনি ফিটেস্ট এর অনুবাদ করেছেন শক্তিমান ও উপযুক্ত, এটা বোঝেন নাই যে প্রাকৃতিক দুযের্াগ একেক প্রাণীর জন্য একেক রকম হতে পারে, দাবানল জলোচ্ছ্বাস ছাড়াও ঐরকম দুযের্াগ শুধু কয়েকটি প্রাণীর জন্যে দেখা দিতে পারে, বোঝেন নাই সেটা আপনার নিজের অজ্ঞতা, ডারউইনের কাঁধে বিভ্রান্তি চাপান কেন? খড়গদন্ত বাঘের নাম তো শুনেছেন বোধহয়, সেই বাঘ কোন প্রাকৃতিক দুযের্াগে লুপ্ত হয় নাই, লুপ্ত হয়েছিলো জলাশয়ের তীরবর্তী এক জাতের লম্বা ঘাসের অপলুপ্তির কারণে। এই বাঘের শারীরিক গড়নের কারণে তার গতি ছিলো শ্লথ, তাই সে লম্বা ঘাসের আড়ালে লুকিয়ে জলাশয়ে পানি খেতে আসা পশুপাখিকে আক্রমণ করে পেট চালাতো, সেই ঘাস যখন পরিবেশের পরিবর্তনের কারণে লুপ্ত হয়েছে, তার আড়ালটিও হারিয়েছে, আর খড়গদন্তবাঘের শিকারের ফন্দিটিও মাঠে মারা গেছে। এই বাঘের মূল প্রজাতি পারেনি নিজেকে পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে, অত সময় তার জোটেনি, তার আগেই সে বিলুপ্ত হয়েছে। এ-ও তার জন্যে দুযের্াগ, তা আপনি বুঝতে পেরেছেন নিশ্চয়ই? ফিটেস্ট তো শুধু আগুন পানি ভূমিকম্প থেকে পালিয়ে বাঁচার ফিটনেসের জন্যে নয়, তাহলে দৌড়বাজ আর কুস্তিগীরেরাই টিকে থাকতো দুনিয়াতে, এই ফিটনেস হচ্ছে ফিটনেস অফ অ্যাডাপটেশন, আপনি যতো খাপ খাওয়াতে পারবেন নিজেকে, আপনি ততো ফিট। আপনার পিপি গ্রাশে ডারউইনকে মিসইন্টারপ্রেট করেছেন, কিংবা আপনি ইংরেজি বোঝেন নাই।

দেবদারুর পোকামাকড় আকর্ষণের জন্য রস বার করার কথা যা বলছেন পড়ে মনে হচ্ছে আবারও সেই ইংরেজির গলদ। আপনি শুধু এটুকু বলুন, দেবদারু কি নিজের পরবর্তী প্রজন্ম, অর্থাৎ বীজ ছড়িয়ে না দিয়েই এই খুদখুশি করে? পোকামাকড়ের মাধ্যমে যে পরাগায়ন ঘটে তা তো জানেন নিশ্চয়ই? বলছেন বিবর্তনের ধারায় সর্পকূল তার অঙ্গ খুইয়েছে, তা অঙ্গ খুইয়েও টিকে থাকতে কি তাদের কোন অসুবিধে হচ্ছে বলে মনে করেন আপনি? আবারও সেই একই জিনিস, টিকে থাকার জন্যে সাপের এই অঙ্গহানিই হয়তো ফিটনেসের চূড়ান্ত লক্ষণ। আপনি সাপকে নিজের সাথে তুলনা করছেন হয়তো। করবেন না। আপনি একজন ম্যামাল, সাপ রেপটাইল। দুজনের কারবারে তফাৎ আছে, তাই না? নাকি নাই?
তেলাপোকা আদিম অবয়বে থেকেই যদি টিকে থাকতে পারে, তাহলে সে বিবর্তিত হবে কেন? এ কথা খাটে আপনার ক্যোলাকান্থের ক্ষেত্রেও। খাটে শৈবাল আর স্পঞ্জ-এর ক্ষেত্রেও। তাদের প্রতিবেশের এমন কোন দারুণ বিপর্যয় ঘটেনি যা তাদেরকে আকৃতি পালটে খাপ খাইয়ে নিতে বাধ্য করবে।

একই প্রাণী প্রজাতির কম বেশি অভিন্ন থাকা .... বুঝলাম না। কী বলতে চাইলেন? নাকি ইংরেজি জ্ঞানের গলদ আবারও? চোথা কোত্থেকে মেরেছেন ভাই, ইউআরএলটাও দেবেন এর পর।

আপনার রামছাগলামি বোঝা যায় অ্যাবসেন্ট মাইন্ডে এসে। মানুষের কৃত্রিম নির্বাচন আর প্রাকৃতিক নির্বাচন আপনি গুলিয়েছেন, ডারউইন গোলাননি। আপনি কি ক্রসব্রীডিঙের কথা বলতে চাইছিলেন? সেটার ফল তো কয়েক প্রজন্ম পরই হাতে নাতে পাওয়া যায়। প্রাকৃতিক নির্বাচনের কারণে স্পেসিয়েশন ঘটে কয়েক হাজার বা কয়েক লক্ষ প্রজন্ম পর, সেটা কি আপনি জানেন?আর স্পেসিয়েশন বলতে আপনি শুধু বোঝেন নতুন অঙ্গ গজানো, নতুন ইন্দ্রিয় সংযোগ? ভাই কিছু লেখাপড়া করে লিখবেন দয়া করে, নাহলে মূর্খ ভাববে মানুষ।

প্রজাতির সংজ্ঞা আপনি নিজে জানেন কি না তা জানতে আগ্রহী আমি।

আর শেষে গিয়ে কী বললেন কিছুই বুঝলাম না। বললেন যে প্যালিয়ন্টোলজি আর জেনেটিকসের সুবাদে আমরা বিবর্তন সম্পর্কে আরো ভালো করে জানতে পারি, অথচ তা-ও ডারউইনের দেড়শো বছরের পুরনো "বিভ্রান্তিকর তত্ত্ব" আঁকড়ে ধরে পড়ে আছি। কথাটার মানে কী দাঁড়ালো? ডারউইনের কোন বিভ্রান্তিকর তত্ত্ব? বিবর্তনের প্রকিয়া আর উদাহরণ ছাড়া আর কোন তত্ত্ব বাতলে গেছেন ডারউইন? ডারউইন নিজেও তাঁর ধমর্ান্ধ সমাজের কথা জানতেন, মানুষের বিবর্তন নিয়ে তিনি টুঁ শব্দ করেননি, তবুও তাঁর জীবদ্দশায় খ্রিষ্টান পাদ্রীরা তুমুল হল্লা করেছিলো, ডারউইন মানুষের ওপর তাঁর তত্ত্বের প্রয়োগ নিয়ে চুপ করে থাকতেন। কিন্তু হোয়াট ইজ গুড ফর গুজ ইজ গুড ফর গ্যান্ডার, ডারউইনের তত্ত্ব দিয়ে পরবর্তীতে মানুষের বিবর্তন নিয়ে কথা বলেছেন টমাস হাক্সলি। নিও-ডারউইনিয়ানরা চুপ করে থাকেননি সমাজের ভয়ে।

সবশেষে অনুরোধ করবো, কোন কিছু সম্পর্কে এমন "গবেষণা" করার আগে অন্তত একটা ধারণা নেবেন ব্যাপারটা সম্পর্কে, চোথা অনুবাদ করে লিখতে গেলে আবর্জনাই বাড়বে। আপনার কায়দাটাও আমি জানি, বলবেন ... হাহাহা আমার লেখা মনোযোগ দিয়ে পড়ে বোঝার চেষ্টা করুন আমি কী বলতে চেয়েছি ... কিন্তু ভাই, দুঃখের সাথে বলি, আপনার লেখা মন দিয়ে পড়েই লিখতে বসেছি। আপনি নিজেও কিছু বোঝেন নাই, কাউকে বোঝাতে পারার মতো করে কিছু লিখেও ফ্যালেন নাই। কিছু পড়ুন, বিদ্যায় কুলালে ডারউইনের মূল বইটাও পড়ুন, ওখানে কিন্তু চমৎকার বর্ণনা আছে বীগলের যাত্রার, বিভিন্ন পর্যবেক্ষণের। ডারউইন একজন ভিক্টোরিয়ান ছিলেন, তাঁরও সীমাবদ্ধতা ছিলো, সেগুলো সম্পর্কেও জানতে পারবেন। ক্লাবে গিয়ে ডানস করেন না, ড্রিঙ্ক করেন না, কাজেই হাতে প্রচুর সময়, কিছু পড়ালেখা করলে মাথা খুলবে, চিন্তা করতে সুবিধা হবে।

আপনার জন্য শুভকামনা রইলো। ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে এপ্রিল, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০২
১৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আমার মন খারাপ, ফুল দিয়ো=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮



অকারণে মন ভালো না আজ
তুমি কোথায়?
এসো এক গুচ্ছ রঙ্গন নিয়ে
বাঁধো আমায় ভালোবাসার সুতায়।

অকারণে ভালো লাগে না কিছু;
তুমি কই গেলে?
রক্ত রঙ ফুল নিয়ে এসো;
উড়ো এসে মন আকাশে - প্রেমের ডানা মেলে।

কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫


সূর্যমুখী
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রাধাপদ্ম, সুরজমুখী (হিন্দি)
সংস্কৃত নাম : আদিত্যভক্তা, সূর্যকান্তি, সূর্যকান্তিপুষ্প
Common Name : Sunflower, Common sunflower
Scientific Name : Helianthus annuus

সূর্যমুখী একটি বর্ষজীবী ফুলগাছ। সূর্যমুখীকে শুধু ফুলগাছ বলাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×