মাসুদ রানার এক কাহিনী অন্ধকারে চিতা। জিম্বাবুয়ের ম্যাটাবেল আর ম্যাশোনাদের গন্ডগোলের ফাঁদে মাসুদ রানা আর তার সুন্দরী সহগুপ্তচরী সোহানা, আর ওদিকে ম্যাটাবেলদের আদি রাজার লুকিয়ে রাখা হীরে উদ্ধারের জন্য সবার কামড়াকামড়ি, বেশ উপভোগ্য বই।
বইটার কথা মনে পড়ে গেলো আমাদের কালো চিতার ফেরিওয়ালা শীর্ষক তিনটি পোস্ট পড়ে। কালো চিতা, বৈজ্ঞানিক নাম Panthera pardus, বেশ হিংস্র একটা প্রাণী, তবে এই চিতার সুখ্যাতি শৌর্যবীর্যের জন্যে নয়, বরং কুখ্যাতি আছে নৃশংসতার জন্যে। কালো চিতার ভক্তও দুয়েকজন থাকতে পারেন, আশ্চর্যের কিছু নেই।
তবে যা বলছিলাম, এই কালো চিতা আবার Felidae পরিবারের মধ্যে পড়ে। অর্থাৎ বিড়ালের সাথে আত্মীয়তা ব্যাপক। আর জানেন তো, বিড়াল হাগু করে সবসময় গু ঢেকে ফেলে? মাটিতে হাগলে তার ওপর মাটি চাপা দেয়, বিছানায় হাগলে তার ওপর চাদর টেনে দেয় ... বড় দুষ্ট প্রাণী। তো আমাদের কালো চিতাও দেখি এই "পারিবারিক" অভ্যেসটি বেশ ভালো রপ্ত করেছেন। ফেরিওয়ালা পোস্টে তিনি শুরুতেই এক চোট বিষোদগার করেছেন জাহানারা ইমামের বিরুদ্ধে, তাঁর অপরাধ তিনি ঘাতক দালাল নিমর্ূল কমিটির আহবান জানিয়েছিলেন। ঘাতক আর দালাল আর তাদের খোকাখুকুরা ছাড়া জাহানারা ইমামের প্রতি বিদ্্বিষ্ট, এমনটাও শুনিনি। কালো চিতার হয়তো সে কারণেই আক্রোশ আছে। তিনি এরপর এক মহান দায়িত্ব নিয়েছেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল নামক জনৈক কম্পিউটার বিজ্ঞানের অধ্যাপকের দূষিত অতীত খনন ও উন্মোচনের। জাফর ইকবাল মুক্তিযুদ্ধ করেননি (তবে বিরুদ্ধাচরণও করেননি), তাঁর নানা রাজাকার ছিলেন (কিন্তু বাবা স্বাধীনতার সমর্থনের কারণে রাজাকারদের ষড়যন্ত্রে হানাদার পাকিস্তানী সেনাদের হাতে নিহত হয়েছিলেন), এবং এই দেশপ্রেমহীন জাফর ইকবাল একটি মেধাবৃত্তির লোভে জননী জন্মভূমিকে লাথি মেরে চলে গিয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে 18 বছর সুখে শান্তিতে থেকে তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে দেশে ফিরে তিনি লোকজনের ছিদ্র খুঁজে বেড়াবেন। এবং সেই মর্মে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশে প্রোপাগান্ডার পর প্রোপাগান্ডা ছড়ানোয় ব্রতী হন।
তবে গু লুকানোর প্রচেষ্টা দেখি তাঁর পরবর্তী দুটি খন্ডে। এখানে আবার তিনি সেই একই নরাধম জাফর ইকবাল সাহেবের অনেক প্রশংসা করেছেন, কারণ তিনি খারাপ দিকের পাশাপাশি ভালোটাও বলে থাকেন। তবে তিনি এ-ও বলেছেন, জাফর ইকবাল কারো প্রশংসা করেন না, যেমন সুমন কুমার নাথের প্রশংসা করেন কায়কোবাদ। জাফর ইকবাল বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্যে ছাত্রদের মেইলগ্রুপে মেইল করেও সহায়তা করেন না, যেমন করেছেন শাফাকাত রাব্বী। সবশেষে কালো চিতা সবাইকে আহবান জানিয়েছেন, অতীতের বৃত্তে ঘুরপাক না খেয়ে গোল্লাছুট দিয়ে সামনে এগোতে। এছাড়াও দেখা যায় যে কালো চিতা ছাত্রশিবিরের ওয়েবসাইটের একজন মনোযোগী পর্যটক, কিছু তথ্যগত ভুলচুক পর্যন্ত ধরিয়ে দিতে পারেন। এ ছাড়া অতীতের "ভারসাম্য" রক্ষায় তিনি যত্রতত্র ভরবিন্যাস ও ফালক্রামস্থাপনের মহতী উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের ওপর তাঁর কিঞ্চিৎ আক্রোশ, তাদের দেশভাবনায় তিনি বিরক্ত, যেন তাঁদের করণীয় কর্মটি হচ্ছে দেশবিমুখ হয়ে থাকা, আর প্রবাসীদের দেশভাবনার অবাঞ্ছিত অধিকারটিও তিনি ছেঁটে দিতে চান।
অবশ্য জাফর ইকবাল বা জাহানারা ইমামের অতীত নিয়ে ঘাঁটতে কসুর করেননি কালো চিতা। ঘেঁটে আপত্তিকর কী পেয়েছেন জানি না। ভাইসব, অতীত ঘাঁটলে আংশিক ঘাঁটবেন। মুহম্মদ জাফর ইকবাল যেসব রাজাকারদের অতীত ঘাঁটেন, তাদের "রাজাকার" বলে চিনিয়ে দ্যান, সেইসব মাজর্ার পরিবারের রাজাকারদের অতীত সামান্য খুঁড়লেই গুয়ের দলা বেরিয়ে পড়ে, কাজেই ওসব অতীত খনন বাদ দিন। সামনের দিকে এগোবেন ভাই। আর এই দুষ্টু মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ইনি নিজের ছেলেমেয়েকে ইংরেজি মাধ্যমে পড়ান কিন্তু বাংলা মাধ্যমের পোলাপানদের নিয়ে দুশ্চিন্তা করেন, মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নের কথা বলেন, ক্ষমতাসীনদের আকামকুকামের কথা বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পঙ্গুকরণ নিয়ে মাথা ঘামান, লোকটি বড়ই ইয়ে।
চালিয়ে যান ভাই। এক পোস্টে দুর্গন্ধময় পূরীষ ত্যাগ, পরের পোস্টে মিষ্টভাষণের পোঁচ লাগিয়ে সেই পূরীষের গন্ধ ঢাকার এই কার্যক্রম বিনোদনমূলক। আর আপনি কালোচিতা, মাজর্ার সংস্কৃতি আপনার রক্তে ভাই, এর হাত থেকে কি আর নিস্তার আছে আপনার?
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



