somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালবাসার সুখ-দুখ! - পর্ব ২

২৬ শে জুলাই, ২০১০ সকাল ৯:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ভালবাসার সুখ-দুখ! - পর্ব ১


পুরাতন ক্ষতটায় অনেকদিন পর একটা ব্যাথা অনুভুত হল আকাশের। প্রায় ভুলেইতো গেছিল, জ্বলতে জ্বলতে অঙ্গার হয়ে যাওয়া ক্ষতটার কথা। সত্যিই কি ভুলে গিয়েছিল সে তার ভালবাসাকে? তার বৃষ্টিকে? নাকি, ভুলে যাওয়ার অভিনয় করে যাচ্ছে! নাকি, স্মৃতির অতলে চাপা পড়ে ছিল মাত্র? নাকি, নীলার ভালবাসা আর সংসার নিয়ে সুখে আছে বলেই অতীতটা নিয়ে চিন্তা করার ফুসরত পায়নি? নাকি, ইচ্ছে করেই ভুলে থাকতে চেয়েছে ফেলে আসা জীবনের কালো অধ্যায়টা? কি জানি, হতে পারে এর যে কোন একটি। মানুষের একজীবনে কত কি যে হয়ে যায়, তা কি আগে থেকে বুঝে নেওয়ার সাধ্যি মানুষের আছে?

ঠিক এই জায়গাটাতেই সৃষ্টিকর্তার সুনিশ্চিৎ বিজয়। বিধাতা মানুষকে ছেড়ে দিয়েছেন পুর্নাঙ্গ স্বাধীনতা দিয়ে কিন্তু নিয়তিটা রেখে দিয়েছেন নিজের কাছে। জীবন!! ঠিক যেন মুক্ত আকাশে উড়া কোন ঘুড়ির মত যার নাটাইটা অন্যের হাতে। সুতোয় ঢিল পেয়ে ঘুড়ি যেমন উপড়ে উঠে যায়, ডানে বায়ে বাক নেয়, টান খেয়ে কখনও নীচে নেমে আসে, আবার কখনও সুতো ছিড়ে অজানায় হারিয়ে যায়। মানুষের জীবনটাও কি সেই ঘুড়ির মতই, চলবে ফিরবে, বাক নিবে কিন্তু তার নাটাইটা অদৃশ্য কারোর কাছে? তারই ইচ্ছা মাফিক চলবে জীবন ঘুড়ি!? তিনি ইচ্ছে করলেই কাউকে সুখ দিবেন, আবার কারোরটা কেড়ে নেবেন। জীবনটা কি এই রকম কিছু?!! কি জানি, হতেও পারে...................

আজ স্মৃতির ঝাপি থেকে একটু একটু করে অতীতের সুখ-দুখ গুলো সুযোগ পেয়েই কিলবিল করে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। হ্যা, এইতো সে দিনের কথা। স্পষ্ট মনে আছে আকাশের। কত কথা, কত স্মৃতি দু'জনার, অদ্ভুত অদ্ভুত সব অনুভুতি। খুবই চটপটে স্বভাবের ছিল বৃষ্টি। একনাগাড়ে কোথাও স্হির থাকতে পারতনা বেশীক্ষন। বসে আছে বা হাটছে ,হঠাৎ কাঠবিড়ালী দেখে দৌড় লাগাল তার পিছু পিছু। ছাগলের বাচ্চা! সেটা দেখলেই হল, ওটাকে তার কোলে নেওয়া চাইই চাই। কোথাও কোন ছোট ছেলেমেয়েদের খেলতে দেখলেই খেলা শুরু করত তাদের সাথে। আর কোথাও কোন ডুবা বা পুকুর পেলেই হল, সেটাতে তার পা ভিজাতে হবে তৎক্ষনাৎ। এছাড়া আরও অদ্ভুৎ সব কাজ কারবার ছিল তার বৈশিষ্টের মধ্যে। আকাশও খুব মজা পেত তাতে। মুগ্ধ হয়ে দেখত, আবার মাঝে মাঝে উৎসাহ দিত বেশ। আবার কখনও যদি আকাশের বন্ধুদের কারোর সাথে অগ্যতা দেখা হত তবে আকাশ সেখানে যে আছে, তা ভুলে যেত মনে হয় বেমালূম। এই উদাসীনতা কখনও বুঝে উঠেতে পারেনি আকাশ, সহ্যও হতনা তার একদম কিন্তু প্রকাশ করেনি।

'আকাশ' 'বৃষ্টিকে' ভালবাসত একবারে মনপ্রান উজার করে। সেই ভালবাসা দুরন্ত কোন যুবকের ঔদ্ধত্যপুর্ণ উচ্ছল ভালবাসা নয়। সেই ভালবাসা হচ্ছে বুকের মধ্যে আকড়ে থাকা এবং সেই সাথে আকড়ে রাখা। আকাশ হতে চেয়েছিল নিজে পূর্ণাঙ্গ একজন সুখী মানুষ এবং তার সেই পূর্ণতাটুকু, সুখটুকু ভাগ করে নিতে চেয়েছিল বৃষ্টির সাথে, নিতে চেয়েছিল তার সম্পুর্ন দায় দায়িত্ব। ভালবাসার প্রধান শর্ত হল ভাল লাগা, সুখানুভুতি জাগা, বিশ্বস্হতা, নির্ভরতা, আশ্রয়, স্বপ্ন পুরনের মত নির্ঝাস খুজে পাওয়া, ভালবাসায় আপ্লুত হওয়া এবং সেই সাথে আপ্লুত করা। সেখানে শরীবৃত্তীয় কোন চিন্তার স্হান থাকবে না। এর সবই আকাশ মনে প্রানে বিশ্বাস করত। তাইতো আকাশ তার ভালবসাকে মনে প্রানে সব সময় পবিত্র রাখতে চেয়েছে, পবিত্র রেখেছে এবং প্রায়ই মিনতি করে বলত, শুন বৃষ্টি আর যাই কর আমার সত্যিকারের পবিত্র ভালবাসাকে অপমানিত, কলন্কিত কর না যেন কখনও। ভালবাসবেনা বলে যে যুবকটি একসময় চিরপ্রতিজ্ঞ ছিল তার চোখেমুখে এখন সেই স্বপ্নের দ্যুতি। যাকে একমুহুর্ত না দেখলে বুকটায় বয়ে যায় কালবৈশাখী ঝড় , বেজে উঠে বেদনার সুর আবার দেখা মাত্রই বুকে 'ওম' তৈরী হয়, জাগে পবিত্র 'সুখানুভুতি'।

আকাশের সাথে বৃষ্টির প্রথম দেখা হয়েছিল অনেকটা অদ্ভুত ভাবেই। তখন আকাশ অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে। সবেমাত্র মিডটার্ম পরীক্ষা শেষ হয়েছে। একদিন দুপুর বেলা সুমন, সজীব সহ তিনজন মিলে ঘুরতে গেছে বোটানিকেল গার্ডেনে। তিনবন্ধু মিলে গল্প করছে পদ্মপুকুরের উত্তর-পুর্ব পাশটায় বসে। কথা নাই বার্তা নাই হঠাৎ করে কলেজ ড্রেস পড়া একটি মেয়ে এসে বলল, ভাইয়া, আপনাদের কারোর কাছে কি দশটি টাকা হবে? বাদাম খাব! কি আশ্চর্য ব্যাপার! এরকম কিছুর জন্যে ওরা যে একবারেই প্রস্তুত ছিল না। প্রশ্ন শুনে অনেকটা ভ্যাবচ্যাকা খেল। এরপর সুমনই প্রশ্ন করল জ্বি, কি খাবেন? মেয়েটারও ঝটপট উত্তর, জ্বী ভাইয়া বাদাম খাব........। হুম, বিজ্ঞের মত সুমনই আবার বলল, সজীব তোর কাছে কি ভাঙ্গতি আছে? থাকলে দিয়ে দে। সজীব মাথা নেড়ে না সুচক উত্তর দিল। তখন মেয়েটা মলিন মুখে ঠিক আছে ভাইয়া বলে যাওয়ার জন্যে ঘুরে দাড়াল, তখনই আকাশ দশ টাকার একটা নোট এগিয়ে দিয়ে বলল, এই যে নিন। মেয়েটা ঘুরে টাকাটা হাতে নিয়ে থ্যান্ক ইউ বলে একটু দুরে দাড়িয়ে থাকা বান্ধবীদের কাছে বিজয়ীর বেশে ফিরে গেল এবং কিছুক্ষন চলল বিজয় উৎসব। তারপর বার কয়েক ওদের দিকে তাকিয়ে ফিরে গেল উল্টো পথে। এই বিষয়টা নিয়ে এরপর তিনজনের মধ্যে শুরু হল চুলচেরা বিশ্লেষন। মেয়েটা কেন এরকম করল? সত্যিই কি মেয়েটা বাদাম খাওয়ার জন্যে টাকাটা নিয়েছে? নাকি বন্ধ্রুদের সাথে বাজি ধরে এরকম করেছে? মেয়েটা কোথায় থাকে? কোন কলেজে পড়ে? দেখতে কেমন ইত্যাদি ইত্যাদি....। এরপর থেকে শুরু হল সুমনের পরবর্তী মিশন।

(চলবে....)
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুলাই, ২০১০ সকাল ১১:২২
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×