ভালবাসার সুখ-দুখ! - পর্ব ২
জীবনে চলার পথে হাসি কান্নার সঙ্গী হয় অনেকেই। যেখানে প্রতিমুহুর্তে পরিবর্তিত হয় হিসেবের অংক। যোজন বিয়োজন ঘটে আপেক্ষিকভাবে। আজকে যে পরম বন্ধু বলে পরিচিত, কাল হয়ত হয়ে যাচ্ছে অন্য কেউ। কিন্তু জীবনসঙ্গী? সে যে চির সম্পর্ক! তা কি আর আপেক্ষিকতার নিরিখে পরিমাপ করলে চলে? জীবনসঙ্গী! সে যে হল একে অপরের আজন্মের সারথী, যতক্ষন দেহে প্রান সঞ্চালিত হবে ততক্ষনই জড়িয়ে থাকবে আষ্টেপৃষ্টে। এখানে ঝড় উঠবে, অমবস্যা হবে, উঠবে ঝকঝকে সোনালী রোদ্দুর, জোছনা বিলাবে রূপালী চাঁদ। এর মধ্যেই একসাথে উপভোগ করে নিতে হবে জীবনের আনন্দ। জীবনসঙ্গী হল, ঠিক নিজের পরিধেয় বস্ত্রটির মতই, সারাক্ষন আগলে রাখতে হয় প্রতিটি অশুচি থেকে, অনুভবে থাকবে প্রতিক্ষন, চলার পথের সকল বিপত্তি থেকে বাচিয়ে রাখতে হবে সযত্নে। জীবন! আর জীবনসঙ্গী!, এ দুটোর যথার্থ অর্থই আকাশের কাছে খুব পরিস্কার। তাইতো, যে কালবৈশাখীতে তছনছ হয়ে গিয়েছিল তার হৃদয়, সেখান থেকে ফিরে এসছে বহু কষ্টে, একেবারে বিলীন হতে দেয়নি। সেই অনাহুত ঘটনাটাকে চলার পথের কান্না, জীবনের পাথেয় হিসাবেই মেনে নিয়েছে। ঘাত-প্রতিঘাত, হাসি-কান্না, ইচ্ছা-অনিচ্ছা এর সব গুলো যে জীবনেরই অংশ। তাইতো নিয়তিতে বাধা পরে জীবনে যার আবির্ভাব হয়েছে, তাকেই মেনে নিয়েছে জীবন সারথী হিসাবে।
আকাশের বড় দুলাভাই নীলাকে দেখে খুবই পছন্দ করেছেন, সাথে তার বড় বোন এবং ছোট ভাইও ছিল। তাদেরও একই মত। তারপর বলা হল আকাশকে দেখতে। সেই বিষয়টা সে এড়িয়ে গেছে সুকৌশলে। একসময় না চেয়ে সে যা পেয়েছিল, সেটাই যখন মনে প্রানে চাইতে শুরু করল তখনই হারিয়ে গেল জীবন থেকে। নীলাকে দেখতে যেয়ে যদি পাছে আবার সে চেয়ে বসে! এই ভয় থেকেই আকাশ নিয়তির ভার সানন্দে সপেঁ দিল তার মায়ের হাতে। মায়ের পছন্দ হলে তার কোন আপত্তি থাকবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে সবাইকে। সেই মোতাবেক নির্ধারিত হল দিন তারিখ। এর মধ্যে নীলার এক ভাই আকাশের সাথে দেখা করল তার অফিসে। সব কিছুই আগাচ্ছে ঠিকঠাক মত। আকাশ একবারে নিস্প্রিহ না থাকলেও ভিতরে ভিতরে তার হৃদয়ে ঝড় বইছে ক্ষণে ক্ষণে তা কেউই আচঁ করতে পারছেনা বাহির থেকে। আকাশ চাচ্ছে, মনে প্রানেই চাচ্ছে তার বুকে জমে থাকা সমস্ত দু:খ বেদনার ক্ষতচিহ্ন গুলো যেন ধুয়ে মুছে চিরতরে বিলীন হয়ে যায়। সেখানে শুধু থাকবে ঝকঝকে সোনালী রোদ্দুর আর পুর্নিমার আলো। জীবনের অনাহুত! কালো অধ্যায়কে সে নীলার কাছে প্রকাশ হতে দিবে না কিছুতেই।
২০.০৬.২০০৮, শুক্রবার
আজ সাড়ে ন'টায় ঘুম ভাঙ্গল আকাশের। তারপর ধীর স্হির ভাবেই তৈরী হয়ে নিল কোথাও যাবে বলে কিন্তু কোথায় যাবে? তা যে সে নিজেও জানেনা। ঘুম থেকে উঠার পর কেমন অস্হির লাগছে তার। কারো সাথে কোন কথা বলছে না। নিজের রুমেই তৈরী হয়ে নিচ্ছে আপন মনে। ঘর থেকে বের হবার আগ মুহুর্তে রুমে এসে ঢুকলেন আকাশের বড় আপা। গিয়ে বসলেন পরিপাটি করা আকাশের খাটটিতে। তার পুরো রুমটি খুবই রুচিসম্পন্ন, সাজানো গোছানো। এলোমেলো কোন কিছুই যে সে দেখতে পারে না একদম। তাই নিজেরটা নিজেই গুছিয়ে রাখে সবসময়। পান্জাবীর বোতাম লাগাতে লাগাতে আকাশই প্রথম নীরবতা ভেঙ্গে জিঙ্গেস করল - কি আপা, কিছু বলবে?
আপার তাৎক্ষনিক উত্তর, তুই যাচ্ছিস কোথায়?
সেও ঝটপট উত্তর দিল.......না, এই একটু বাহিরে!
আজ যে নীলাদের বাসায় যাওয়ার কথা, সেটা কি মনে আছে?
হুমম, বলেই শেষ করল আকাশ
তোকেও যে যেতে হতে পারে, সেটা কি জানিস?
না, কেন?
আব্বার ইচ্ছা, কোন সমস্যা না হলে এ্যানগেজমেন্টটা! সেরে ফেলবেন.......
কথা শেষ হওয়ার আগেই এ্যানগেজমেন্ট!!, শব্দটা খট করে লাগল আকাশের বুকে!
চিন্তা করতে লাগল আকাশ। কি অদ্ভুত মানবজীবন! তখনই আবার মনে পড়ল বৃষ্টির কথা। মনে পড়ল তাদের দুজনের পরিকল্পনার কথা। আজকের কোন ঘটনাই যে সে পরিকল্পনার মধ্যে নাই। আজ যা হচ্ছে সবই নিয়তির ফয়সালা........
আকাশের মাথায় শুধু ঘোরপাক খাচ্ছে, আজই কি একটি অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটবে? জন্ম দিবে নতুন অধ্যায়ের!?
তাহলে কেন মানুষ স্বপ্ন দেখে? শুধু নিজের ভিতরেই প্রতিধ্বণিত হতে লাগল শব্দকয়টির!!!!!
(চলবে....)
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুলাই, ২০১০ সকাল ১১:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


